শ্রীশ্রী রামঠাকুর : আত্মগোপনের মহাকাব্য
@Subratamajumder
১২৬৬ সনে ধরণীতে নামিল এক ভালো।
ফরিদপুরের ডিঙ্গামানিক, নিভৃত এক গ্রাম,
সেইখানেই আবির্ভাব—শ্রীশ্রী রামঠাকুর নাম।
নিরব শিশুর চোখে যেন অনন্ত আকাশ,
কথা কম, দৃষ্টি গভীর, হৃদয়ে বৈরাগ্য প্রকাশ।
দশ-বারো বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করে,
অজানার পথে পা বাড়ালেন—কেহ তাঁহারে ধরে?
হিমালয়ের বুকে বুকে, দুর্গম গিরিপথ,
তপস্যার অগ্নিতে গলিল জীবনের রথ।
কখনো বনে, কখনো গুহায়, কখনো তুষারছায়া,
আত্মগোপনে কেটে গেল অর্ধেক জীবনের মায়া।
কেহ জানে না ধারাবাহিক কাহিনি তাঁর,
খণ্ড খণ্ড স্মৃতি ঝরে—কথার মাঝে পার।
গুরুগোষ্ঠির ইশারা, অলৌকিক ইঙ্গিত,
নীরবতায় লুকানো ছিল মহাজাগতিক সঙ্গীত।
মাঝে একবার ফিরিলেন দেশে—কয়েকটি বছর,
নোয়াখালী, ফেণী সাক্ষী তাঁর অলৌকিক স্বর।
সর্প থামে তাঁর বারণে, হিংসা পায় বিরাম,
ক্ষুধার্তের অন্ন হন, সেবাই তাঁর কাম।
ফেণীতে নবীনচন্দ্র সেন—কবির বিস্ময়,
দেখেন ক্ষীণাঙ্গ দেহে অসীম তত্ত্বের জয়।
অন্ন না খেয়ে, ফল-দুধে জীবন ধারণ,
পরসেবায় আনন্দ—এ কেমন সাধন?
বারাঙ্গনারাও পায় মাতৃস্নেহের আশ্রয়,
ঘৃণা নয়, করুণাই তাঁর হৃদয়ের পরিচয়।
জেলখানার ইটখোলাতেও প্রেমের প্রদীপ,
যেখানে পড়ে সমাজের অবহেলার ক্ষীণ দীপ।
শাস্ত্র পড়েন নি, তবু প্রণবের ব্যাখ্যা,
জলের মতো সহজ তাঁর তত্ত্বের শিক্ষা।
পেশাদার প্রচার নয়, হৃদয়ের আলো,
শুনিলে মুগ্ধ হয় গৃহিণী, স্বামী—দুই ভালো।
দীর্ঘ নব্বই বছর আত্মগোপনের লীলা,
লোকালয়ে ফিরেও রইলেন নীরব শীলা।
১৩৫৬ সনে বৈশাখের অক্ষয় তৃতীয়া,
চৌমুহনিতে মিলালেন প্রকটলীলা—অতীতা।
নয়, তিনি গেলেন না—রইলেন সবার প্রাণে,
নামে, সেবায়, নীরবতায়, মানব কল্যাণে।
নামই তাঁর রূপ, রূপই তাঁর নাম,
জয় হোক সেই মহাজীবনের—রামঠাকুর নাম।
জয় শ্রীশ্রী রামঠাকুর 
সূত্র: রাম ঠাকুরের কথা





.jpg)
No comments: