Sri Sri Ram Thakur is a revered spiritual master whose teachings continue to inspire countless devotees across India and around the world. The website serves as a comprehensive digital platform dedicated to preserving, promoting, and sharing the divine life, teachings, philosophy, and spiritual legacy of Sri Sri Ram Thakur, lovingly known as Dayal Thakur, Sri Sri Kaibalyanath, and Sri Sri Satyanarayan by his followers. Born as Ram Chandra Dev in Dingamanik, Faridpur (present-day Bangladesh)

দেহধারী মানব নন—স্বয়ং ভগবান

দেহধারী মানব নন—স্বয়ং ভগবান

— শ্রীরোহিনী কুমার মজুমদার

জয় গোবিন্দ । জয় গোপাল ।
কেশব মাধব দীন দয়াল ॥


আমার এই ঠাকুর দেহধারী সামান্য মানব নন, তিনি স্বয়ং ভগবান।

ঠাকুরকে তখন আমরা পূজা করিতাম না। তাঁহাকে পূজা করিতে হয়—এই বিশ্বাস তখনও পর্য্যন্ত মনে দানা বাঁধিয়া উঠিতে পারে নাই। জানিতাম শুধু মূর্ত্তি পূজা।

গৃহের প্রতিটি প্রাণী ঠাকুরকে পিতৃবোধে সেবা-শুশ্রূষা করিত।

ঠাকুর প্রত্যহ সকালে বেড়াইতে বাহির হইতেন। বেলা প্রায় এগারটা-সাড়ে এগারটার মধ্যে বাসায় ফিরিয়া আসিতেন। সাধারণতঃ আমি যখন আহার করিতাম, ঠাকুরও তখন পাশে বসিয়া ভোগ গ্রহণ করিতেন।

একদিন ঠাকুর প্রায় বারটার সময় বেড়াইয়া ফিরলেন। ঠাকুরের দেরী দেখিয়া আমরা খুবই চিন্তিত হইলাম। ঠাকুরের পা ধুইয়া দিলাম। মাথা ধোঁয়াইবার সময় দেখিলাম—তাঁহার মাথায় স্থানে স্থানে চন্দন ও হলুদের ফোঁটা লাগিয়া রহিয়াছে।

মাথা ও গা মুছাইয়া দিয়া ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করিলাম—
“আপনার মাথায় চন্দন ও হলুদের ফোঁটা আসিল কোথা হইতে?”

ঠাকুর যেন একটু অপ্রস্তুত হইয়া পড়িলেন। বলিলেন—
“এখনও আছে নাকি?”

কে এগুলি দিয়াছে জিজ্ঞাসা করায় ঠাকুর বলিলেন—

“আমি বেড়াইতে বেড়াইতে একটি রাস্তার ধার দিয়া যাইতেছিলাম। এমন সময় দেখি একটি বাড়ীর দরজার সম্মুখে এক ভদ্রলোক ও তাহার স্ত্রী দণ্ডায়মান। আমাকে দেখিবার মাত্র তাঁহারা দুইজনে প্রণাম করিয়া আমাকে ঘরের মধ্যে লইয়া গেলেন।

তাঁহারা আমাকে একটি আসনে বসাইয়া পূজা করিলেন। তাঁহারা নাকি পূর্ব্ব রাত্রিতে স্বপ্নে দেখিয়াছিলেন—স্বয়ং ভগবান তাঁহাদের পূজা লইবার জন্য আসিবেন।

তাই তাঁহারা সমস্ত পূজার উপকরণ যোগাড় করিয়া প্রতীক্ষা করিতেছিলেন। পূজার সময় তাঁহারাই চন্দন ও জাফরানের ছিটা দিয়েছিলেন।

সমস্ত মুছিয়া ফেলেছি। মাথার চুলের মধ্যে যে চন্দন ও জাফরানের ফোঁটা আছে, তাহা বুঝিতে পারি নাই।”

আমি জিজ্ঞাসা করিলাম—
“আমাদেরও কি তাহা হইলে আপনাকে পূজা করিতে হইবে?”

ঠাকুর মাথা নাড়িয়া সম্মতি জ্ঞাপন করিলেন।

এই প্রথম আমি শিক্ষা লাভ করিলাম যে—আমার এই ঠাকুর দেহধারী সামান্য মানব নন, তিনি স্বয়ং ভগবান। যুগে যুগে তিনি মানবদিগকে ত্রাণ করিবার জন্য ধরায় আবির্ভূত হন।

পরের দিন হইতে আমি ঠাকুরকে ফুল, বেলপাতা ও চন্দন দিয়া পূজা করিতে আরম্ভ করিলাম।

জয় রাম ॥


সূত্র :
শ্রীরোহিনী কুমার মজুমদার
গ্রন্থ — :contentReference[oaicite:1]{index=1}
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩৩

 

আমার এই ঠাকুর দেহধারী সামান্য মানব নন, তিনি স্বয়ং ভগবান। শ্রীরোহিনী কুমার মজুমদার । জয় গোবিন্দ জয় গোপাল। কেশব মাধব দীন দয়াল। ঠাকুরকে তখন আমরা পূজা করিতাম না। তাঁহাকে পূজা করিতে হয় এই বিশ্বাস তখনও পর্য্যন্ত মনে দানা বাঁধিয়া উঠিতে পারে নাই। জানিতাম শুধু মুর্ত্তি পূজা। গৃহের প্রতিটি প্রাণী ঠাকুরকে পিতৃবোধে সেবা শুশ্রূষা করিত। ঠাকুর প্রত্যহ সকালে বেড়াইতে বাহির হইতেন। বেলা প্রায় এগারটা সাড়ে এগারটার মধ্যে বাসায় ফিরিয়া আসিতেন। সাধারণতঃ আমি যখন আহার করিতাম, ঠাকুরও তখন পাশে বসিয়া ভোগ গ্রহণ করিতেন। একদিন ঠাকুর প্রায় বারটার সময় বেড়াইয়া ফিরলেন। ঠাকুরের দেরী দেখিয়া আমরা খুবই চিন্তিত হইলাম। ঠাকুরের পা ধুইয়া দিলাম। মাথা ধোঁয়াইবার সময় দেখিলাম তাঁহার মাথায় স্থানে স্থানে চন্দন ও হলুদের ফোঁটা লাগিয়া রহিয়াছে। মাথা ও গা মুছাইয়া দিয়া ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার মাথায় চন্দন ও হলুদের ফোঁটা আসিল কোথা হইতে? ঠাকুর যেন একটু অপ্রস্তুত হইয়া পড়িলেন। বলিলেন এখনও আছে নাকি? কে এগুলি দিয়েছে জিজ্ঞাসা করায় ঠাকুর বলিলেন, আমি বেড়াইতে বেড়াইতে একটি রাস্তার ধার দিয়া যাইতেছিলম। এমন সময় দেখি একটি বাড়ীর দরজার সম্মুখে একভদ্রলোক ও তাহার স্ত্রী দণ্ডায়মান। আমাকে দেখিবার মাত্র তাঁহারা দুইজনে প্রণাম করিয়া আমাকে ঘরের মধ্যে লইয়া গেলেন। তাঁহার আমাকে একটি আসনে বসাইয়া পূজা করিলেন। তাঁহারা নাকি পূর্ব্বে রাত্রিতে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন যে , স্বয়ং ভগবান তাঁহাদের পূজা লইবার জন্য আসিবেন। তাই তাঁহারা সমস্ত পূজার উপকরণ যোগাড় করিয়া প্রতীক্ষা করিতেছিলেন। পূজার সময় তাঁহারাই চন্দন ও জাফরানের ছিটা দিয়েছিলেন। সমস্ত মুছিয়া ফেলেছি। মাথার চুল মধ্যে যে চন্দন ও জাফরানের ফোঁটা আছে তাহা বুঝিতে পারি নাই। জিজ্ঞাসা করিলাম, আমাদেরও কি তাহা হইলে আপনাকে পূজা করিতে হইবে। ঠাকুর মাথা নাড়িয়া সম্মতি জ্ঞাপন করিলেন। এই প্রথম আমি শিক্ষা লাভ করিলাম যে, আমার এই ঠাকুর দেহধারী সামান্য মানব নন, তিনি স্বয়ং ভগবান। যুগে যুগে তিনি মানবদিগকে ত্রাণ করিবার জন্য ধরায় আবির্ভূত হন। পরের দিন হইতে আমি ঠাকুরকে ফুল, বেলপাতা, চন্দন দিয়া পূজা করিতে আরম্ভ করিলাম। জয়রাম । শ্রীরোহিনী কুমার মজুমদার , " শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরামঠাকুর " পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৩ হইতে ।
দেহধারী মানব নন—স্বয়ং ভগবান দেহধারী মানব নন—স্বয়ং ভগবান Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.