জয়রাম 卐 জয়গুরু
পিতাঠাকুর বলিলেন —
“বাবা, আজ ঝুলন পূর্ণিমা। সকলের ইচ্ছা আপনাকে ঝুলন দোলায় দোলাইয়া আনন্দ করিবে।”
শ্রীঠাকুর বলিলেন —
“আমার স্বতন্ত্র কোন ইচ্ছা নাই। আমি আপনাগ ইচ্ছায় চালিত হই। দোলাইতে চাইলে দোলাইবেন।”
শ্রীঠাকুর বিগ্রহের সম্মুখে উন্মুক্ত বারান্দায় ঝুলন দোলা অতি সুন্দরভাবে সুসজ্জিত করা হইল। দোলায় শ্রীঠাকুরকে চারিদিক হইতে যাহাতে সুস্পষ্টরূপে দর্শন করা যায় এজন্য উজ্জ্বল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রহিয়াছিল।
সন্ধ্যা ছয়টায় হরিদা ঝুলন পূজা আরম্ভ করিয়া রাত্রি আটটার পূর্বে ভোগারতি সমাপ্ত করিলেন। এতক্ষণ কীর্তন নীচ তলায় চলিতেছিল। এখন প্রথমবাবু, মধু মুখার্জী, বিমল দে এবং আরও বহু কীর্তনিয়া উপরের তলায় কীর্তন আরম্ভ করিলেন।
হরিদা ঠাকুর বিগ্রহ ঝুলন দোলায় আনিয়া বসাইয়া দোলা দোলাইয়া দিলে দোলা আপনা হইতে ঠাকুর বিগ্রহ সহকারে দুলিতে লাগিল। দোলার চারিদিকে প্রদক্ষিণক্রমে কীর্তন চলিতেছিল।
পনের বিশ মিনিট দোলাইয়া হরিদা ঠাকুর বিগ্রহ লইয়া গিয়া আসনে বসাইলেন। কৈলাসদা ঠাকুরের নিকট যাইয়া প্রণামপূর্বক নিবেদন করিলেন— “বাবা, আমাদের ইচ্ছা আপনাকে ঝুলন দোলায় দোলাব।”
শ্রীঠাকুর বলিলেন —
“বেশ নিয়া চলেন।”
কৈলাসদা ঠাকুরকে কোলে লইয়া উত্তরমুখী করিয়া দোলায় বসাইলেন। ব্রজের কৃষ্ণ ঝুলন দোলায় বসিলেন।
ওগো তোরা দেখবি যদি আয়
ঝুলানে ঝুলিছে রাম রায় ॥
আনন্দস্রোতে সকলে ভাসিতে লাগিল। মেয়েরা হুলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনি দিয়া আকাশ বাতাস কাঁপাইয়া তুলিল। মুহুর্মুহু গুরুধ্বনি উঠিতে আরম্ভ করিল। উপর তলায় লোক আর ধরেনা।
হরিদা শ্রীঠাকুরকে প্রণাম করিয়া দোলা দোলাইয়া দিলেন। তারপর পিতাঠাকুর, মাতাঠাকুরানী, পরিবারস্ত সকলে এবং ক্রমে ক্রমে সমস্ত ভক্ত দোলা দোলাইলেন।
শ্রীঠাকুর অপলক নেত্রে বহু দূর দূরান্তের পানে তাকাইয়া আছেন। কখনও হাসিতেছেন। সুমধুর স্বর্গীয় সৌরভে চারিদিক আমোদিত হইয়া উঠিল।
রাত্রি দশটায় মধুদা দোলা হইতে শ্রীঠাকুরকে কোলে লইয়া বিছানার উপর বসাইয়া দিলেন। শ্রীঠাকুরের ঝুলনোৎসব পরম আনন্দ সহকারে সমাপ্ত হইল।
জয়রাম
ফনীন্দ্র কুমার মালাকার লিখিত
“রামভাই স্মরণে”
পৃষ্ঠা সংখ্যা – ২৫
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
March 04, 2026
Rating:





.jpg)
No comments: