মানব জনমের সার: দেহের অন্তরে লুকিয়ে থাকা পরম সত্তার সন্ধান
শোনালেন —
“মানব জনম সার, এমন পাবে না আর
বাহ্য দৃশ্যে ভুলোনারে মন।”
বাহ্যত মানব দেহ অস্থি-মজ্জা-রস-রক্ত ও মাংসের এক পিণ্ডমাত্র বলেই প্রতীয়মান হয়। কিন্তু এই নশ্বর দেহের অন্তরালে রয়েছে এক বিশাল মন ও সদানন্দময় প্রাণ। শাস্ত্রে বলা হয় — “যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহভাণ্ডে।”
এই বিনাশশীল দেহের মধ্যেই অবস্থান করছে এক অবিনাশী পরম সত্তা। অনিত্য শরীরের ভেতরে নিহিত রয়েছে নিত্য, সত্য, অক্ষয় ও অব্যয় সম্পদ — যাকে বলা হয় জীবাত্মা, প্রাণ বা দেহী।
প্রাণসঞ্চারের কালে এই প্রাণই ব্রহ্ম। জীবনকালে প্রাণই শিব, প্রাণই নারায়ণ। এই কারণেই বলা হয় — দেহ থেকে শিব চলে গেলে দেহ হয়ে যায় শব।
পরমেশ্বর কেবল মানুষকে শ্রেষ্ঠরূপে সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি মানব হৃদয়ের কমলাসনে প্রাণগোপাল, প্রাণগোবিন্দ, আত্মারাম ও প্রাণগৌরাঙ্গ রূপে আসন গ্রহণ করেছেন। এমনকি ‘নাম’-রূপে তিনি মানবপ্রাণের অন্তরে সদা বিরাজমান।
প্রতিপালনের কালে প্রাণই বিষ্ণু, আর মরণকালে প্রাণই মহেশ্বর। তিনি জাগ্রত অবস্থায় মানুষকে আনন্দরসে ভাসিয়েও দেন।
তবুও এই জগতের রূপ-রস-গন্ধ-শব্দ-স্পর্শ, ধন-জন, ভোগ-উপভোগ — কিছুই মানুষকে সম্পূর্ণ তৃপ্ত করতে পারে না। মানুষের হৃদয়ে সদা বিরাজ করে এক অজানা শূন্যতা। কারণ যিনি পরিপূর্ণ, তাঁকে ছাড়া পূর্ণতা অসম্ভব।
এইজন্য ভক্তের পথচলা ভগবানের নামানন্দ ও রসানন্দের দিকে। ওপ্রাণে এপ্রাণে চলে এক গভীর প্রেমময় মিলনের আয়োজন। ভাবরসের খেলায় আবদ্ধ হয় জগৎ ও জীবন।
সৃষ্টির শুরুতেই তিনি মানুষের অন্তর ভরে দিয়েছেন ভাব, ভক্তি, প্রেম, স্নেহ, মায়া, মানবতা ও সত্যবাদিতায়। দিয়েছেন জ্ঞান, বিবেক, বৈরাগ্য এবং অনুভূতির অগণিত রূপ।
এর পাশাপাশি দিয়েছেন নীচ ভাব, লোভ, অহংকার, কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ-মদ-মাৎসর্য — ষড়রিপুর বন্ধন। দিয়েছেন দুঃখ, কষ্ট, ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও জীবনের কঠিন সংগ্রাম।
এই সবকিছু দিয়েই ভগবান মানুষকে ফেলেছেন মহাপরীক্ষায়। এই জীবনযুদ্ধে উত্তীর্ণ হলেই স্রষ্টার ইচ্ছা পূর্ণ হয়। মানুষকে তার অন্তরের মহান সত্তাকে জাগ্রত করে, বিবেক ও প্রজ্ঞার আলোয় ঊর্ধ্বলোকে উন্নীত হতে হয়।
এটাই মানব জনমের পরম সার্থকতা।
Re write লেখক: Subrata Majumder
collected from nam prosad book
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
January 22, 2026
Rating:






.jpg)
No comments: