গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

সমবুদ্ধি, ভোগ ও প্রকৃত মুক্তি | বেদবাণী (৩৩) ব্যাখ্যা | গীতা-দর্শনের আলোকে

 বেদবাণী প্রথম খণ্ড . (৩৩)

 সমবুদ্ধির দ্বারা দৈহিক গুণজাত প্রারব্ধ ভোগদন্ড ক্ষয় করিতে হয়। ভোগ মোক্ষ হইলেই জীবন দশা প্রাকার মুক্ত হইয়া মানবত্ব চলিয়া যায়। ব্রজবাসী যোগে নিত্য সেবাধীকারীর শক্তির সাহায্যে নিত্যসেবার যোগ লাভ করিতে পারিবেন। যখন যে অবস্থায় যে যে বিষয় আধিপত্য করিয়া মন বুদ্ধিকে চঞ্চল করে তাহা ক্রমশঃ সহিষ্ণুতা শক্তির আবরণ করিয়া অভ্যাসবশে রাখিতে চেষ্টা করিবেন, বিফলতা থাকিবে না। মনের শান্তি সুখাদি যাহা যোগদান করেন সকলি অনিত্য, অস্থায়ী, ভ্রান্তিমাত্র জানিবেন। সর্ব্বদা কেবল পতিগত হইয়া তাহারই উন্মুখ পৃষ্ঠভঙ্গ বর্জ্জিত হওয়াই জীবের পরম ধর্ম্ম।


আপনি কি জানেন—ভোগই একদিন মুক্তির দ্বার খুলে দেয়, আর শান্তির পেছনে ছুটলেই শান্তি হারিয়ে যায়?”
আজ শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্র দেবের বেদবাণী প্রথম খণ্ড (৩৩) আমাদের শেখাবে—কীভাবে সমবুদ্ধি, সহিষ্ণুতা ও ভক্তিযোগে জীবনের প্রকৃত মুক্তি আসে।


সমবুদ্ধি, ভোগ ও প্রকৃত মুক্তি | বেদবাণী (৩৩) ব্যাখ্যা | গীতা-দর্শনের আলোকে



(মূল বক্তব্য 

শ্রীশ্রীঠাকুর বলছেন—
মানুষের জীবনে যে দুঃখ-সুখ, লাভ-ক্ষতি, আনন্দ-বেদনা আসে—সবই দৈহিক গুণজাত প্রারব্ধ ভোগ
এই ভোগ এড়িয়ে যাওয়া যায় না, কিন্তু সমবুদ্ধি দিয়ে গ্রহণ করলে ভোগই একদিন ক্ষয় হয়ে যায়।

ভোগ যখন শেষ হয়, তখন আর জাগতিক টান মানুষকে বাঁধতে পারে না।
তখন জীবন দশা প্রকৃত অর্থে মুক্তির দিকে অগ্রসর হয়—
আর কেবল “মানুষ” নয়, মানুষ হয়ে ওঠে দিব্য মানব

ঠাকুর আরও বলেন—
ব্রজবাসী যোগে, অর্থাৎ নিত্যসেবার আদর্শে,
নিত্য সেবাধিকারীর কৃপাশক্তির সাহায্যে
মানুষ নিত্যসেবার যোগ লাভ করতে পারে।

জীবনের পথে নানা সময়ে নানা বিষয় মন ও বুদ্ধিকে চঞ্চল করে তোলে—
কখনো কাম, কখনো ভয়, কখনো অহংকার।
এই অবস্থায় পালিয়ে নয়,
সহিষ্ণুতা ও অভ্যাসের দ্বারা
মনকে আবরণ দিয়ে স্থির রাখতে হবে।

ঠাকুর স্পষ্ট করে বলেন—
মনের যে শান্তি, সুখ, আনন্দ আমরা অনুভব করি—
সেগুলি অনিত্য, অস্থায়ী ও ভ্রান্তিমাত্র
চিরস্থায়ী সত্য একটাই—
সর্বদা পতিগত হয়ে ভগবানের দিকেই উন্মুখ থাকা।

এটাই জীবের পরম ধর্ম


গীতা-দর্শনের সঙ্গে মিল

Bhagavad Gita আমাদের একই সত্য শেখায়—

🔹 সমবুদ্ধি

“সুখদুঃখে সমে কृत्वা লাভালাভৌ জয়াজয়ৌ”
(গীতা ২.৩৮)
→ সুখ-দুঃখে সমান হলে কর্ম বন্ধন ক্ষয় হয়।
এটাই ঠাকুরের “সমবুদ্ধির দ্বারা প্রারব্ধ ক্ষয়”।

সহিষ্ণুতা ও অভ্যাস

“অভ্যাসেন তু কৌন্তেয় বৈরাগ্যেণ চ গৃহ্যতে”
(গীতা ৬.৩৫)
→ মনকে অভ্যাস ও বৈরাগ্যে বশে আনতে হয়।
ঠিক যেমন ঠাকুর বলেছেন—অভ্যাসবশে সহিষ্ণুতার আবরণ দিতে।

অনিত্য সুখের বোধ

“য়ে হি সংস্পর্শজা ভোগা দুঃখযোনয় এব তে”
(গীতা ৫.২২)
→ ইন্দ্রিয়জাত সুখ দুঃখেরই কারণ, স্থায়ী নয়।
এটাই বেদবাণীর “ভ্রান্তিমাত্র” সুখ।

পতিগত ভক্তি

“সর্বধর্মান পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ”
(গীতা ১৮.৬৬)
→ সম্পূর্ণ শরণাগতিই জীবনের পরম ধর্ম।
ঠাকুরের বাণীর সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্ম।

আজ যদি আমরা এই বাণী হৃদয়ে ধারণ করি—
তবে দুঃখ আমাদের ভাঙবে না,
সুখ আমাদের বাঁধবে না।

সমবুদ্ধি, সহিষ্ণুতা ও পতিগত ভক্তিতেই
ভোগ ক্ষয় হয়,
আর সেখান থেকেই শুরু হয়
প্রকৃত মুক্তির পথ।জয় রাম, জয় গোবিন্দ

বেদবাণীর আলোকে পথ চলা
— শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্র দেবের কৃপায়।

সমবুদ্ধি, ভোগ ও প্রকৃত মুক্তি | বেদবাণী (৩৩) ব্যাখ্যা | গীতা-দর্শনের আলোকে সমবুদ্ধি, ভোগ ও প্রকৃত মুক্তি | বেদবাণী (৩৩) ব্যাখ্যা | গীতা-দর্শনের আলোকে Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on January 16, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.