গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

বিদেহী প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তী ও শ্রীশ্রী রামঠাকুরের নিত্যসঙ্

 

বিদেহী প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তী ও শ্রীশ্রী রামঠাকুরের নিত্যসঙ্গ – মহাজীবনের কাহিনী

বিদেহী প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তী ও শ্রীশ্রী রামঠাকুরের নিত্যসঙ্গ

বিদেহী প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তী পার্থিব বাধাবন্ধ অতিক্রম করে :contentReference[oaicite:0]{index=0} -এর নিত্যসঙ্গী ছিলেন—এই গভীর সত্যটি শ্রীঠাকুর নিজেই তাঁর শ্রীমুখে প্রকাশ করেছিলেন ভক্তমতী যশোদা দেবীর নিকট।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ঠাকুরমশাই পাটনায় অবস্থানকালে ডাক্তার যতীন্দ্র মোহন দাশগুপ্তের সহধর্মিণীর সহোদরা যশোদা দেবীর বাসভবনে কিছুদিন ছিলেন। প্রতিদিন সকালে ঠাকুর বেরিয়ে যেতেন এবং সন্ধ্যার অনেক পরে ফিরে আসতেন।

দুর্বল শরীরে দিনের পর দিন একাকী ভ্রমণ দেখে যশোদা দেবী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি মনে মনে ভাবেন—যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তিনি কীভাবে সংবাদ পাবেন?

শ্রীঠাকুরের আশ্বাস

একদিন যশোদা দেবী তাঁর দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করলে, শ্রীঠাকুর স্নেহভরে বললেন—

“একাকী কখনও পথ চলি না মা। কিচনবাবু ও প্রভাতবাবু সব সময় আমার সঙ্গে থাকেন।”

এই কথা শুনে যশোদা দেবী বিস্মিত হলেন। কারণ কিচনবাবু দেহরক্ষা করেছিলেন বহু পূর্বে, আর প্রভাতবাবুও অনেক বছর আগেই পার্থিব দেহ ত্যাগ করেছিলেন।

বিদেহী সঙ্গের প্রমাণ

দ্বিধাগ্রস্ত মনে যশোদা দেবী শ্রীঠাকুরের নিকট উভয় ভক্তের প্রিয় খাদ্যবস্তুর নাম জানতে চান। শ্রীঠাকুর কেবল খাদ্যের নামই নয়, রন্ধনপ্রণালী পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে বলে দেন।

সেইদিন শ্রীঠাকুর আর সকালে বাইরে গেলেন না। চিরঅভুক্ত ঠাকুরের সেদিন প্রবল ক্ষুধার উদ্রেক হয়। বারে বারে তিনি যশোদা দেবীকে রন্ধনশালায় ত্বরান্বিত করেন।

ভোগ ও অলৌকিক অভিজ্ঞতা

বেলা বারটার পূর্বেই ভোগ প্রস্তুত হয়। শ্রীঠাকুরের ডান ও বাম পাশে দুটি পৃথক আসন পাতা হয়, এবং কিচনবাবু ও প্রভাতবাবুর উদ্দেশ্যে বহুবিধ ভোজ্যবস্তু নিবেদন করা হয়।

শ্রীঠাকুরকে ডাকতে হয়নি— তিনি নিজেই এসে আসনে বসলেন এবং সমস্ত ভোগ এক নিঃশেষে গ্রহণ করলেন। একটুও প্রসাদ অবশিষ্ট রইল না।

যশোদা দেবী থালা-বাটি ধোয়া জল একত্র করে পান করলেন। সেদিন তাঁর ক্ষুধা বা তৃষ্ণা কিছুই অনুভূত হলো না।

উপলব্ধি

এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যশোদা দেবী উপলব্ধি করলেন— কিচনবাবু ও প্রভাতবাবু শ্রীঠাকুরের কাছে কত গভীরভাবে প্রিয় এবং বিদেহী সত্তাও কীভাবে গুরুর নিত্যসঙ্গী হতে পারে।

“জয়রাম”

উৎস: শ্রীমতী প্রমীলা দত্ত
গ্রন্থ: “মহাজীবনের কাহিনী”
পৃষ্ঠা: ৯০
শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ, সন্দ্বীপ

বিদেহী প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তী ও শ্রীশ্রী রামঠাকুরের নিত্যসঙ্ বিদেহী প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তী ও শ্রীশ্রী রামঠাকুরের নিত্যসঙ্ Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on December 25, 2025 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.