গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

বেদবাণী দ্বিতীয় খণ্ড (৯১): নামেই মায়ামুক্তি, নামেই পরম শান্তি

 বেদবাণী দ্বিতীয় খণ্ড (৯১

): নামেই মায়ামুক্তি, নামেই পরম শান্তি


বেদবাণী দ্বিতীয় খণ্ড | Sri Sri Ramthakur Vedbani – Part 2

(৯১) সংসারের মায়ার টানে পড়িলে শত প্রজ্ঞারও মন বুদ্ধি স্থির থাকিতে পারে না। এই মায়াময় শক্তির দেহে বাস করিতে হইলে,মায়ার যে অবস্থায় যখন যে রকম ভাগ্যফল উৎপন্ন হয়,ধৈর্য্য ধরিয়া তাহার বেগ সতত সহ্য করিয়া যাইবেন। পুত্র কলত্রাদি সংসারে উৎপন্ন হয়,তাহার দ্বারা জীবনকে মোহিত করিয়া কর্ত্তৃত্বভাবে আত্মস্মৃতি ভ্রম জন্মাইয়া বদ্ধ করিয়া রাখে। এই মায়া হইতে মুক্ত হইলে সর্ব্বতোভাবে ভগবানের নামে রুচি হয়। রুচি হইলে অন্য কোনও উৎপাত যতই হউক ভ্রুক্ষেপও থাকে না। নামে রুচি বর্ত্তাইয়া যায়। ইহাই মায়ামুক্ত। ”যেই নাম সেই কৃষ্ণ” নিষ্ঠা করিয়া ভাবিতে ভাবিতে পরমপদ আনন্দময় ভগবান মায়ামুক্ত করাইয়া জীবদ্দশা মুক্তি দেন। এইজন্য কর্ত্তা না হইয়া যখন যে অবস্থা মায়াচক্রের মুখে পড়ুক না কেন তাহা প্রহলাদের ন্যায় সতত সহ্য করিয়া যাইবে। নামে রুচি হউক আর নাই হউক,সুখ হউক আর দুঃখই হউক,অকাতরে দিবানিশি নামের দাস হইয়া থাকিতে হয়। যে শৈশবে ছেলেটি তার মা দুরন্ত হউক আর সুশীলা হউক,যেমন তার মায়ের সঙ্গ ছাড়ে না,সেই রকম নামের প্রতিষ্ঠা করিয়া সেবা করিয়া হয়। অর্থ্যাৎ সর্ব্বদা নামের দাস অভিমান করিয়া নামের দ্বারা আবদ্ধ হইয়া থাকিতে হয়। এই নাম মুক্ত হইলে কোনও অভাব থাকে না। ভগবানের নামই সত্য।  কলির আবরণের বন্ধন হইতে উদ্ধার লাভের একমাত্র নামই সম্বল। নামই শক্তির সাধ্য। নাম ভিন্ন এ জগতের মধ্যে সহায় আর কিছুই নাই। বিপদভঞ্জন হরি,তাঁহার শরণে সমস্ত বন্ধন উপদ্রব আদি মুক্ত হইয়া থাকে। অতএব সর্ব্বদা নাম করিবেন। যেই নাম সেই কৃষ্ণ,অভিন্ন নাম ও নামী। নাম করিতে করিতে ভগবান জাগিয়া পড়েন। অভয়দাতা ভগবান শক্তিধাম। তাঁহার আশ্রয় নিলেই পরম শান্তি লাভ হইয়া থাকে।  ”অন্তবন্ত ইমে দেহা নিত্যস্যোক্তা: শরীরিণ:। ”  


সংসারের মায়া এমন এক শক্তি, যা শত প্রজ্ঞাবান মানুষের মন–বুদ্ধিকেও অস্থির করে তোলে। এই মায়াময় দেহে বাস করতে হলে ভাগ্যফলের যে রূপই আসুক—সুখ হোক বা দুঃখ—ধৈর্য ধারণ করে তা সহ্য করাই সাধকের কর্তব্য। পুত্র, কলত্র ও সংসারের টান জীবনে কর্তৃত্ববোধ ও আত্মস্মৃতিভ্রম সৃষ্টি করে; এর ফলেই জীব বাঁধনে আবদ্ধ হয়।

এই মায়া কাটে একমাত্র ভগবানের নামে রুচি জন্মালে। নামে রুচি এলে বাহ্যিক উৎপাত আর মনকে টলায় না; নামেই চিত্ত স্থির হয়। “যেই নাম সেই কৃষ্ণ”—এই নিষ্ঠায় ভাব করতে করতে ভগবান জীবদ্দশাতেই মুক্তি দান করেন। তাই কর্তৃত্ববোধ ত্যাগ করে, যে অবস্থাই আসুক না কেন, প্রহ্লাদের মতো সহিষ্ণু থেকে নামের আশ্রয়ে থাকা চাই।

নামে রুচি থাকুক বা না থাকুক—দিনরাত অকাতরে নামের দাস হয়ে থাকা—এটাই পথ। যেমন শিশু মায়ের স্বভাব যেমনই হোক, মায়ের সঙ্গ ছাড়ে না—তেমনই নামের প্রতিষ্ঠায় অবিচল থাকতে হয়। নামেই শক্তি, নামেই আশ্রয়; কলিযুগের বন্ধন থেকে উদ্ধারের একমাত্র সম্বল নাম। নাম করতে করতে ভগবান জাগ্রত হন; তাঁর শরণে ভয় নেই, শান্তি নিশ্চিত।


🔍 ব্যাখ্যা (Explanation)

  • মায়া ও ধৈর্য: মায়া অনিবার্য; তাকে জয় করতে তাড়াহুড়ো নয়, দরকার সহিষ্ণু ধৈর্য।

  • কর্তৃত্ববোধের ত্যাগ: “আমি কর্তা”—এই ভাবই বন্ধনের মূল। নামস্মরণে এই ভাব ক্ষীণ হয়।

  • নামের রুচি: নামের প্রতি আকর্ষণ জন্মালে চিত্ত একাগ্র হয়, বাহ্যিক অশান্তি গুরুত্ব হারায়।

  • অভিন্ন নাম–নামী: নাম ও নামী আলাদা নয়—এই বোধ গভীর হলে ভগবৎ-সান্নিধ্য সহজ হয়।

  • জীবদ্দশা মুক্তি: নামসাধনায় ভয়হীনতা ও অন্তঃশান্তি আসে—এটাই বাস্তব মুক্তির লক্ষণ।


🎓 শিক্ষামূলক সারাংশ (Education Only)

  1. সংসারের অনিশ্চয়তা মনকে অস্থির করে—ধৈর্যই স্থিতির চাবিকাঠি।

  2. কর্তৃত্ববোধ কমলে বন্ধন শিথিল হয়।

  3. নিয়মিত নামস্মরণ মনোসংযম ও মানসিক স্থিতি আনে।

  4. অভ্যাসের জোরে নামই হয়ে ওঠে অন্তরের আশ্রয়।

  5. ভয়, অশান্তি ও দ্বন্দ্বে নাম কার্যকর মানসিক–আধ্যাত্মিক সমাধান।


🧘‍♂️ প্রয়োগ 

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ১০–১৫ মিনিট নামস্মরণ।

  • সুখ–দুঃখের দিনে একই নিয়ম বজায় রাখা।

  • “আমি কর্তা” ভাব এলে নামের দিকে মন ফেরানো।

উপসংহার: ভগবানের নামই সত্য, নামই শক্তি—নামেই মুক্তির পথ।

বেদবাণী দ্বিতীয় খণ্ড (৯১): নামেই মায়ামুক্তি, নামেই পরম শান্তি বেদবাণী দ্বিতীয় খণ্ড (৯১): নামেই মায়ামুক্তি, নামেই পরম শান্তি Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on January 20, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.