Sri Sri Ram Thakur is a revered spiritual master whose teachings continue to inspire countless devotees across India and around the world. The website serves as a comprehensive digital platform dedicated to preserving, promoting, and sharing the divine life, teachings, philosophy, and spiritual legacy of Sri Sri Ram Thakur, lovingly known as Dayal Thakur, Sri Sri Kaibalyanath, and Sri Sri Satyanarayan by his followers. Born as Ram Chandra Dev in Dingamanik, Faridpur (present-day Bangladesh)

ঋণ শোধের আশ্চর্য গল্প | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণীর শিক্ষা ঋণ শোধ না করলে মুক্তি নেই | Ramthakur Spiritual Story in Bengali

ঋণ শোধ

অনেক অনেক বছর আগের কথা। বনের কোনে থাকতেন এক গরীব ব্রাহ্মণ। লোকে বলে, তিনি খুব ভালমানুষ ছিলেন। নদীর জলে স্নান সেরে ফেরার পথে বনের শুকনো কাঠ কুড়িয়ে এনে নিজেই সামান্য রান্না করে খেতেন। ভক্তিভরে পূজো শেষে তিনি পুঁথি পড়ে সময় কাটাতেন। সেই ব্রাহ্মণের এখন বয়েস হয়েছে। আগের মত কাজ করতে পারেন না।

একদিন কোথা থেকে এক যুবক, ব্রাহ্মণের আস্তানায় এসে জুটলেন। অতিথি নারায়ণ, এই ভেবে ব্রাহ্মণ তাঁকে তাঁর আস্তানায় আশ্রয় দিলেন। তিনিও ব্রাহ্মণের টুকটাক কাজ করে দেন। পূজোর ফুল তুলে দেন। চন্দন ঘষে দেন। প্রদীপ জ্বালিয়ে দেন। আর পূজোর সময় দেবতার দিকে তাকিয়ে ভক্তিতে চোখের জল ফেলেন। এমনি ভাবেই সেই অতিথি, ব্রাহ্মণের সেবক হয়ে উঠলেন। শেষে দুজনে দুজনের ভাল বন্ধু হলেন।

দিন যায়, মাস আসে। মাস যায়, বছর আসে। কোথা দিয়ে যে সময় চলে যায় কারও খেয়াল থাকেনা। একদিন হঠাৎই ব্রাহ্মণের সেই বন্ধু সেবক সামান্য অসুখে মারা যান। সেবক সারা জীবন সৎ ভাবে থেকেছেন, কারও মনে দুঃখ দেন নি। কাকেও ঘেন্না করেন নি। তাঁর কারও কাছে কোন ধার ছিলনা। তাই মৃত্যুর পর তিনি যমদূত হন।

যমরাজের আশীর্বাদে তিনি যমলোক আর মর্তলোকে ইচ্ছা মত যাওয়া আসা করতে পারতেন। একদিন তিনি এলেন সেই আশ্রয় দাতা ব্রাহ্মণের ডেরায়। তাঁর সাথে দেখা করতে, সুখ দুঃখের কথা বলতে।

কথার ফাঁকে ব্রাহ্মণ তাঁকে বললেন, "আমি যমের বাড়ী দেখিনি। আমায় যমলোক দেখাতে নিয়ে যাবে?" শুনে সেবক বললেন, "ব্রাহ্মণ ঠাকুর! আগে আপনার কাছে যার যা পাওনা আছে তা মিটিয়ে, ঋণমুক্ত হয়ে নিন। ঋণমুক্ত না হলে যমলোকে যাওয়া যায় না।"

সেবকের কথা শুনে ব্রাহ্মণ তাঁর নিজের বলতে যা ছিল সব বিক্রি করে একে একে সবার দেনা মিটিয়ে দিলেন। কিন্তু অনেক দিন আগের একটি কথা ভুলে গেলেন। কূলো কেনার সময় সামান্য এক পয়সা কম পড়ায় কুলোওয়ালার কাছে এক পয়সা বাকী রেখেছিলেন।

একদিন সেবক তাঁকে যমলোক দেখাতে এলেন। যমলোকের দরজায় পৌঁছতেই সেই কূলোওয়ালা পথ আগলে দাঁড়িয়ে বললেন— "ব্রাহ্মণ ঠাকুর! আমার এক পয়সা বাকী রেখে কোথায় চললেন? আমার পাওনা না দিয়ে যমলোকে যাওয়া চলবে না।"

ব্রাহ্মণ বললেন, "বাবা! আমার কাছে তো আর কিছু নেই। কী দিয়ে তোমার দেনা শোধ করবো?" তখন কূলোওয়ালা বলল, "তবে আপনার দেহ থেকে কূলো সমান ওজনের মাংস দিন।"

ব্রাহ্মণ তাই করতে গেলেন। ঠিক সেই সময় একটি বটগাছ থেকে কূলো সমান ওজনের গাছের বাকল খসে পড়ল। পরে জানা গেল, এক সময় সেই ব্রাহ্মণ এই বটগাছটিকে অন্য জায়গা থেকে এনে তাঁর আশ্রমের সামনে লাগিয়ে তাকে বাঁচিয়েছিলেন। তাই যমলোকে যাওয়ার আগে বটগাছও তার ঋণ শোধ করে দিল।


উপদেশ

এই গল্পের শেষে শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেছিলেন—

ধ্যান, জপ, তপ, ন্যাস যেভাবেই করুন না কেন—ঋণ শোধ না হলে বনে কোণে বা সংসার ছেড়ে পালালেও নিষ্কৃতি নেই। ঋণ শোধ করতেই হবে। অঋণী হওয়ার একমাত্র পথ—নামের আশ্রয় নেওয়া।

বেদবাণী

“কেবল নামের আশ্রয়ে থাকিয়া প্রাক্তন কর্ম ঋণ শোধ করিয়া যাইতে থাক, ভগবান মঙ্গল করিবেন।”
— বেদবাণী, ১ম খণ্ড, পত্র ২৮৮

“ধৈর্য্য ধরিয়া সকল ঋণ মুক্ত হইয়া সত্যের অংশ উপভোগ করুন।”
— বেদবাণী, ৩য় খণ্ড, পত্রাংশ ৭২

“যত স্থির হইবে ততই ঋণ শোধ হইবে, যত ঋণ যায় ততই বন্ধন মুক্ত হয়।”
— বেদবাণী, ৩য় খণ্ড, পত্রাংশ ১৫৮


আকর গ্রন্থ: শবরী
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী অবলম্বনে

ঋণ শোধের আশ্চর্য গল্প | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণীর শিক্ষা ঋণ শোধ না করলে মুক্তি নেই | Ramthakur Spiritual Story in Bengali ঋণ শোধের আশ্চর্য গল্প | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণীর শিক্ষা  ঋণ শোধ না করলে মুক্তি নেই | Ramthakur Spiritual Story in Bengali Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on মার্চ ১৫, ২০২৬ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.