পরম প্রেমময় শ্রীশ্রী রামঠাকুরের
লীলা–অমৃত
💥 “পুণ্ডরীকের অজানা কিছুই থাকে না”
🌹 একটি শবদাহের ঘটনা (৬১)
জয় রাম। জয় গোবিন্দ।
গুরু কৃপাহি কেবলম্।
✨ ভূমিকা
ভক্তের অন্তরের ভাব, কর্ম ও অভিপ্রায়—সবই যাঁহার দৃষ্টির বাইরে নয়, তিনিই পরম প্রেমময়
Sri Sri Ramthakur।
এই লীলা-কথাটি কেবল অলৌকিক ঘটনার বিবরণ নয়—ইহা ভক্তি, সাহস, নিষ্কাম সেবা ও গুরুকৃপার এক জীবন্ত নিদর্শন।
🌿 কলেরার সময় ও শবদাহের সংকট
শীতকালে ও শীতের শেষে সেই যুগে নোয়াখালিতে প্রায়শই কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটিত। সুধারামপুর শহরের এক দরিদ্র গৃহস্থের কলেরায় মৃত্যু হইলে, রোগের আতঙ্কে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শবদাহের জন্য লোক পাওয়া গেল না।
মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন।
🌿 সেবার আহ্বান ও নিঃশব্দ প্রস্তুতি
সমাজসেবী গোপাল রাজনারায়ণ বাবু শবদাহের সহায়তা খুঁজিতে খুঁজিতে রাত্রি প্রায় আটটার সময় ডাক্তার বসন্ত চক্রবর্তী মহাশয়ের গৃহে আসিলেন, সদানন্দদাকে পাওয়ার আশায়।
দিদিমার প্রশ্ন—
“এই রাতের বেলায় কেন—রোগীর সেবা না মরা পোড়ান?”
একগাল হাসি ছাড়া গোপালদা কিছু বলিলেন না—যেন সেবার কাজ প্রচারের নয়।
🌿 যোগেশ রায় মহাশয় ও শ্মশানের পথে যাত্রা
সদানন্দদাকে সঙ্গে লইয়া তাঁহারা পৌঁছালেন স্বর্গীয় যোগেশ রায় মহাশয়ের বাড়িতে—যিনি শবদাহ কার্য্যে সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ।
সংবাদ শুনামাত্রই তিনি গামছা, কাটারি হাতে প্রস্তুত। শবদাহের আগে অন্নগ্রহণ করিতেন না—চিড়া, মুড়ি ও গুড়ের একটি পুটুলি মাত্র সঙ্গে নিলেন।
মধ্যরাত্রি অতিক্রান্ত হইবার পর তাঁহারা শ্মশানে পৌঁছালেন।
🌿 একাকীত্ব, বৃষ্টি ও নামস্মরণ
ব্রাহ্মণ আনিবার জন্য সকলে চলে গেলে সদানন্দদা একাই শবাধারের পাশে রহিলেন।
অন্ধকার শ্মশানে একটি হ্যারিকেন লণ্ঠন টিমটিম করিতেছে।
নির্ভয়ে তিনি শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রদত্ত মন্ত্র জপ করিতে লাগিলেন।
বৃষ্টি বাড়িলে, শবদেহে জড়ানো পাটিখানা খুলিয়া নিজেকে ঢাকিলেন—শবাধার ছাড়িয়া যাওয়ার উপায় যে নাই।
ইষ্টমন্ত্র জপ করিতে করিতে তিনি শূন্যচিন্তায় মগ্ন হইলেন—এমনকি ঘুমিয়াও পড়িলেন।
🌿 দাহকার্য ও শ্মশানে আহার
পরে সকলে ফিরিয়া আসিলে দাহকার্য সম্পন্ন হইল।
অগ্নিসংযোগের পর দাউ দাউ করিয়া শবাধার জ্বলিতে লাগিল।
তখন যোগেশবাবু চিড়া-মুড়ি-গুড়ের পুটুলি খুলিলেন।
তিনজন শ্মশানের এক পাশে বসিয়া আহার করিলেন—একদিকে মানবদেহের শেষকর্ম, অন্যদিকে নিষ্কাম সেবা ও স্বাভাবিক জীবনধারা।
🌿 ঠাকুরের গৃহে উপস্থিতি ও অলৌকিক উক্তি
ভোরের আলো ফোটার সময় তাঁহারা গৃহের পথে ফিরিতেছিলেন। পথে ভাবিলেন—দূর হইতে ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া যাইবেন।
সেই সময় এক আশ্রিত ভক্তের গৃহে শ্রীশ্রীরামঠাকুর অবস্থান করিতেছিলেন।
তাঁহাদের দেখিয়া ঠাকুর ব্যস্ত হইয়া উঠিলেন, আহারের ব্যবস্থা করিতে বলিলেন।
তাঁহারা বলিলেন—
“এইমাত্র শ্মশান হইতে আসিতেছি, অস্নান অবস্থায় কিছু খাইব না।”
ঠাকুর তখন স্মিত হাসিয়া বলিলেন—
“শ্মশানে বইসা চিড়া গুড় মুড়ি খাইতে তো বাধে নাই।”
সদানন্দদা বিস্মিত—ঠাকুর জানিলেন কেমন করিয়া?
তৎক্ষণাৎ ঠাকুর স্বগত কণ্ঠে বলিলেন—
“পুণ্ডরীকের অজানা কিছুই থাকে না।”
🌼 লীলার তাৎপর্য (Spiritual Insight)
এই লীলা আমাদের শিক্ষা দেয়—
-
গুরুর দৃষ্টি বাহ্য কর্মে নয়, অন্তরের ভক্তিতে
-
নিষ্কাম সেবাই প্রকৃত সাধনা
-
নামস্মরণ ভয় ও অন্ধকারের মধ্যেও সাহস দেয়
-
গুরু সর্বদা ভক্তের সঙ্গে আছেন—দেখা যাক বা না যাক
🌸 উপসংহার
পরম প্রেমময় শ্রীশ্রী রামঠাকুর কেবল অলৌকিক শক্তির আধার নন—তিনি ভক্তির সহজ, মানবিক ও সাহসী পথের দিশারি।
এই লীলা অমৃত আমাদের মনে করায়—
গুরু জানেন, গুরু দেখেন, গুরু রক্ষা করেন।
জয় রাম জয় রাম জয় রাম।
🙏🙏🙏
📌 Blogger SEO Tags (আপনি চাইলে ব্যবহার করুন)
Sri Sri Ramthakur · Ramthakur Lila · Bangla Spiritual Blog · Guru Kripa · Noakhali History · Bhakti Story · লীলা অমৃত





.jpg)
No comments: