গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

প্রারব্ধ, দেহ ও নামযোগের রহস্য | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী (দ্বিতীয় খণ্ড পত্রাংশ-৮) গভীর ব্যাখ্যা

 

প্রারব্ধ, দেহমুক্তি ও নামযোগ | শ্রীশ্রী রামঠাকুর বেদবাণী ব্যাখ্যা

প্রারব্ধ, দেহমুক্তি ও নামযোগ — শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী ব্যাখ্যা

📜 বেদবাণী (দ্বিতীয় খণ্ড — পত্রাংশ ৮)

“প্রারব্ধের বন্ধনেই দেহে থাকিয়া দেহী সুখ দু:খাদি উপভোগ করিয়া থাকে। দেহমুক্ত হইলেই প্রাক্তন ভোগ মুক্ত হইয়া যায়। চিন্তা ভাবনা সকল মনের চঞ্চলতা মাত্র। নাম করিতে করিতে দেহমুক্ত হইতে পারে, তখন মন থাকে না। মনস্থির অভ্যাসের দ্বারা হইয়া থাকে। ঐ নামের অভ্যাস অর্থ্যাৎ সর্ব্বদা সকল অবস্থায়ই নামকে উচ্চারণ করিতে করিতে এবং নাম বৈ আর বেশী এই জগতে কিছুই পবিত্র এবং শান্তি নাই ইহা ভাবিতে ভাবিতে নামে অনুরাগ জন্মে। এই অনুরাগের দ্বারা অবিচ্ছেদ নাম যোগে স্থিতিলাভ হয়।”
---

🌿 প্রারব্ধ কর্ম ও জীবনের সুখ-দুঃখ

প্রারব্ধের অর্থ কী?

শ্রীশ্রী রামঠাকুর এখানে বুঝিয়েছেন যে মানুষের বর্তমান জীবন পূর্বজন্মের কর্মফলের ধারাবাহিকতা। এই প্রারব্ধ কর্মের কারণেই দেহধারী জীব সুখ ও দুঃখ ভোগ করে।

মূল শিক্ষা

দেহ থাকলে ভোগ থাকবেই। সুখ বা দুঃখ কোনোটিই স্থায়ী নয় — এগুলি কর্মফলের প্রকাশমাত্র।

---

🧘 দেহমুক্তি ও ভোগমুক্তির রহস্য

দেহমুক্তি মানে কী?

দেহমুক্তি মানে শুধু শরীর ত্যাগ নয়; বরং দেহবোধ ও অহংকারের অবসান। যখন আত্মা নিজের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করে, তখন প্রাক্তন ভোগের বন্ধন ছিন্ন হয়।

আধ্যাত্মিক উপলব্ধি

যে ভক্ত নামসাধনায় স্থিত হয়, সে ধীরে ধীরে কর্মবন্ধন থেকে মুক্তির পথে অগ্রসর হয়।

---

🧠 মন — চঞ্চলতার মূল কারণ

চিন্তা কেন অশান্তি সৃষ্টি করে?

ঠাকুর বলেছেন, চিন্তা ও ভাবনা আসলে মনের চঞ্চলতা। মন যত অস্থির হয়, ততই মানুষ দুঃখ অনুভব করে।

সমাধান

মনকে জোর করে থামানো যায় না; কিন্তু নামস্মরণে মন নিজে থেকেই স্থির হয়ে যায়।

---

📿 নামসাধনার শক্তি

নাম করিতে করিতে দেহমুক্তি

নিরন্তর নামজপ মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। ক্রমে মন বিলীন হয়ে যায় এবং ভক্ত শান্তির গভীর স্তরে প্রবেশ করে।

নামের অভ্যাস কেন প্রয়োজন?

  • সকল অবস্থায় নাম স্মরণ
  • নামই সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র শক্তি — এই বিশ্বাস
  • নিয়মিত উচ্চারণ ও স্মরণ
  • আত্মসমর্পণ
---

💖 নামের প্রতি অনুরাগ ও নামযোগ

অনুরাগ কিভাবে জন্মায়?

যখন ভক্ত উপলব্ধি করে যে জগতে প্রকৃত শান্তি কেবল নামেই আছে, তখন নামের প্রতি স্বাভাবিক প্রেম জন্ম নেয়।

স্থিতিলাভের পথ

এই প্রেম বা অনুরাগ ভক্তকে অবিচ্ছিন্ন নামযোগে স্থাপন করে। এটাই আধ্যাত্মিক স্থিতি — যেখানে মন শান্ত, চিত্ত নির্মল এবং আত্মা প্রসন্ন।

---

✨ উপসংহার

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই বেদবাণী আমাদের শেখায় — দুঃখের কারণ বাহ্য জগৎ নয়, অস্থির মন। আর সেই মনকে স্থির করার সহজতম পথ হলো নিরন্তর নামস্মরণ। নামই শান্তি, নামই মুক্তি, নামই স্থিতি।


🙏 শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপা সকলের জীবনে শান্তি ও স্থিরতা আনুক।

প্রারব্ধ, দেহ ও নামযোগের রহস্য | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী (দ্বিতীয় খণ্ড পত্রাংশ-৮) গভীর ব্যাখ্যা প্রারব্ধ, দেহ ও নামযোগের রহস্য | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী (দ্বিতীয় খণ্ড পত্রাংশ-৮) গভীর ব্যাখ্যা Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on February 28, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.