গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

সত্যনারায়ণ পূজা, কাম্য ও নিষ্কাম ভজন প্রসঙ্গে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের গভীর বাণী ও সাধন ভাবনা। ছন্নাবতার গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত

 

সত্যনারায়ণ পূজা ও নিষ্কাম ভজন — শ্রীশ্রী রামঠাকুর

সত্যনারায়ণ পূজা ও নিষ্কাম ভজন

সত্যনারায়ণের পূজা তো কাম্য কামনার পূজা।

কামনা করিয়া যেবা লইবে প্রসাদ ।
তুল্যমূল্য কাম্য সিদ্ধি ঘুচিবে বিবাদ ।।

জয় রাম । জয় গোবিন্দ ।
সুপ্রভাত।

ভোর বেলায় গেলাম কুঞ্জবাবুর গৃহে। ঐসময় ছাড়া ঠাকুরকে একাকী পাওয়া যায় না। ঠাকুর মহাশয়ের কাছে গেলে এত ভোরে আসার কারণ জানতে চাইলেন তিনি।

আমি বললাম—
আপনাকে দুটো প্রশ্ন করার আছে আমার।

স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ঠাকুর সুস্মিত হাসিতে আমার দিকে চেয়ে আছেন। শ্রীচরণে প্রণাম করে প্রথম প্রশ্ন করলাম—

ঠাকুর মহাশয়, এতদিন তো আপনি আমাদের নিষ্কাম ভজনের কথা বলে এসেছেন। কামনা-বাসনা শূন্য হয়ে নিরহঙ্কারী হয়ে নাম সাধন করতে বলছেন। এখন বলছেন সত্যনারায়ণ করতে, তাঁর কাছে কামনা-বাসনা জানাতে।

দেখছি, সত্যনারায়ণের পাঁচালী লিখে দিচ্ছেন জনে জনে। তাদের বলছেন সিন্নী দিয়ে পাঁচালী পড়তে।

সত্যনারায়ণ পূজা তো কাম্য-কামনার পূজা। পাঁচালীতে লেখা আছে—

কামনা করিয়া যেবা লইবে প্রসাদ ।
তুল্যমূল্য কাম্য সিদ্ধি ঘুচিবে বিবাদ ।।

কাম্য-কামনার পূজায় তো অহঙ্কার শূন্য হওয়া যায় না। এর কারণ কী, বুঝলাম না। তাছাড়া এতে দুটো দল হয়ে যাবে— এক দল নিষ্কামের পক্ষ নেবে, আরেক দল সকাম পূজায় মেতে উঠবে।

আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হইল— আপনি এখন যেচে প্রায় ডেকে ডেকে নাম বিতরণ করছেন। সেই নামও দেখছি একই নাম (গো-গ)।

আগে তো এমন দেখিনি। নামপ্রার্থীকে নাম চাইতে হইত। তারপর আপনি নাম দেওয়ার হইলে নাম দিতেন, সে নামও এক হইত না।

ঠাকুর মহাশয়ের উত্তর

“হ, বৃন্দাবনে গিছিলাম। সেখানে গোপাল ভট্ট জিউর সঙ্গে দ্যাখা হইছিল। তিনি আমার হাতে একটা ঝোলা দিয়া কইলেন— মহাপ্রভু এই নামের ঝোলাখানা আমারে দিয়েছিলেন, আমি শেষ করতে পারি নাই। তুমি তো দুয়ারে দুয়ারে নাম দিয়া বেড়াও, এরে খালি কইরা দেও।”
“তাই অখন ডাইক্যা ডাইক্যা নাম দিয়া ঝোলা খালি করতাছি।”

ঠাকুর মহাশয় কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পরে আবার বলতে থাকেন—

“অন্ন চিন্তা বড় চিন্তা। দেখবেন খাবার সামনে পইড়া থাকব, খাইতে পারব না। দেইখ্যা দেইখ্যা না খাইয়া মরব।”

বিয়াল্লিশের দুর্ভিক্ষের অনেক আগেই শ্রীশ্রী ঠাকুর এই কথা বলেছিলেন। পরে কলিকাতায় দুর্ভিক্ষে যে চেহারা দেখেছিলাম, ঠাকুর মহাশয়ের ঐ কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল।

জয় রাম।

সত্যনারায়ণ পূজা, কাম্য ও নিষ্কাম ভজন প্রসঙ্গে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের গভীর বাণী ও সাধন ভাবনা। ছন্নাবতার গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত সত্যনারায়ণ পূজা, কাম্য ও নিষ্কাম ভজন প্রসঙ্গে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের গভীর বাণী ও সাধন ভাবনা। ছন্নাবতার গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on January 07, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.