Sri Sri Ram Thakur is a revered spiritual master whose teachings continue to inspire countless devotees across India and around the world. The website serves as a comprehensive digital platform dedicated to preserving, promoting, and sharing the divine life, teachings, philosophy, and spiritual legacy of Sri Sri Ram Thakur, lovingly known as Dayal Thakur, Sri Sri Kaibalyanath, and Sri Sri Satyanarayan by his followers. Born as Ram Chandra Dev in Dingamanik, Faridpur (present-day Bangladesh)

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী: “আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই”


বেদবাণী প্রথম খণ্ড — (৬৭) নং পত্রাংশ

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী: “আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই”


আপনার সুখ-দুঃখের আসল কারণ কি বাইরের পৃথিবী—নাকি আপনার নিজের মন?”


“জীবনে আমরা অনেক কিছু করতে চাই…
কিন্তু কতবার বলি— ‘আজ নয়, কাল থেকে শুরু করব!’
আর সেই ‘কাল’ কখন যে আমাদের জীবনের মূল্যবান সময়কে নিয়ে চলে যায়, আমরা বুঝতেই পারি না।

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের একটি ছোট্ট অথচ গভীর বাণী—

“আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই।”

এই কয়েকটি শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে জীবনের একটি বড় শিক্ষা।
আলস্য শুধু কাজ পিছিয়ে দেয় না—
আলস্য আমাদের কর্তব্য, সুযোগ এবং আত্মোন্নতির পথ থেকেও দূরে সরিয়ে দেয়।

আজকের এই পর্বে আমরা জানব—
রামঠাকুরের এই বাণীর প্রকৃত অর্থ কী, কেন আলস্যকে ত্যাগ করা জরুরি, এবং ভগবদ্গীতা এই বিষয়ে আমাদের কী শিক্ষা দেয়।


ভগবদ্গীতার ১০টি জীবন-পরিবর্তনকারী শিক্ষা | জীবনের কঠিন সময়ে গীতার বাণী

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী—

“আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই।”

অর্থাৎ, অলসতা করে কোনো কাজকে অবহেলা করা উচিত নয়।

আমাদের জীবনে অনেক কাজ থাকে—
কিছু কর্তব্যের, কিছু পরিবারের জন্য, কিছু সমাজের জন্য এবং কিছু নিজের আত্মিক উন্নতির জন্য।

কিন্তু সমস্যা কোথায়?

আমরা অনেক সময় কাজটি কঠিন মনে হলে বলি—

“পরে করব।”
“আর একটু সময় যাক।”
“আগামীকাল থেকে শুরু করব।”

এই ‘পরে’ এবং ‘আগামীকাল’ করতে করতে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়।

🌿 রামঠাকুরের বাণীর শিক্ষা কী?

এখানে শুধু বাইরের কাজের কথা বলা হচ্ছে না।

আত্মিক জীবনেও আলস্য বিপজ্জনক।

নামস্মরণ করব— পরে।
ভালো কাজ করব— পরে।
নিজেকে সংশোধন করব— পরে।
ভুল মানুষের কাছে ক্ষমা চাইব— পরে।
কাউকে সাহায্য করব— পরে।

কিন্তু জীবন তো অপেক্ষা করে থাকে না।

তাই বাণীটি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—

যে ভালো কাজ আজ করা সম্ভব, তাকে অকারণে আগামীকালের জন্য ফেলে রেখো না।


🕉️ গীতার সঙ্গে এই শিক্ষার সম্পর্ক

এই ভাবনার সঙ্গে ভগবদ্গীতার কর্মযোগের শিক্ষা অত্যন্ত সুন্দরভাবে মিলে যায়।

গীতায় শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্ম থেকে পালিয়ে যেতে বলেননি।
বরং তিনি কর্তব্যকর্ম সম্পাদনের দিকে তাকে উৎসাহিত করেছেন।

ভগবদ্গীতা ৩য় অধ্যায়ের ৮ম শ্লোকে বলা হয়েছে—

“নিয়তং কুরু কর্ম ত্বং কর্ম জ্যায়ো হ্যকর্মণঃ…”

অর্থাৎ,
নিজের কর্তব্যকর্ম সম্পাদন করো; কর্মহীনতার চেয়ে কর্ম শ্রেয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—

কর্ম মানেই শুধু ব্যস্ত থাকা নয়।

সৎ উদ্দেশ্যে, নিজের কর্তব্য বুঝে, ফলের অতিরিক্ত আসক্তি ছাড়াই কাজ করে যাওয়াই গীতার কর্মযোগের মূল শিক্ষা।

আর সেই জায়গাতেই রামঠাকুরের বাণী আমাদের সতর্ক করে—

“আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই।”

অর্থাৎ কর্তব্যকে অবহেলা করো না।


🌸 তাহলে কি সবসময় শুধু কাজ করেই যেতে হবে?

না।

বিশ্রাম আর আলস্য এক জিনিস নয়।

বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন শক্তি দেয়।
কিন্তু আলস্য আমাদের কর্তব্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

তাই যখন বিশ্রাম প্রয়োজন—বিশ্রাম নেব।
কিন্তু যখন কাজ করার সময়—তখন অকারণে কাজ ফেলে রাখব না।

একজন ছাত্রের জন্য পড়াশোনা তার কর্তব্য।
একজন কর্মীর জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা কর্তব্য।
পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনও কর্তব্য।
আর একজন ভক্তের জন্য নামস্মরণ, সৎ জীবন ও মানবসেবার চেষ্টাও সাধনার অংশ হতে পারে।

কাজ ছোট না বড়—সেটা নয়;
কাজটি কর্তব্য কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।


🪔 ছোট্ট উদাহরণ

ধরুন, একজন ছাত্র প্রতিদিন ভাবে—

“আজ একটু বিশ্রাম নিই, কাল থেকে ভালোভাবে পড়ব।”

একদিন যায়।
তারপর আরেকদিন।

পরীক্ষা যখন সামনে চলে আসে, তখন সে বুঝতে পারে—

সময় চলে গেছে, কিন্তু প্রস্তুতি হয়নি।

ঠিক একইভাবে জীবনের ক্ষেত্রেও—

সুযোগ যখন সামনে আসে, তখন তাকে চিনতে হয় এবং যথাসাধ্য কাজে লাগাতে হয়।


🕉️ গীতার আরেকটি গভীর শিক্ষা

গীতার ২য় অধ্যায়ের ৪৭তম শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেন—

“কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।”

অর্থাৎ, মানুষের অধিকার কর্মে—ফলের উপর নয়।

এর অর্থ এই নয় যে ফলের কোনো মূল্য নেই।

বরং শিক্ষা হলো—

ফলের চিন্তায় ভেঙে না পড়ে, নিজের সাধ্যমতো সঠিক কাজটি করে যাও।

অনেক সময় আমরা কাজ শুরুই করি না কারণ মনে হয়—

“যদি সফল না হই?”

এই ভয়ও এক ধরনের বাধা।

রামঠাকুরের বাণী যেন বলে—

অকারণে হেলা করো না।
সৎ কাজটি শুরু করো।
নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাও।


🌺 জীবনে প্রয়োগ

আজ থেকে আমরা তিনটি বিষয় মনে রাখতে পারি—

১. ভালো কাজ অকারণে পিছিয়ে দেব না।

২. কর্তব্যকে বোঝা মনে না করে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।

৩. ফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে সৎভাবে চেষ্টা করে যাব।

মনে রাখবেন—

আলস্য সময় নষ্ট করে,
হেলা সুযোগ নষ্ট করে,
আর কর্তব্যনিষ্ঠা জীবনকে অর্থপূর্ণ করে।


শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই ছোট্ট বাণী তাই আমাদের জীবনের জন্য এক বড় জাগরণের ডাক—

“আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই।”

আজ যে ভালো কাজটি করা সম্ভব,
অকারণে সেটিকে আগামীকালের জন্য ফেলে রাখব না।

শ্রীকৃষ্ণের গীতার কর্মযোগ আমাদের শেখায়—
কর্তব্যের পথে এগিয়ে চলতে, কর্ম করতে এবং ফলের অতিরিক্ত চিন্তায় নিজেকে দুর্বল না করতে।

আর রামঠাকুরের বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—

“সময়কে অবহেলা করো না, কর্তব্যকে হেলা করো না, আর সৎ কাজকে পিছিয়ে দিও না।”

🙏 শ্রীশ্রী রামঠাকুরের চরণে প্রণাম।
🌸 জয় গুরু। জয় রাম।

ভিডিওটি ভালো লাগলে Like, Share এবং Subscribe করুন।
এমন আরও বেদবাণী, শ্রীশ্রী রামঠাকুরের জীবন ও অমৃত উপদেশ নিয়ে ভিডিও পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

JOYRAM PRODUCTIONS HOUSE
WWW.SRISRIRAMTHAAKUR.COM



শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী: “আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই” শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী: “আলস্য করিয়া হেলা করিতে নাই” Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.