গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

কবিতা বইয়ের নাম “আশ্রয়ের আলো”

 

কবিতা বইয়ের নাম 
“আশ্রয়ের আলো”


🪔 উপশিরোনাম 

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপা ও নির্ভরতার পথে কবিতার অন্বেষণ


✍️ লেখক (Author)

Subrata Majumder


📖 বইয়ের প্রকৃতি

  • ভক্তিমূলক কবিতা

  • আধ্যাত্মিক দর্শন

  • জীবন ও নির্ভরতার কবিতা

  • Vedbani-ভাবানুসৃত কাব্য


বইয়ের উদ্দেশ্য (About the Book)

এই কবিতা গ্রন্থে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপা, আশ্রয়, নির্ভরতা ও আত্মসমর্পণের দর্শন কবিতার ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে।
সংসারের ভোগ-শোক-দ্বন্দ্বে আবদ্ধ মানুষের অন্তর্দহন, সংশয় ও দ্বিধার মাঝে আশ্রয়ের একমাত্র সত্য আলোর দিশা দেখায় এই কবিতাগুলি।
যেখানে কর্ম আছে, কিন্তু কর্তৃত্ব নেই;
চাওয়া আছে, কিন্তু সমর্পণই মুক্তির পথ—
সেই জীবনবোধই এই গ্রন্থের মূল সুর।


🕊️  কবিতার অধ্যায়/অংশ (Optional)

  1. আশ্রয়কর্তা শ্রীশ্রী রামঠাকুর

আশ্রয়কর্তা শ্রীশ্রী রামঠাকুর 

আশ্রয়কর্তা শ্রীশ্রী রামঠাকুর,
তুমিই জীবনের একমাত্র ভরসা।
তোমার চরণে সমর্পণ রেখে
কর্তব্য করলেই মেলে নির্ভরতা।

তুমি বলেছ—“সব ভার আমি নেব”,
এই আশ্বাস বুকে রেখেও ভয় জাগে,
নির্ভরতার আলো জ্বালাতে না পারি বলে
সংশয় এসে হৃদয় ঘিরে ধরে লাগে।

ভোগের মোহে, শোকের ভারে
জীবন চলে দ্বিধার টানে,
তোমার নাম ভুলে সংসারেই ডুবে
দিন যায় শুধু পাওয়ার মানে।

প্রতিক্ষণই সংসারের সেবা করি,
সংসারকে দিই অশেষ প্রশ্রয়,
যাঁকে ছাড়া এক মুহূর্তেরও অস্তিত্ব নেই
তাঁর ভাবনায় মেলে না সময়, মেলে না আশ্রয়।

তবুও তুমি প্রেমময়, নিঃস্বার্থ,
অযাচিত কৃপায় রাখো রক্ষা,
নীরবে বুকে তুলে নাও সব দুঃখ
দাও জীবনে শান্তির দীক্ষা।

জীবনপথের সারথি তুমি,
ব্রহ্মানন্দরূপ মূল কর্তা সত্য।
এই বোধটুকু হৃদয়ে জেগে উঠলেই
মিলে যায় সর্ব অভয় সম্পদ, সর্ব ঐশ্বর্য।


✍️ Subrata Majumder

আশ্রয়কর্তা শ্রীশ্রী রামঠাকুর
পরম দয়াল শ্রীশ্রী রামঠাকুর,
আমাদের জীবনের একমাত্র আশ্রয়।
তাঁর উপর সম্পূর্ণ নির্ভর রেখে
সাধ্যমত কর্তব্য করলেই মেলে নির্ভয়।
তিনি বলেছেন—“সব ভার আমি নেব”,
এই আশ্বাস বুকে রেখেও জাগে সংশয়।
নির্ভরতার দীপ জ্বালাতে না পারি বলেই
দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভরে ওঠে মন-হৃদয়।
ভোগের আকর্ষণ, শোকের যন্ত্রণা
আমাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে থাকে,
নির্ভর বোধের অভাবে জীবনপথে
অশান্তির ছায়া ঘনিয়ে আসে ফাঁকে ফাঁকে।
প্রতিক্ষণ কেবলই সংসারের সেবা করি,
সংসারকে দিয়েই চলি অবিরাম প্রশ্রয়।
যাঁকে ছাড়া এক মুহূর্তের অস্তিত্বও নেই,
তাঁর ভাবনায় পাই না সময়, পাই না অবকাশের আশ্রয়।
তবুও প্রেমময় ঠাকুর নিঃস্বার্থভাবে
অযাচিত কৃপায় রাখেন আমাদের রক্ষা,
নীরবে, নিরবে, করুণাময় হাতে
জীবনের সব ঝড় দেন সামলে, দেন দীক্ষা।
জীবনপথের সারথি তিনি—
ব্রহ্মানন্দরূপ মূল কর্তা, একমাত্র সত্য।
এই জ্ঞানটুকু হৃদয়ে জেগে উঠলেই
মিলে যায় আমাদের সর্ব অভয় সম্পদ, সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশ্বর্য।
  1. নির্ভরতার দীপ

🪔 নির্ভরতার দীপ 🪔

অন্ধকার ঘিরে ধরে যখন মন,
পথ হারায় বিশ্বাসের আলো,
সংশয়ের ঝড়ে নিভে যেতে চায়
হৃদয়ের জ্বালানো দীপখানা ভালো।

ডেকেছি বহুবার সহস্র নামে,
কাঁপা কণ্ঠে, ভাঙা আশায়,
নির্ভরতার দীপ জ্বালাতে না পেরে
ভেসেছি জীবনের স্রোতের ধাঁধায়।

ভোগের মোহে, পাওয়ার টানে
হৃদয় ভুলে যায় সত্যের পথ,
নিজের বলেই চালাতে চেয়ে
বহি ক্ষয়ে যায় প্রাণের রথ।

তবুও করুণাময়, নীরব সাথি,
তুমি ছায়ার মতো পাশে থাকো,
নিভে যাওয়া দীপে আবার আলোর শিখা
কৃপা দিয়ে নিজ হাতে জ্বালো।

যেদিন হৃদয় বলবে নির্ভয়ে—
“তুমিই কর্তা, তুমিই সার”,
সেদিন দীপে দীপে আলো ছড়িয়ে
মুছে যাবে সংশয়, ভয়ের আঁধার।

নির্ভরতার দীপ জ্বলুক বুকে,
নাম-মন্ত্রে হোক প্রাণের গান,
তোমার চরণে সমর্পণেই
শান্তি, মুক্তি, জীবনের দান।


✍️ Subrata Majumder


  1. সংসার ও সত্য

সংসার ও সত্য 

সংসার বলে—ধর, রাখ, ভোগ কর,
সত্য বলে—ছাড়, বোঝ, ফিরে আয়।
সংসারের কোলাহলে ডুবে থেকে
সত্যের ডাক কানে আসে ক্ষীণপ্রায়।

দিন যায় হিসাবের খাতায় খাতায়,
পাওয়া-হারানোর দোলাচলে মন,
সংসারই যেন সব—ভেবে বসে
ভুলে যাই সত্যই মূল জীবনধন।

শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেন—
“সংসার ছাড়তে বলিনি কখনো,
সংসারের মাঝেই সত্যকে ধরো,
ভুলে যেও না আমিই তোমার আপনজন।”

সংসার কাজ চায়, কর্তৃত্ব নয়,
সত্য চায় শুধু নির্ভরতার মন,
কর্ম করো—ফল ছেড়ে দাও,
এই শিক্ষাতেই মুক্তির ক্ষণ।

সংসার যখন বোঝা হয়ে নামে,
শোকের ভারে নুয়ে পড়ে প্রাণ,
সত্য তখন নিঃশব্দে বলে—
“আমি আছি, ভয় নেই, চল নির্ভয়ে পথটান।”

সংসার ক্ষণিক, সত্য নিত্য,
সংসার ঢেউ, সত্য গভীর সাগর,
যে সত্যে ভর করে সংসার চলে
তারই কৃপায় কাটে জীবনের নাগর।

ধন্য সে জন, যে সংসারে থেকেও
সত্যকে রাখে হৃদয়ের মাঝে,
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী ধরে
অভয়ের আলোয় জীবন সাজে।


✍️ Subrata Majumder


  1. দ্বিধা–দ্বন্দ্বের অবসান

দ্বিধা–দ্বন্দ্বের অবসান 

দ্বিধার কুয়াশায় ঢেকে গেলে মন,
পথ হারায় বোধের দিশা,
চাই আর না চাইয়ের টানে
ভাঙে বিশ্বাস, ক্ষয়ে যায় আশা।

দ্বন্দ্বের আগুনে জ্বলে দিনরাত,
ভুল–ঠিকের টানাপোড়েন,
নিজের বলেই চলতে গিয়ে
ভেঙে পড়ে জীবনের গঠন।

তখন শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেন—
“ভয় কীসের? আমি তো আছি,
তোমার দ্বিধা আমার হাতে দাও,
দ্বন্দ্ব পুড়ে হবে শান্তির ছাই।”

যেদিন হৃদয় শিখবে বলা—
“তুমিই কর্তা, তুমিই পথ”,
সেদিন সংশয় ঝরে পড়বে
ভোরের শিশিরের মতো নীরবত।

কর্ম থাকবে, অহং যাবে,
সংসার থাকবে, ভার নয়,
নির্ভরতার আলো জ্বললেই
দ্বিধা–দ্বন্দ্ব পায় বিদায়।

দ্বিধা নয়, দ্বন্দ্ব নয়—
সত্যই হবে জীবনের গান,
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের চরণে
মিলে যাবে অভয়, শান্তি আর সমাধান।


✍️ Subrata Majumder


  1. কৃপায় রক্ষিত পথিক

কৃপায় রক্ষিত পথিক 

পথ দীর্ঘ, কাঁটায় ভরা,
ভুলের ছায়া পড়ে পায়ে,
নিজের শক্তি ক্ষীণ হলে
ভয় নামে অচেনা মায়ায়।

চলতে চলতে থমকে যাই,
কোন পথে যাব—জানি না,
ডাকে সংসার, টানে আশা,
তবু মন শান্তি মানে না।

তখন অদৃশ্য হাতে তুমি
ধরে নাও ক্লান্ত চরণ,
পথিক জানে—সে একা নয়,
কৃপায় রক্ষিত তার জীবন।

ঝড় আসে, আঁধার নামে,
তবু ভাঙে না বিশ্বাসের ডোর,
তোমার করুণাময় দৃষ্টি
রাখে সব বিপদ দূর।

পড়ে গেলে তুলে নাও তুমি,
ভুল হলে শিখাও ক্ষমা,
অযাচিত কৃপায় বাঁচিয়ে রাখো
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি সীমা।

শেষে পথ মিশে যায় আলোর দেশে,
ভয় মুছে যায় চিরতরে,
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপায় পথিক
পৌঁছে যায় অভয়ের ঘরে।


✍️ Subrata Majumder


  1. ব্রহ্মানন্দরূপ সারথি

ব্রহ্মানন্দরূপ সারথি 

জীবনরথ চলেছে নিরন্তর,
পথ অজানা, দৃষ্টি সীমিত,
নিজের বুদ্ধি ধরতে চায় হাল
হয়ে ওঠে মন ভীত, বিচলিত।

তখন নীরবে আসো তুমি,
ব্রহ্মানন্দরূপ সারথি হয়ে,
হাল ধরে নাও করুণ হাতে
সব ভয় দূর হয় তোমার ছোঁয়ায়।

ভোগের মোহে দিকভ্রান্ত হলে
থামাও রথ, দেখাও পথ,
শোকের ভারে নুয়ে পড়লে
দাও আশ্বাস—“আমি আছি সদা সাথ।”

ঝড় আসে, কালচক্র ঘোরে,
সংসার দুলে ওঠে ঘনঘোর,
তবু তোমার দৃঢ় নির্দেশে
ভাঙে না রথ, হয় না মন ভোর।

কর্ম চলুক, অহং যাক দূরে,
তুমিই হও পথপ্রদর্শক সার,
শ্রীশ্রী রামঠাকুর—তোমার কৃপায়
জীবনরথ পায় অভয়ের দ্বার।

শেষে রথ থামে আলোর প্রান্তে,
লীন হয় ভেদ, মুছে যায় ভয়,
ব্রহ্মানন্দরূপ সারথির চরণে
জীবন পায় পরম আশ্রয়।


✍️ Subrata Majumder

ভোগ থেকে যোগ

ভোগ থেকে যোগ 

ভোগ বলে—নাও, ধরো, জমাও,
এইতেই নাকি সুখের ঠিকানা,
দিনের পর দিন তৃষ্ণা বাড়ে,
তবু মেটে না হৃদয়ের বাসনা।

যা পাই, তা কম মনে হয়,
আরো পাওয়ার থাকে তাগিদ,
ভোগের পথে চলতে চলতে
শান্তি হারায়, ক্লান্ত হয় চিত্ত।

তখন শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেন—
“ভোগে নয়, যোগেই মুক্তির দ্বার,
যা পেয়েছো প্রসাদ জেনে নাও,
অহং ছেড়ে হও কৃতজ্ঞ বারবার।”

ভোগ যখন যোগে রূপ নেয়,
কর্ম হয় পূজা, জীবন সাধন,
পাওয়া-হারানো সমান লাগে,
মন পায় স্থির, শান্ত আবাসন।

সংসার থাকে, আসক্তি যায়,
কর্ম থাকে, কর্তৃত্ব নয়,
ভোগের আগুন নিভে গিয়ে
জ্বলে ওঠে যোগের আলোয়।

ভোগ থেকে যোগ—এই রূপান্তর
শেখায় সত্য, নিত্য, আনন্দ,
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের চরণে
জীবন পায় পরিপূর্ণ ছন্দ।অভয়ের সম্পদ


অভয়ের সম্পদ 

ধন যে নয় স্বর্ণ-রূপা,
নয় গৃহ-ভূমি, নয় যশ-মান,
যে ধন ভাঙে না কালে কালে
সেই অভয়ই জীবনের আসল দান।

ভয়ের শিকল বেঁধে রাখে মন,
ভবিষ্যতের অজানা পথে,
নিজের জোরে বাঁচতে চেয়ে
ক্লান্ত হয় প্রাণ প্রতিটি ক্ষণে।

তখন শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেন—
“ভয় ছেড়ে আমার হাতে দাও,
তোমার যা আছে, যা হবে,
সব আমি বহন করব, ভয় কোরো না।”

অভয়ের সম্পদ বুকে এলে
হারায় শোক, মুছে যায় দুঃখ,
সংসারের ঢেউ আর ভাঙতে পারে না
নির্ভরতায় গড়া বিশ্বাসের মুখ।

কর্ম থাকবে, চিন্তা যাবে,
সংগ্রাম থাকবে, ভীত নয়,
সত্যের পথে চলতে পারাই
অভয়ের সম্পদের আসল পরিচয়।

যে জন শিখেছে নির্ভর করা
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের চরণে,
জীবন-মরণ দুইই সমান
অভয়ের আলোয় মেলে জীবনের মানে।


✍️ Subrata Majumder


🖋️ এক লাইনের বইয়ের উক্তি (Tagline)

“আশ্রয়ের আলো | Subrata Majumder”

কবিতা বইয়ের নাম “আশ্রয়ের আলো” কবিতা বইয়ের নাম  “আশ্রয়ের আলো” Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on January 24, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.