ন গুরোরধিকং তত্ত্বং ন গুরোরধিকং তপঃ। তত্ত্বজ্ঞাণাৎ পরং নাস্তি তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ ॥গুরুতত্ত্ব ও শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপালাভ
গুরুতত্ত্ব ও শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপালাভ
শ্রী অখিল রায় গিয়েছিলেন ভোলাগিরি মহারাজের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করিতে। তখন ভোলাগিরি মহারাজ অবস্থান করিতেছেন সীতাকুণ্ডে। সেখানে পৌঁছাতে অখিল বাবুর দুপুর গড়িয়ে যায়।
তিনি প্রণতি জানাইয়া শিষ্যদের নিকট মনের কথা প্রকাশ করিলেন। শিষ্যগণ তাঁহাকে আপ্যায়ন করিয়া বসাইলেন এবং বলিলেন— “ঠাকুর এইমাত্র ভোগ গ্রহণ করিয়া বিশ্রাম ঘরে অবস্থান করিতেছেন। নিদ্রা ভঙ্গ হইলেই তাঁহাকে সংবাদ দেওয়া হইবে।”
অধীর আগ্রহে দীক্ষালাভের প্রত্যাশায় অপেক্ষা করিতেছিলেন শ্রী অখিল রায়। কিছুক্ষণ পরে ভোলাগিরি মহারাজের নিদ্রা ভঙ্গ হইলে সংবাদ দেওয়া হয়। মহারাজ ডাকিলেন— “বেটা, তুম ক্যা মাংতে হো?”
অখিল রায় বলিলেন— “মহারাজ, আমি মন্ত্র চাই।”
মহারাজ উত্তর দিলেন— “বেটা, হামারে পাস তুমহারা লিয়ে মন্ত্র নেহী হ্যায়। রাম আতে হ্যায়, রাম তুমকো মন্ত্র দেঙ্গে।”
অখিলবাবু জিজ্ঞাসা করিলেন— “তিনি কবে আসিবেন?”
মহারাজ বলিলেন— “বেটা, তুমকো ঢুঁড়নেকী জরুরত নেহি হোগী। রাম হী তুমকো ঢুঁড় লেঙ্গে। উনি জগতকে ধরে রেখেছেন। উনি হাত ছেড়ে দিলে কেউ পৌঁছাতে পারবে না— দেবদেবীরাও নন।”
যাঁহার দিব্যদৃষ্টি আছে, তিনিই শ্রীশ্রী রামঠাকুরের স্বরূপ দর্শনে সক্ষম। এই ঘটনার কিছুদিন পরেই শ্রী অখিল রায় ঠাকুরের কৃপালাভ করেন।
ন গুরোরধিকং তত্ত্বং ন গুরোরধিকং তপঃ।
তত্ত্বজ্ঞাণাৎ পরং নাস্তি তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ ॥
অর্থাৎ— শ্রীগুরুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো তত্ত্ব নাই, কোনো তপস্যা নাই। গুরুতত্ত্বের ঊর্ধ্বে কোনো জ্ঞান নাই। সেই শ্রীগুরুদেবকে প্রণাম।
কলিযুগে হত জীবের উদ্ধারের জন্য ভগবান রামচন্দ্রদেব নবরূপে নবধারায় ধরাধামে আবির্ভূত হইয়াছেন। তিনি জীবের দ্বারে দ্বারে ঘুরিয়া “নাম” মহামন্ত্র বিলিয়েছেন।
কৈবল্য নামের ভাণ্ডার তিনি নিত্য লীলাস্থলী শ্রী শ্রী কৈবল্যধামে রাখিয়া গিয়েছেন। ঠাকুরের দিব্য জীবনের স্পর্শ যেখানে পড়িয়াছে, সেই স্থান নিত্য তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হইয়াছে।
ঠাকুর! তুমি আমার পরম দয়াল, তোমার কৃপা অসীম। সকল ভক্তপ্রাণের তৃষ্ণা নিবারণ কর— এই নিবেদন।
🙏🙏 জয় রাম • জয় গোবিন্দ 🙏🙏
🙏 গুরু কৃপাহি কেবলম 🙏
ভগবানের ইচ্ছা, যাহা হইবে তাহা ভিন্ন জীবের আর কি হইবে ?সংসারচক্রে নানান ঋনে দায়ী হইয়া প্রার্থনানুসারে গতাগতি ঘটিয়া থাকে ,প্রারদ্ধই তার শাসক। সর্বদা ভগবানের উপর নির্ভর রাখিবে। কত্তা অভিমানে থাকিয়া মন স্থিরের প্রয়াস করা কেবল দুঃখের ভাজান হইতে হয়
ভগবানের ইচ্ছাই শেষ কথা 🌿
ভগবানের ইচ্ছা—
যাহা হইবার তাহাই হইবে।
জীব আর কি-ই বা করিতে পারে?
সংসারচক্রে নানা ঋণে দায়ী হইয়া,
প্রার্থনানুসারে গতাগতি চলিতেছে।
প্রারব্ধই জীবনের প্রকৃত শাসক।
অতএব সর্বদা ভগবানের উপর নির্ভর রাখিবে।
“আমি কর্তা”—এই অভিমান ত্যাগ কর।
নচেৎ মন স্থির করিবার প্রয়াসই
দুঃখের কারণ হইয়া দাঁড়ায়।
🌸 সমর্পণেই শান্তি
🌸 বিশ্বাসেই মুক্তি
🙏🏻🌺 জয় রাম, জয় গোবিন্দ 🌺🙏🏻
ভাবার্থ ও ব্যাখ্যা
এই বাণীতে জীবনের এক চিরন্তন সত্য তুলে ধরা হয়েছে—
🔹 ভগবানের ইচ্ছাই চূড়ান্ত
জীব যতই পরিকল্পনা করুক, যা ঘটবার তা ভগবানের ইচ্ছাতেই ঘটে। জীব নিজে স্বাধীন কর্তা—এই অহংকারই দুঃখের মূল।
🔹 সংসারচক্র ও ঋণ
জীব পূর্বজন্ম ও বর্তমান জীবনের কর্মফলে নানা ঋণ ও দায় বহন করে। সেই ঋণ শোধ করতেই জন্ম-মৃত্যুর আবর্তন।
🔹 প্রারব্ধই শাসক
প্রারব্ধ কর্মই জীবনের সুখ-দুঃখ নির্ধারণ করে। তাকে অস্বীকার করলে শান্তি আসে না, গ্রহণ করলে মুক্তির পথ খুলে যায়।
🔹 নির্ভরতা ও সমর্পণই শান্তি
“আমি করছি”—এই কর্তা ভাব ছেড়ে ভগবানের উপর নির্ভর করলেই মন স্থির হয়।
নচেৎ মনকে জোর করে স্থির করতে গেলে তা আরও অশান্ত হয়।
✨ অতএব শিক্ষা:
ঠাকুরের করুণা ও কঠোরতা — শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেবের শাসনলীলাসমর্পণই শক্তি, অহংকারই দুঃখ।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
January 13, 2026
Rating:






.jpg)
No comments: