গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

বাণীর আলোকে পথ চলা (শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণীর ব্যাখ্যা)

 প্রাণ অর্থাৎ যাহা শ্বাস-প্রশ্বাস চলিয়া থাকে, ইহাই ভগবান"
প্রাণ অর্থাৎ যাহা শ্বাস-প্রশ্বাস চলিয়া থাকে, ইহাই ভগবান। ইহাকেই স্থির করিয়া যতটুকু সময় রাখা যায় ততটুকু সময়ে ভগবানের নাম করা হয় এবং ইহার স্থির অবস্থায় নিবার জন্য মনের যে বেগ তাহারই নাম মন্ত্র। যখন এই প্রাণেতে স্থির বুদ্ধি অর্থাৎ প্রাণ স্থির বোধ হইবে তাহাকে স্থির আত্মা বলিয়া জানিবেন। অতএব যত সময় পারেন ঐ প্রানের স্থির করিবার জন্য চেষ্টা করিবেন, এই অনুষ্ঠানের নামই নাম করা, অর্থাৎ এই স্থিরের অধীন থাকার নামকে নাম বলে। .....সকল অবস্থাতেই এই ভূত প্রকৃতি মুক্তির জন্য এই প্রানের স্থির করার আশ্রয় নিয়া [থাকিবেন] এই প্রানের স্থির বৈ আর কিছুই নাই এই জ্ঞানকে নাম সংকির্ত্তন বলিয়া জানিবেন।
*---------------বেদবানী, ২য় খন্ড, ১৩২ নং পত্র

 বাণীর আলোকে পথ চলা

(শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণীর ব্যাখ্যা)

ব্যাখ্যা ও অনুধ্যান : Subrata Majumder (চরণাশ্রিত)

উদ্ধৃত বাণীটি শ্রীশ্রী রামঠাকুরের গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধির সার। এখানে তিনি ভগবান, নাম, প্রাণ এবং সাধনার এক অভিন্ন সত্য উন্মোচন করেছেন।


🔹 ১. “প্রাণই ভগবান” — এই বাণীর অন্তর্নিহিত অর্থ

শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলিতেছেন—
“প্রাণ অর্থাৎ যাহা শ্বাস-প্রশ্বাস চলিয়া থাকে, ইহাই ভগবান।”

এখানে ভগবান কোনো দূরবর্তী সত্তা নন, বরং যেই চেতনা আমাদের দেহে শ্বাস-প্রশ্বাস রূপে সদা সক্রিয়—সেই প্রাণশক্তিই ভগবান। অর্থাৎ ঈশ্বরকে বাহিরে নয়, নিজের ভিতরেই অনুভব করাই প্রকৃত সাধনা।


🔹 ২. নাম করা মানে কী?

সাধারণভাবে আমরা নাম করা বলিতে জপ বা উচ্চারণ বুঝি। কিন্তু ঠাকুর বলিতেছেন—

  • প্রাণকে যতক্ষণ স্থির রাখা যায়,

  • সেই সময়টাই প্রকৃত “নাম করা”।

অতএব নাম কোনো শব্দমাত্র নয়, একটি চেতনার অবস্থা
প্রাণ যখন অস্থির, তখন মনও অস্থির।
প্রাণ যখন স্থির, তখন মন-বুদ্ধি-অহংকার সবই শান্ত হয়।


🔹 ৩. মন্ত্র কোথায়?

ঠাকুর বলেন—
প্রাণের স্থিরতা নষ্ট করিবার জন্য মনের যে বেগ, তাহারই নাম মন্ত্র।

অর্থাৎ, বাইরে আলাদা কোনো মন্ত্র খোঁজার প্রয়োজন নেই।
মন যে সকল চিন্তা, ভয়, কামনা, স্মৃতি ও কল্পনার ঢেউ তোলে—
সেই ঢেউগুলিই আমাদের সাধনার আসল ক্ষেত্র।
এই ঢেউয়ের মাঝেই প্রাণকে স্থির রাখার চেষ্টাই আসল জপ।


🔹 ৪. “স্থির আত্মা” কাকে বলে?

যখন বুদ্ধি প্রাণের সঙ্গে এক হয়ে যায়,
যখন আর আলাদা করে “আমি চিন্তা করছি” এই বোধ থাকে না,
তখন সেই অবস্থাকেই ঠাকুর বলেন—
👉 স্থির আত্মা

এই অবস্থায় দ্বন্দ্ব নাই, ভয় নাই, ভবিষ্যৎ-অতীত নাই—
আছে শুধু বর্তমানের চেতনা


🔹 ৫. নাম-সংকীর্তন কী?

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের ভাষায়—
প্রাণকে স্থির রাখার এই জ্ঞানই নাম-সংকীর্তন।

এটি কেবল কীর্তন বা গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
জীবনের সব অবস্থায়
সুখে-দুঃখে, কর্মে-বিশ্রামে, সংসারে-সংকটে—
প্রাণের স্থিরতায় আশ্রয় নেওয়াই প্রকৃত নাম-সংকীর্তন।


🌸 সারকথা (বাণীর আলোকে পথ)

  • ভগবান বাইরে নন, প্রাণের মধ্যেই আছেন।

  • নাম মানে উচ্চারণ নয়, স্থিতি

  • সাধনা মানে কিছু পাওয়া নয়, স্থির হওয়া

  • মুক্তি মানে পালানো নয়, প্রাণে স্থিত থাকা

এই বাণী আমাদের শেখায়—
👉 যত সহজ, তত গভীর।
👉 যত নীরব, তত সত্য।


📖 উৎস : বেদবাণী, ২য় খণ্ড, পত্র ১৩২

🌼 জয় রাম, জয় গোবিন্দ
Subrata Majumder
(চরণাশ্রিত, বাণীর আলোকে পথ চলা)

বাণীর আলোকে পথ চলা (শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণীর ব্যাখ্যা)  বাণীর আলোকে পথ চলা (শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণীর ব্যাখ্যা) Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on December 25, 2025 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.