গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

ভক্তদরদী শ্রীশ্রী রামঠাকুরের ভক্তপ্রেম ও করুণার এক অনন্য কাহিনী – ভক্তপদরজ। শ্রীশিতিকন্ঠ সেনগুপ্ত রচিত শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গ থেকে নেওয়া।

 

ভক্তপদরজ | শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গ | ভক্তদরদী রামঠাকুর

ভক্তপদরজ

শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গে

লেখক: মৃণাল মজুমদার

‘ভক্তদরদী রামঠাকুর’ সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুরের অন্যতম পার্ষদ শ্রীশিতিকন্ঠ সেনগুপ্ত মহাশয় তাঁর এক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—

“ঠাকুরের নিজস্ব অহং বলতে কিছু ছিল না, তাই তাঁর অভিমান আসবে কোথা থেকে? প্রতিটি আশ্রিতের মধ্যে তিনি তাঁর নিজেকেই প্রতিষ্ঠিত দেখতেন। ভক্তের দুঃখেই তাঁর দুঃখ, ভক্তের সুখেই তাঁর সুখ।”

ভক্তের জুতা হারিয়ে যাওয়া

এক ভক্ত ঠাকুর দর্শনে এসে তাঁর জুতা হারিয়ে ফেলেন। দরদী ঠাকুর ব্যস্ত হয়ে নিজেই খাটের তলা থেকে নিজের ব্যবহৃত কাপড়ের জুতা জোড়া ভক্তের হাতে দিয়ে বললেন —

“ধরেন এইটা পায়ে দিয়া যান, না হইলে শীতে কষ্ট পাইবেন।”

ভক্তটি আনন্দের আতিশয্যে জুতা জোড়া মাথায় করে নাচতে শুরু করলেন। ঠাকুর তাঁকে মৃদু হেসে বললেন —

“পায়ে দিয়া গেলে কোন দোষ হইব না। আপনারা কি কেবল আমারে মাথায় কইরাই রাখবেন?”

চৌমুহনি স্টেশনের মুচি

চৌমুহনি স্টেশনে এক মুচি প্রতিদিন বসে জুতা সেলাই করত। সে লক্ষ্য করত, ট্রেন এলেই দলে দলে লোক কোথায় যেন দর্শন করতে যাচ্ছে। একদিন কৌতূহলবশত সে সকলের পিছনে পিছনে ঠাকুরের বাংলোতে এসে দাঁড়ায়।

দরজায় দাঁড়িয়ে সে একদৃষ্টে ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু ভিতরে ঢোকার সাহস পাচ্ছে না। ভক্তপ্রাণ ঠাকুর ভক্তদের উদ্দেশ্যে বললেন —

“ওনারে ভিতরে আসতে নিষেধ করেন কেন?”

সাহস পেয়ে সে যখন ঠাকুরের কাছে গেল, প্রেমময় ঠাকুর তাকে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে বললেন —

“এইখানে বসেন।”

ভক্তপদরজের মহিমা

একদিন চৌমুহনিতে ভক্তসমাগম একটু বেশি হয়েছিল। কেউ ছিল না যে ভক্তদের বসার জন্য আসন বিছিয়ে দেয়। তখন ভক্তদরদী ঠাকুর নিজেই উঠে এসে নিজের গায়ের চাদর মেঝেতে বিছিয়ে দিলেন।

ভক্তরা বাধ্য হয়ে সেই চাদরের উপর বসে রইলেন। সবাই চলে যাওয়ার পরে ঠাকুর তাঁর চাদরের খোঁজ করতে লাগলেন।

চাদরটি এনে দিলে তিনি আনন্দে সেটি গায়ে জড়িয়ে বললেন —

“ভক্তপদরজ! ভক্তপদরজ!”

ভক্তসেবাই ঠাকুরসেবা

কুঞ্জবাবুর স্ত্রীর খুব আক্ষেপ ছিল— সারাদিন ভক্তদের সেবা করতে গিয়েই সময় কেটে যায়, ঠাকুরের কাছে বসার অবসর পান না।

ঠাকুর তাঁকে স্নেহভরে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন —

“মা! ভক্তের সেবা করলেই আমার সেবা করা হয়।”

মোটকথা — ভক্তই ঠাকুরের প্রাণ। ভক্তের জন্যই ভগবান।

উৎস:
শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গ (তৃতীয় খণ্ড)
লেখক: শ্রীশিতিকন্ঠ সেনগুপ্ত
পৃষ্ঠা: ৬৭ – ৬৮
ভক্তদরদী শ্রীশ্রী রামঠাকুরের ভক্তপ্রেম ও করুণার এক অনন্য কাহিনী – ভক্তপদরজ। শ্রীশিতিকন্ঠ সেনগুপ্ত রচিত শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গ থেকে নেওয়া। ভক্তদরদী শ্রীশ্রী রামঠাকুরের ভক্তপ্রেম ও করুণার এক অনন্য কাহিনী – ভক্তপদরজ। শ্রীশিতিকন্ঠ সেনগুপ্ত রচিত শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গ থেকে নেওয়া। Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on March 04, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.