গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

ভগবানের ইচ্ছা, যাহা হইবে তাহা ভিন্ন জীবের আর কি হইবে ?

ভগবানের ইচ্ছা, যাহা হইবে তাহা ভিন্ন জীবের আর কি হইবে ?সংসারচক্রে নানান ঋনে দায়ী হইয়া প্রার্থনানুসারে গতাগতি ঘটিয়া থাকে ,প্রারদ্ধই তার শাসক। সর্বদা ভগবানের উপর নির্ভর রাখিবে। কত্তা অভিমানে থাকিয়া মন স্থিরের প্রয়াস করা কেবল দুঃখের ভাজান হইতে হয়🙏🌹🙏🌹🙏🌹
🙏🏻🌺 জয় রাম জয় গোবিন্দ 🌺🙏
🌺🌺 শুভ সকাল 🌺
প্রাণনাম ও সত্যনারায়ণ সেবা | শ্রীশ্রী রামঠাকুর

প্রাণনাম ও সত্যনারায়ণ সেবা

শ্রীশ্রীঠাকুরের পূর্ব্বদিনের অভিনব কথাগুলিতে আমার অন্তরে কিরূপ আলোড়ন হইতেছিল এবং যে সকল প্রশ্ন জাগিয়াছিল, তাহা বাসায় ফিরিবার পথে শ্রীযুক্ত দ্বিজেন বাবুর নিকট প্রকাশ করি। শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট হইতেই ঐ প্রশ্নগুলির সমাধান পাইবার জন্য অন্তরের মধ্যে যে এক বিশেষ আবেগ জাগিয়াছিল, তাহাও আমি ব্যক্ত করি।

আজ যেন ঠাকুর অন্তর্যামী হইয়া আমার ভিতরকার প্রশ্নগুলির সমাধান দিলেন। যদিও সকল কথা একেবারে পরিষ্কারভাবে ধারণ করিতে পারি নাই, তথাপি অন্তরে এক গভীর আশ্বাস অনুভূত হইল।

ইহার উত্তরে শ্রীযুক্ত দ্বিজেন বাবু বলিলেন—

“সদ্‌গুরু ও আপ্ত-পুরুষের কাছে গেলেই এমন হয়। প্রকৃত জিজ্ঞাসুর পক্ষে প্রশ্ন করার অপেক্ষা থাকে না। অন্তরের খবর তাঁহারা জানিতে পারেন এবং কথার প্রসঙ্গেই জিজ্ঞাস্য বিষয়ে আলোকপাত করিয়া দেন। সদ্‌গুরু চিনিবার পক্ষে ইহা একটি প্রধান লক্ষণ।”

প্রাণ দ্বারা নাম — কীভাবে?

নাম করা সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রথম দিনের উপদেশ শুনিয়া আমার মনে প্রথম প্রশ্ন জাগিয়াছিল— “প্রাণ দ্বারা যে নাম হয়, ইহা কিরূপ?”

আজ তিনি অতি সরল ভাষায় তাহার অভিনব ব্যাখ্যা দিলেন—

“শ্বাস-প্রশ্বাসের দ্বারা অবিচ্ছেদ নাম হইতেছে। বাহিরে শ্বাস-প্রশ্বাসরূপে যাহা প্রাণক্রিয়া, অন্তরে তাহাই প্রাণ।”

এই প্রাণময় দেবতাকে আশ্রয় করিয়া নাম করার প্রণালী বর্ণনা করিতে গিয়া তিনি তাহার নাম দিলেন— “সত্য নারায়ণ সেবা”

হৃদয়, শরণাগতি ও কর্তৃত্বহীনতা

গুরুপদিষ্ট নাম সর্বদা হৃদয়ে জাগিয়া থাকিলেই সত্যের প্রতিষ্ঠা ও চৈতন্য লাভ হয়। হৃদয়ই সত্যের স্থিতিস্থান।

এই সত্যনারায়ণকে পতি—অর্থাৎ পালক ও রক্ষকরূপে ভাবনা করিতে করিতে এবং তাঁহাকে ছাড়া আর কিছুই না চাহিয়া, না জানিয়া, সম্পূর্ণ শরণে নিমগ্ন হইলে হৃদয়ে শরণাগত ভাব পরিস্ফুট হয়।

তাহাতেই কর্তৃত্বাভিমানশূন্য বুদ্ধির উদয় হয় এবং হৃদয়স্থিত কামনার বিনাশ ঘটে। এই অবস্থায় কর্ম ও কর্মফল ভগবৎ-চরণে উৎসর্গ করিতে করিতে ভগবৎ কৃপায় জন্ম-মৃত্যুর আবর্তন হইতে মুক্তি লাভ হয়।

যজ্ঞ, শ্বাস ও চিত্ত

এই জগৎ হইতে উদ্ধারের জন্য প্রাণের মধ্যাবস্থাকে সর্বদা যত্ন করিয়া রাখিবার চেষ্টাকেই ঠাকুর “যজ্ঞ” বলিয়া আখ্যা দিয়াছেন।

শাস্ত্রেও হৃৎপুণ্ডরীকেই ভগবানকে বিশেষভাবে ধ্যান করার উপদেশ দেওয়া হইয়াছে। ভগবৎ চিন্তা সামান্য একাগ্রতার সহিত করিলেই শ্বাস-প্রশ্বাস মৃদুভাবে প্রবাহিত হয়।

যখন চিত্ত হৃদয়ে স্থির হয়, তখন বায়ুর গতি রুদ্ধভাবাপন্ন হইয়া নাসাভ্যন্তরেই বিচরণ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস যে অন্তরস্থিত প্রাণসত্তার বহির্বিকাশ— এই ভাব হৃদয়ে ধারণ করিয়া নামের সহিত যুক্ত করিলেই আত্মসমর্পণ সম্পূর্ণ হয়।

উপনিষদের সত্য ও সাবিত্রী তত্ত্ব

উপনিষদে “সত্য” শব্দের ব্যাখ্যা এইরূপ—
‘স’ অর্থ অমৃত, ‘ত’ অর্থ মৃত্যু এবং ‘য’ অর্থ নিয়মন। যিনি অমৃত ও মৃত্যুর নিয়ামক—তিনিই সত্য।

যেহেতু অমৃত লাভে মৃত্যুভয় থাকে না, সত্যকে আশ্রয় করিলেও মৃত্যুভয় রহিত হয়। যখন কালকে ফাঁকি দেওয়া যায়, তখনই সত্যলাভ হইয়াছে বলিয়া জানিতে হইবে।

ঠাকুর উপদেশ করিয়াছেন— প্রাণ যে দেহের কর্তা, এই ভাব বুদ্ধিতে প্রতিষ্ঠিত হইলেই জয় রাম জয় রাম জয় গোবিন্দ | বেদবাণী

জয় রাম জয় রাম জয় গোবিন্দ

বেদবাণী
দেহ গেহ সকলি পরের, তাতে সকলি অবাধ্য। কাজেই যতই যাহা যাহা জীবপঙ্গুতে অভিলাষ হয়, তাহার ব্যতিক্রম ঘটিয়া থাকে।

এই অবাধ্য শরীরের ভরসা করিয়া কিছুই করিবার অধিকার কাহারও নাই।
জয় রাম জয় রাম জয় গোবিন্দ

ভগবানের ইচ্ছা, যাহা হইবে তাহা ভিন্ন জীবের আর কি হইবে ? ভগবানের ইচ্ছা, যাহা হইবে তাহা ভিন্ন জীবের আর কি হইবে ? Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on January 12, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.