নামে পরিয়া থাকাই ভক্তি | বেদবাণী (৮২) ও গুরুগীতার আলোকে আধ্যাত্মিক বিশ্লেষণ
এই পবিত্র প্রভাতে সকলকে জানাই আন্তরিক প্রণাম ও শুভেচ্ছা। গুরুবাক্যের মধ্যে যে মুক্তির পথ নিহিত আছে, আজ আমরা সেই গভীর তত্ত্বের আলোচনায় প্রবেশ করবো।
চাঁদপুরের ঘটনা: সহজ সাধনার মহান শিক্ষা
চাঁদপুরে একদিন বটুকেশ্বর মুখার্জি মহাশয়ের সঙ্গে গুরুদেবের এক গভীর অথচ সহজ সংলাপ ঘটে। তিনি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন—কর গুনে নাম করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় এবং তিনি আমিষ আহার করতেন।
গুরুর করুণাময় নির্দেশ
গুরু বললেন — বাহ্য আচার নয়, অন্তরের স্মরণই মুখ্য। অফিসে যাওয়ার পথে মনে মনে নাম স্মরণ করুন, নির্জনে বসেও নাম করুন।
এখানেই শিক্ষা: ভক্তি মানে কঠোরতা নয়, আন্তরিকতা।
বেদবাণী (দ্বিতীয় খণ্ড, ৮২) — মূল তত্ত্ব
“এই সংসার আবরণের মুক্তি একমাত্র সত্যব্রত। মন্ত্রমূলং গুরোর্বাক্যম্। নামে পরিয়া থাকার নামই ভক্তি।”
১. মন্ত্র ও গুরুবাক্যের ঐক্য
“মন্ত্রমূলং গুরোর্বাক্যম্” — গুরুর বাক্যই মন্ত্রের মূল। নাম ও মন্ত্র পৃথক নয়। নামই জীবনের চেতনা জাগ্রত করে।
২. পতিব্রতা ধর্মের আধ্যাত্মিক অর্থ
এখানে পতিব্রতা মানে কেবল সামাজিক ধারণা নয়, বরং একাগ্র আশ্রয়। যেমন প্রহ্লাদ একমাত্র গুরুবাক্যে স্থিত ছিলেন, তেমনই ভক্তির মূল একনিষ্ঠতা।
৩. কর্তৃত্ব-অভিমান ও নামের উদয়
যতদিন ‘আমি কর্তা’ ভাব থাকে, ততদিন নামের প্রকৃত উদয় হয় না। আত্মসমর্পণই ভক্তির সূচনা।
গুরুগীতা (শ্লোক ৫৭–৬০) ব্যাখ্যা
শ্লোক ৫৭
“গুরুর দর্শিত পথে মন শুদ্ধ করে” — গুরুর পথ অনুসরণে মন বিশুদ্ধ হয়।
শ্লোক ৫৮
“জ্ঞান জ্ঞেয় একাকার” — জ্ঞান ও জ্ঞেয়ের মধ্যে বিভেদ থাকে না, সত্য উপলব্ধিতে একত্ব প্রকাশ পায়।
শ্লোক ৫৯
অহংকারে গুরু নিন্দা আধ্যাত্মিক পতনের কারণ।
শ্লোক ৬০
দেহ থাকা পর্যন্ত সুখে-দুঃখে গুরু-স্মরণ অব্যাহত রাখতে হবে।
ভক্তির প্রকৃত সংজ্ঞা
নামে পরিয়া থাকা
নাম চিন্তামণি — নামের মধ্যে চেতনার রূপান্তর ঘটে। নাম কেবল উচ্চারণ নয়, অস্তিত্বের আশ্রয়।
গুরুর আশ্রয়ে জীবনযাপন
সংসার ত্যাগ নয়, বরং গুরুর উপর ভার দিয়ে কর্তব্য পালনই মুক্তির পথ।
উপসংহার
ভক্তি মানে সহজ আশ্রয়, অন্তরের স্মরণ এবং গুরুবাক্যে স্থিত থাকা। কঠোর অনুশাসনের চেয়ে গভীর আন্তরিকতাই শ্রেষ্ঠ সাধনা।
জয় গুরু । জয় রাম ।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
February 25, 2026
Rating:





.jpg)
No comments: