ভগবানের নিকট সর্ব্বদা থাকিতে চেষ্টা করাই ধর্ম্ম। প্রাক্তন বশতঃ নানান দেশ ঘুরিয়া নানান উপাধি ধারণ করিয়া বেড়াইয়া থাকে। কাহারও কোন ক্ষমতা নাই। যা'র যা'র যে যে প্রারব্ধ (ভাগ্য) ঘটিবে তাহা কেহই ত্যাগ করিতে কি রাখিতে পারে না, ভ্রমবশতঃ কর্ত্তাভিমানে মুগ্ধ হইয়ক এই জগতে নানান বাসনায় বন্ধন হইয়া থাকে। মরভূমে যেমন চতুর্দ্দিকেই জল ভ্রম হয়, অন্বেষণ দ্বারা ক্লান্তি বৈ আর পিপাসা লাঘব হয় না, ইহাও তাহাই। ইদং তীর্থমিদং তীর্থ আপন সুখের পিয়াসে ঘুরিয়া বেড়ায় কিন্তু কোনই উপায় হইতে আশা পরিপূর্ণ হয় না। (সর্ব্বতীর্থ ময়ং দেবী শ্রীগুরুপদ সেবনাৎ) যাহা হউক, যা'র যাহা প্রাক্তনে আছে তাহা ঘটিবেই, তা'র দেবার জন্য চেষ্টা করা বৃথাই আড়ম্বর মাত্র। ...আপনি যদি শ্রীমানদের জন্য কোটি কোটি সংস্থান করিয়া যান, ভাগ্য না থাকিলে তাহাও তাহারা ভোগ করিতে পাইবে না। আর যদি আপনি কিছুই না করিয়া যান তাহা হইলেও ভাগ্যে থাকিলে তাহারা পরম আনন্দে জগতের ধন জন বৈভব সকলি প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবেন, সন্দেহ নাই। যাহা হউক, ভগবানের নামে পড়িয়া থাকিলে ভগবান কোন অভাব রাখেন না, যেহেতুক [তিনি] স্বভাবময়।
বেদবাণীর ব্যাখ্যা (Explain)
১️ ধর্মের প্রকৃত অর্থ
“ভগবানের নিকট সর্বদা থাকিতে চেষ্টা করাই ধর্ম” —
এখানে ঠাকুর স্পষ্ট করে দিচ্ছেন, ধর্ম মানে বাহ্য আচারের আড়ম্বর নয়।
ধর্ম মানে হলো—
👉 মন, চিন্তা ও চেতনাকে সর্বদা ভগবানের সান্নিধ্যে রাখার চেষ্টা।
দেশে দেশে ঘোরা, উপাধি অর্জন, নাম-যশ—এসবই প্রাক্তনের বশে ঘটে, মানুষের নিজস্ব কোনো ক্ষমতায় নয়।
২️ কর্তৃত্ববোধ একটি ভ্রম
মানুষ ভাবে— “আমি করছি”।
কিন্তু ঠাকুর বলছেন—
👉 কারও কোনো ক্ষমতা নেই।
যার যা প্রারব্ধ (ভাগ্য), তাই ঘটবেই।
না তা ত্যাগ করা যায়, না ধরে রাখা যায়।
এই কর্ত্তাভিমানই মানুষকে
ইচ্ছা, বাসনা, মোহের বন্ধনে বেঁধে রাখে।
৩️মরুভূমির জলের ভ্রম — এক গভীর উপমা
মরুভূমিতে যেমন চারদিকে জল দেখায়,
কিন্তু খোঁজ করলে কেবল ক্লান্তি বাড়ে, তৃষ্ণা মেটে না—
ঠিক তেমনই—
মানুষ
👉 তীর্থে তীর্থে, সুখে সুখে ঘুরে বেড়ায়
👉 আশা করে, এবার বুঝি পূর্ণতা আসবে
কিন্তু অন্তরের তৃষ্ণা মেটে না।
এই কারণেই বলা হয়েছে—
“ইদং তীর্থমিদং তীর্থ” —
এ তীর্থ, ও তীর্থ…
কিন্তু প্রকৃত তীর্থ একটাই।
৪️প্রকৃত তীর্থ কোথায়?
বেদবাণী বলে—
“সর্বতীর্থময়ং দেবী শ্রীগুরুপদ সেবনাত্”
অর্থাৎ—
👉 শ্রীগুরুপদের সেবাই সর্বতীর্থ।
গুরুই ভগবানের জীবন্ত প্রকাশ।
৫️ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ভাগ্যের সত্য
মানুষ ভাবে—
আমি সন্তানদের জন্য অনেক কিছু রেখে যাব।
কিন্তু ঠাকুর বলছেন—
-
ভাগ্য না থাকলে কোটি টাকার সংস্থানও ভোগ হবে না
-
আর ভাগ্যে থাকলে, কিছু না রাখলেও সব এসে যাবে
ভাগ্যই মূল, মানুষের আয়োজন গৌণ।
৬️নামস্মরণই নির্ভরতার আশ্রয়
সবশেষে ঠাকুরের আশ্বাস—
👉 ভগবানের নামে পড়ে থাকলে ভগবান কোনো অভাব রাখেন না।
কারণ তিনি
স্বভাবময় —
অর্থাৎ,
দয়া করা তাঁর স্বভাব,
রক্ষা করা তাঁর প্রকৃতি।
ধর্ম, ভাগ্য ও নির্ভরতা — বেদবাণীর আলোকে
ভগবানের নিকট সর্বদা থাকিতে চেষ্টা করাই ধর্ম।
দেশে দেশে ঘোরা, নানান উপাধি ধারণ—এসবই প্রাক্তনের বশে ঘটে।
কারও কোনো ক্ষমতা নাই।
যার যা প্রারব্ধ, তাহাই ঘটিবে—
কেহই তাহা ত্যাগ করিতে বা ধারণ করিতে পারে না।
কর্তৃত্ববোধই মানুষের ভ্রম।
মরুভূমিতে যেমন জলভ্রম ঘটে—
খোঁজে ক্লান্তি বাড়ে, তৃষ্ণা মেটে না—
ঠিক তেমনই মানুষ সুখের খোঁজে তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়ায়,
কিন্তু পূর্ণতা পায় না।
প্রকৃত তীর্থ একটাই—
শ্রীগুরুপদ সেবা।
মানুষ যতই ভবিষ্যতের জন্য সংস্থান করুক—
ভাগ্য না থাকিলে তাহা ভোগ হয় না।
আর ভাগ্যে থাকিলে, কিছু না থাকিলেও সবই আসে।
ভগবানের নামে পড়ে থাকিলে
ভগবান কোনো অভাব রাখেন না—
কারণ তিনি স্বভাবময়।
— শ্রীশ্রী রামঠাকুর
(বেদবাণী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৮)
জয় রাম। জয় গোবিন্দ।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
January 26, 2026
Rating:





.jpg)
No comments: