গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

তিন জন্ম পূর্বের ঋণ পরিশোধ | ড. ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঠাকুরমহাশয়ের অলৌকিক সত্

তিন জন্ম পূর্বের ঋণ পরিশোধ | ড. ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঠাকুরমহাশয়ের অলৌকিক সত্য

ড. স্বর্গীয় ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের তিন জন্ম পূর্বের ঋণ পরিশোধ

স্তব্ধ অর্ধরাতে সহসা বাতাসে বয়ে আনল একটি ডাক— “ই-ন্দু বা-বু।”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যযুগীয় ও আধুনিক ইতিহাসের ভূতপূর্ব আশুতোষ অধ্যাপক স্বর্গীয় ডক্টর ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় তখন দেশপ্রিয় পার্ক রোডের নিজ বাসভবনে ঘুমন্ত ছিলেন।

গভীর রাত্রির অচেনা আহ্বান

ঘুম ভেঙে গেল সেই ডাকে। চশমা চোখে দিয়ে বিছানায় বসে তিনি নেমে এলেন শঙ্কাকুল চিত্তে। নিশ্চয়ই কোনো আত্মীয় বা পরিচিত বিপন্ন—না হলে এত রাতে ডাক কেন?

গেটের একপ্রান্তে দাঁড়াতেই অপর প্রান্ত থেকে আগন্তুক হুকুমের সুরে বলল—

“শিগগির তিনশ’ টাকা নিয়ে আসুন।”

যন্ত্রচালিতের মতো তিনি উপরে উঠে এলেন। স্ত্রী নিদ্রিতা। আঁচল থেকে চাবির গোছা খুলে ক্যাশবাক্স খুলে গুনে নিলেন তিনশ’ টাকা।

আবার ক্যাশবাক্স বন্ধ করে চাবি যথাস্থানে রেখে নিচে নেমে এসে গেটের ফাঁক দিয়ে টাকাটি তুলে দিলেন। টাকা পেয়েই আগন্তুক অদৃশ্য হয়ে গেল।

অনুতাপ ও আত্মসমীক্ষা

উপরে ফিরে এসে শয্যায় বসে ভাবতে লাগলেন— একটি বড় ভুল হয়ে গেল। কে তিনি? কেন এলেন? কোনো কিছুই তো জানা হলো না।

সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করলেন। ভাবছিলেন— অর্থ সাহায্যই সব নয়, বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোও কর্তব্য।

ভাবনার ভারে আবার ঘুমিয়ে পড়লেন।

সকালের বিভ্রান্তি ও সত্য উদ্ঘাটন

সকালে সোরগোলে ঘুম ভাঙল। তিনশ’ টাকা উধাও। সকলের সন্দেহ পড়ল পুরোনো ভৃত্যের উপর।

তৎক্ষণাৎ ডক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের সামনে রাত্রিকালীন ঘটনার কথা খুলে বললেন। চাকর সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হলো।

এক মানবিক চরিত্রের পরিচয়

তিনি নিয়মিত তিনটি পরিবারকে সাহায্য করতেন। কেউ বিপন্ন হয়ে এলে কখনো ফিরিয়ে দিতেন না।

তবু আজ তাঁর মন ভারাক্রান্ত— অচেনা মানুষকে মাসের শেষে টাকা দিয়ে দিলেন, একটিবার প্রশ্নও করলেন না।

বই পড়লেন, সংবাদপত্র ধরলেন— কিন্তু মন কোথাও স্থির হলো না।

ঠাকুরমহাশয়ের স্মরণ

অপরাহ্নে হঠাৎ মনে পড়ল— ঠাকুরমহাশয় তো কলকাতায়ই আছেন।

তিনি তখন অবস্থান করছিলেন স্বর্গীয় সতেন্দ্রচন্দ্র মিত্র মহাশয়ের সাউথ এন্ড পার্কের বাসভবনে।

আর দেরি না করে ডক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হলেন ঠাকুরমহাশয়ের সামনে।

ঠাকুরমহাশয়ের অলৌকিক উক্তি

সন্ধ্যার ভিড়ে তিনি একান্তে কথা বলার সুযোগ খুঁজছিলেন। ঠিক তখনই ঠাকুরমহাশয় বলে উঠলেন—

“সেই বিকাল থেইক্যা দেখে আছি আপনে ব্যাজার মুখে এককোণে বইসা আছেন।
তিন জন্মের আগের মহাজন কাইল রাত্রে আইসা তিনশ’ টাকা নিয়া গেল। আপনে একটা ঋণমুক্ত হইলেন, কই আনন্দ করবেন?”

এই কথায় সমস্ত সংশয় মুহূর্তে দূর হয়ে গেল।

ঋণমুক্তির আনন্দ

ঠাকুর বললেন—

“যান, আনন্দ কইর‍্যা সকলের সঙ্গে প্রসাদ পান।”

সানন্দে তিনি প্রসাদ গ্রহণে গেলেন। মনের সমস্ত ক্লেশ দূর হয়ে গেল—

যেন তপ্ত বালুকাবেলায় শ্রাবণধারার শীতল বর্ষণ।

উপসংহার: গুরু জানেন সব

এই ঘটনা শিক্ষা দেয়— মানুষ ভুলে যায়, কিন্তু গুরু ভোলেন না।

পূর্বজন্মের ঋণও গুরুকৃপায় একদিন পরিশোধ হয়।

জয় রাম।
জয় গোবিন্দ।

তিন জন্ম পূর্বের ঋণ পরিশোধ | ড. ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঠাকুরমহাশয়ের অলৌকিক সত্ তিন জন্ম পূর্বের ঋণ পরিশোধ | ড. ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঠাকুরমহাশয়ের অলৌকিক সত্ Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on January 26, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.