গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

নাম মাহাত্ম্য — শ্রীশ্রী রামঠাকুর শ্রীমুখে বর্ণিত আধ্যাত্মিক গল্প। নামযজ্ঞ, নামভক্তি ও নামের অলৌকিক শক্তির কাহিনী।"

নাম মাহাত্ম্য | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী

নাম মাহাত্ম্য — নামযজ্ঞের অলৌকিক শক্তি

ভূমিকা

অনেক বছর আগের কথা। সেই রাজা আর তাঁর রাজ্যের নাম এখন আর কারও মনে নেই। তবে রাজা বড় ভাল ছিলেন। প্রজার দুঃখে তাঁর প্রাণ কাঁদতো। রাজার হাতী, ঘোড়া, সৈন্য সামন্ত কোন কিছুর অভাব ছিল না। তবুও তাঁর দু-চোখে রাতে ঘুম আসত না। একটাই চিন্তা — রাজত্ব কাকে দিয়ে যাবেন? ছেলে নেই, মেয়ে নেই; মৃত্যুর পর প্রজাদের দেখবে কে?

ভগবান সর্বজ্ঞ। তিনি সকলের প্রকৃত অভাব পূর্ণ করেন। ভগবানের আশীর্বাদে কিছুদিন পরে রাজার এক পুত্র জন্ম নিল।

রাজপুত্রের জন্ম ও ভবিষ্যৎবাণী

রাজপুত্র ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলেন। যেমন রূপ তেমন গুণ। রাজ্যের সকলেই তাঁকে ভালবাসতেন। রাজপুত্রের সাত বছর বয়সে রাজ জ্যোতিষী তাঁর ভাগ্য বিচার করে বললেন —

“শাস্ত্র ও অস্ত্রে রাজপুত্রকে কেউ হারাতে পারবে না, তবে তাঁর আয়ু অল্প।”

এই ভবিষ্যৎবাণী শুনে রাজা-রাণী ও প্রজাদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেল। কিন্তু রাজপুত্র নির্ভার মনে শিক্ষা, অস্ত্রচর্চা, ঘোড়ায় চড়া ও খেলাধুলায় মেতে থাকলেন।

অতিথি সেবাব্রতের সূচনা

একদিন রাজপুত্র নিজের মৃত্যুর দিন ও সময় জানতে পারলেন, কিন্তু কাউকে কিছু জানালেন না। তিনি শুরু করলেন এক নতুন ব্রত — ‘অতিথি সেবাব্রত’

এই ব্রতের নিয়ম ছিল — যে অতিথিই আসুক, দেবতার মতো ভক্তিভরে তাঁর সেবা করতে হবে। রাজপুত্র নিজে অতিথিদের পা ধুইয়ে দিতেন, বাতাস করতেন এবং স্নেহভরে আহার করাতেন। অতিথিরা আশীর্বাদ দিয়ে বিদায় নিতেন।

আশীর্বাদের শক্তি

এভাবেই অতিথি সেবা ও শাস্ত্র শিক্ষার মধ্য দিয়ে দিন কাটতে লাগল। মৃত্যুর দিন ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।

নামযজ্ঞের মহিমা

মৃত্যুর দিন ভোরে রাজপুত্র স্নান করে নতুন বস্ত্র ধারণ করলেন এবং শুরু করলেন এক অভিনব যজ্ঞ — ‘নামযজ্ঞ’

নামযজ্ঞের প্রভাবে দেবদেবীরা উপস্থিত হলেন এবং নামস্মরণে নিমগ্ন হলেন। যমরাজও যমদূতদের নিয়ে রাজপ্রাসাদে এলেন রাজপুত্রকে নিয়ে যেতে।

নামের প্রভাব

কিন্তু নামযজ্ঞের মহিমায় যমরাজ ও যমদূতরাও নামস্মরণে এতটাই মগ্ন হলেন যে রাজপুত্রের মৃত্যুর সময় কখন পেরিয়ে গেল তা তাঁদের খেয়ালই রইল না।

সময় অতিক্রম হওয়ার পরে ধর্মরাজ বুঝলেন — নিয়ম ভঙ্গ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি রাজপুত্রকে না নিয়ে আশীর্বাদস্বরূপ কপালে এক টিপ দিয়ে গেলেন।

দেবদেবীর আশীর্বাদ

এরপর উপস্থিত সকল দেবদেবী রাজপুত্রকে আশীর্বাদ করে কপালে টিপ পরিয়ে দিলেন। যতগুলি টিপ, তত বছর রাজপুত্র সুখে শান্তিতে জীবিত থাকলেন।

রাজ্যের শান্তি ও সমৃদ্ধি

দেবদেবীর আশীর্বাদে রাজ্যে কোন অভাব রইল না। প্রজারা নির্ভয়ে ও আনন্দে জীবনযাপন করতে লাগলেন।

উপদেশ

এই হইল নামের মাহাত্ম্য।

বেদবাণীর শিক্ষা

নামস্মরণের উপকারিতা

“সর্বদা নাম করিবে, তাহাতে গ্রহবৈগুণ্য মুক্ত হইবে।” (বেদবাণী ১ম খন্ড, পত্র ৩০২)

নাম ও ভগবানের অভিন্নতা

“নাম আর ভগবানে ভেদ নাই। নামের নিকট থাকা ভগবানের নিকট থাকা।” (বেদবাণী ৩য় খন্ড, পত্রাংশ ৭১)

নামের চিরস্থায়ী সত্য

“আপদে, বিপদে, সম্পদে, জনমে মরণে যিনি ত্যাগ করেন না তিনিই নাম… তাকে পাইলে জন্ম-মৃত্যু থাকে না।” (বেদবাণী ৩য় খন্ড, পত্রাংশ ১১৫)

উৎস

এই মূল গল্পটি শ্রীশ্রী রামঠাকুর শ্রীমুখে তরলা সুন্দরী গাঙ্গুলীকে বলেছিলেন। প্রকাশ: শবরী।

নাম মাহাত্ম্য — শ্রীশ্রী রামঠাকুর শ্রীমুখে বর্ণিত আধ্যাত্মিক গল্প। নামযজ্ঞ, নামভক্তি ও নামের অলৌকিক শক্তির কাহিনী।" নাম মাহাত্ম্য — শ্রীশ্রী রামঠাকুর শ্রীমুখে বর্ণিত আধ্যাত্মিক গল্প। নামযজ্ঞ, নামভক্তি ও নামের অলৌকিক শক্তির কাহিনী।" Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on March 01, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.