প্রাণনাম ও সত্যনারায়ণ সেবা
শ্রীশ্রীঠাকুরের পূর্ব্বদিনের অভিনব কথাগুলিতে আমার অন্তরে কিরূপ আলোড়ন হইতেছিল এবং যে সকল প্রশ্ন জাগিয়াছিল, তাহা বাসায় ফিরিবার পথে শ্রীযুক্ত দ্বিজেন বাবুর নিকট প্রকাশ করি। শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট হইতেই ঐ প্রশ্নগুলির সমাধান পাইবার জন্য অন্তরের মধ্যে যে এক বিশেষ আবেগ জাগিয়াছিল, তাহাও আমি ব্যক্ত করি।
আজ যেন ঠাকুর অন্তর্যামী হইয়া আমার ভিতরকার প্রশ্নগুলির সমাধান দিলেন। যদিও সকল কথা একেবারে পরিষ্কারভাবে ধারণ করিতে পারি নাই, তথাপি অন্তরে এক গভীর আশ্বাস অনুভূত হইল।
ইহার উত্তরে শ্রীযুক্ত দ্বিজেন বাবু বলিলেন—
প্রাণ দ্বারা নাম — কীভাবে?
নাম করা সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রথম দিনের উপদেশ শুনিয়া আমার মনে প্রথম প্রশ্ন জাগিয়াছিল— “প্রাণ দ্বারা যে নাম হয়, ইহা কিরূপ?”
আজ তিনি অতি সরল ভাষায় তাহার অভিনব ব্যাখ্যা দিলেন—
এই প্রাণময় দেবতাকে আশ্রয় করিয়া নাম করার প্রণালী বর্ণনা করিতে গিয়া তিনি তাহার নাম দিলেন— “সত্য নারায়ণ সেবা”।
হৃদয়, শরণাগতি ও কর্তৃত্বহীনতা
গুরুপদিষ্ট নাম সর্বদা হৃদয়ে জাগিয়া থাকিলেই সত্যের প্রতিষ্ঠা ও চৈতন্য লাভ হয়। হৃদয়ই সত্যের স্থিতিস্থান।
এই সত্যনারায়ণকে পতি—অর্থাৎ পালক ও রক্ষকরূপে ভাবনা করিতে করিতে এবং তাঁহাকে ছাড়া আর কিছুই না চাহিয়া, না জানিয়া, সম্পূর্ণ শরণে নিমগ্ন হইলে হৃদয়ে শরণাগত ভাব পরিস্ফুট হয়।
তাহাতেই কর্তৃত্বাভিমানশূন্য বুদ্ধির উদয় হয় এবং হৃদয়স্থিত কামনার বিনাশ ঘটে। এই অবস্থায় কর্ম ও কর্মফল ভগবৎ-চরণে উৎসর্গ করিতে করিতে ভগবৎ কৃপায় জন্ম-মৃত্যুর আবর্তন হইতে মুক্তি লাভ হয়।
যজ্ঞ, শ্বাস ও চিত্ত
এই জগৎ হইতে উদ্ধারের জন্য প্রাণের মধ্যাবস্থাকে সর্বদা যত্ন করিয়া রাখিবার চেষ্টাকেই ঠাকুর “যজ্ঞ” বলিয়া আখ্যা দিয়াছেন।
শাস্ত্রেও হৃৎপুণ্ডরীকেই ভগবানকে বিশেষভাবে ধ্যান করার উপদেশ দেওয়া হইয়াছে। ভগবৎ চিন্তা সামান্য একাগ্রতার সহিত করিলেই শ্বাস-প্রশ্বাস মৃদুভাবে প্রবাহিত হয়।
যখন চিত্ত হৃদয়ে স্থির হয়, তখন বায়ুর গতি রুদ্ধভাবাপন্ন হইয়া নাসাভ্যন্তরেই বিচরণ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস যে অন্তরস্থিত প্রাণসত্তার বহির্বিকাশ— এই ভাব হৃদয়ে ধারণ করিয়া নামের সহিত যুক্ত করিলেই আত্মসমর্পণ সম্পূর্ণ হয়।
উপনিষদের সত্য ও সাবিত্রী তত্ত্ব
উপনিষদে “সত্য” শব্দের ব্যাখ্যা এইরূপ—
‘স’ অর্থ অমৃত, ‘ত’ অর্থ মৃত্যু এবং ‘য’ অর্থ নিয়মন।
যিনি অমৃত ও মৃত্যুর নিয়ামক—তিনিই সত্য।
যেহেতু অমৃত লাভে মৃত্যুভয় থাকে না, সত্যকে আশ্রয় করিলেও মৃত্যুভয় রহিত হয়। যখন কালকে ফাঁকি দেওয়া যায়, তখনই সত্যলাভ হইয়াছে বলিয়া জানিতে হইবে।
ঠাকুর উপদেশ করিয়াছেন— প্রাণ যে দেহের কর্তা, এই ভাব বুদ্ধিতে প্রতিষ্ঠিত হইলেই
জয় রাম জয় রাম জয় গোবিন্দ
এই অবাধ্য শরীরের ভরসা করিয়া কিছুই করিবার অধিকার কাহারও নাই।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
January 12, 2026
Rating:





.jpg)
No comments: