আপনার একখানা পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচনা করা আর কষ্টসাধ্য হইবে না।” কিন্তু ঠাকুর সম্মত হইলেন না, ঐ এক কথাই বলিলেন, লিখিতে গেলেই সত্যে মিথ্যায় জোট বাঁধিয়া যাইবে। তথাপি কেন যে আজ তাঁহার কথা লিখিতে যাইতেছি, তাহার একটা কৈফিয়ৎ পূর্ব্বেই দিয়াছি, কিন্তু ঠাকুরের কাছে কি জবাব দিব জানি না।
পূর্ব্বেই বলিয়াছি যে আনুমানিক ১৯০২-০৩ খ্রীষ্টাব্দে তিনি কলিকাতা অঞ্চলে ফিরিয়া আসেন। ১৯০৩ খ্রীষ্টাব্দে তাঁহার মাতৃবিয়োগ হয়, সেই সময়ে তিনি কালীঘাটে ছিলেন, দেশে যান নাই। ইহার পর তিনি উত্তরপাড়া ও নিকটবর্তী আরও ২/১টি স্থানে কিছুকাল অবস্থান করেন। হঠাৎ একদিন একবস্ত্রে বাহির হইয়া যান এবং বৎসরাধিক কাল দাক্ষিণাত্যের নানা স্থানে পদব্রজে ভ্রমণ করিয়া ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দের শেষ ভাগে, অথবা ১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দের প্রথম ভাগে দেশে ফিরিয়া আসেন। এই সময় হইতে তাঁহার তিরোভাব পর্য্যন্ত তিনি লোকালয়েই কাটাইয়া গিয়াছেন এবং অযাচিত ভাবে লোকের ঘরে ঘরে যাইয়া তাহাদিগকে ধন্য করিয়াছেন। “অহৈতুকী কৃপাসিন্ধু” কথাটির তাৎপর্য্য তাঁহাকে দেখিয়াই সম্যক্ উপলব্ধি করিতে পারিয়াছি। কত লোক যে তাঁহার শ্রীচরণাশ্রয় পাইয়া কৃতার্থ হইয়াছেন তাহার সঠিক সংখ্যা কাহারও জানা নাই; কিন্তু এই সংখ্যা যে অন্ততঃ লক্ষাধিক হইবেই এরূপ মনে করিবার যথেষ্ট কারণ আছে। চট্টগ্রাম, ফেণী, নোয়াখালী, কুমিল্লা প্রভৃতি অঞ্চলে তিনি সর্ব্বজনবিদিত ছিলেন বলিলেও বোধ হয় অত্যুক্তি হইবে না। হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে তিনি সকলেরই ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। জীবনের শেষের কয়েক বৎসর তিনি চৌমুহনীতেই কাটাইয়া- ছিলেন। তাঁহার দেহত্যাগের পর সেখানেই তাঁহাকে সমাধিস্থ করা হয়। বর্তমানে সেখানে একটি সমাধি-মন্দির নির্মিত হইয়াছে এবং ঐ মন্দিরকে কেন্দ্র করিয়া একটি আশ্রমও প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। ঠাকুরের জীবদ্দশাতেই চট্টগ্রাম পাহাড়তলীতে, তাঁহার পূত জন্মস্থান ডিঙ্গামানিকে এবং কলিকাতার উপকণ্ঠে যাদবপুরে আরও তিনটি আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
January 13, 2026
Rating:





.jpg)
No comments: