আশ্রিতের ডাকে ঠাকুরের আবির্ভাব
কিভাবে গুরু আশ্রিতের ডাকে আবির্ভূত হয়ে তাকে উদ্ধারে নেমে আসেন—আগরতলার একান্ত শিষ্য শিতিকণ্ঠ সেনগুপ্ত মহাশয়ের বর্ণিত ও যোগেশ্বর কর্মকারের স্মৃতির ভাষ্য এখানে তুলে ধরা হল।
পটভূমি
ঘটনাটি ঘটেছিল কুঞ্জবন হিন্দি কলেজ হোস্টেলেই — সেখানে শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের পূজো অনুষ্ঠিত হয়। পূজার আয়োজন ছিল ও হার্দিক আবেগে; পূজক ছিলেন তারিনী ভট্টাচার্য। নাম, গান, ভোগ নিবেদন, আরাধনা ও প্রসাদ বিতরণ শেষ হতে রাত ১২টা বেজে যায়।
জ্যেষ্ঠ স্মৃতি — যোগেশ্বর কর্মকারের বয়ান
রাত গভীর। প্রাসাদের পর সবাই ছড়িয়ে পড়েছে। যোগেশ্বর কর্মকার বাড়ি ফেরার পথে একা পড়ে যান — সঙ্গীরা অন্য রাস্তা নিয়ে চলে গেছে। ভয় ছিল, তাই তিনি শ্রীশ্রী ঠাকুরের নাম জপ করে হাঁটছিলেন।
হঠাৎ তিনি দেখেন সামনে একটু দূরে এক বৃদ্ধ হেঁটে যাচ্ছেন — পায়ে লাল কেটস, হাতে লাঠি এবং গায়ে কম্বল। বৃদ্ধ মাঝে মাঝে পিছনে ফিরে তাকাচ্ছেন। যোগেশ্বর বাবু হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে বৃদ্ধকে পেরিয়ে যাচ্ছিলেন; তখন বৃদ্ধ জিজ্ঞেস করলেন — “আপনি দৌড়ান ক্যান?”
যোগেশ্বর বাবু বললেন — “আমি একা পড়েছি, আমার সঙ্গের সকল লোক চলে গেছেন। আমি শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ পুজো থেকে ফিরছি।”
বৃদ্ধ বললেন — “কী! সত্যনারায়ণ? আমি তো ঠাকুরকে দেখেছি। ঠাকুর ত বলেছেন— ‘আমি ত আপনাগো সঙ্গে সঙ্গেই থাকি’। আপনি একলা কিভাবে?”
যারা সঙ্গে ছিলেন না—তাদের কথা বলে বৃদ্ধ সাথে চলতে থাকলেন যোগেশ্বর বাবু। চৌমুহনীতে পৌঁছলে পাশে তাকালে তিনি দেখেন ওই বৃদ্ধ আর নেই—কোথাও খোঁজ পেলেন না।
প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা
শিতিকণ্ঠ সেনগুপ্ত মহাশয়—যিনি ঐ পূজায় উপস্থিত ছিলেন—এ ঘটনাটি যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন প্রচার করেছেন। এটি একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ যে, ভক্তের ভয়-বিপদে গুরু আশ্রিতকে ছেড়ে যান না; তিনি সময় মতো সাহায্য করেন এবং পথ প্রদর্শন করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন।
ভয়-বিপদে, অনিশ্চয়তায় বা অস্থির চিত্তে নাম জপ ও ভক্তি রাখাটা কেবল ভরসা নয়—এটি অভিজ্ঞতায়ও আশ্রয় দেয়।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
December 02, 2025
Rating:






.jpg)
No comments: