জয়রাম 🌺 গুরু কৃপাহি কেবলম্
ঠাকুর অকস্মাৎ শয়নাবস্থা হইতে উঠিয়া আসন করিয়া বসিয়া তীক্ষ্ণকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিলেন— “কি হয়েছে? চক্ষুতে জল কেন?”
জানাইলাম— “পিতাঠাকুর দেহ রেখেছেন।” শোনামাত্র ব্যঙ্গের সুরে বলিলেন— “পিতাঠাকুর দেহ রেখেছেন! কিছু না জেনে, না বুঝে কথা বলবে না। যাও, যাও পিতাঠাকুরের নিকট যাও। এখানে এসো না। দরজা বন্ধ করে যাও।”
ডাক্তার পিতার মৃত সার্টিফিকেট লিখিয়া দিয়া দাহকার্য সম্পন্ন করিতে বলিয়া চলিয়া গেলেন। দাহকার্যের জন্য আমগাছ কাটা আরম্ভ হইল। বাঁশ ও শুকনা লাকড়ি খরিদ করিতে লোক গেল। অপর লোক চন্দন কাঠ, ঘৃতাদি আনিবার জন্য গেল।
তখন ভাবিলাম— পিতাঠাকুর যে দেহ রক্ষা করিয়াছেন বলিয়া ডাক্তার সার্টিফিকেট দিয়াছেন, এই সংবাদ ঠাকুরকে দেওয়া হয় নাই। তখন গিয়া ঠাকুরকে সঠিক সংবাদ জানানো উচিত।
এই মনে করিয়া ঠাকুর ঘরের দরজা খুলিতেই দেখি— ঘরের চালগুলি নাই, আকাশ দেখা যাইতেছে। উপবিষ্ট বিরাট দেহধারী ঠাকুরের মস্তক আকাশ স্পর্শ করিয়াছে। খাটে যোগাসনে উপবিষ্ট ঊর্ধ্বমুখী ঠাকুরের দিকে তাকাইতেই সুদূর আকাশ হইতে বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হইল— “বেরিয়ে যাও।”
বড়দা আমাকে বলিলেন— “ফণী, পিতাঠাকুরকে দাহ করিবার জন্য শ্মশানে নিয়া যাইতেছি, এই সংবাদ ঠাকুরকে দিয়া আস।”
কিন্তু আমি ঠাকুরের যে বিরাটাকার আকাশস্পর্শী মূর্তি দেখিয়াছি, পুনরায় তাঁহার নিকট যাইতে সাহস হইতেছিল না। তবুও যাইতে হইবে— না জানাইয়া দাহ করা যাইবে না।
মনে মনে ঠাকুর ঠাকুর বলিয়া দরজার শিকল খুলিয়া ভিতরে প্রবেশ করিয়া দেখি— আমার স্নেহময় ছোট ঠাকুরই বসিয়া আছেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন— “কেন এসেছ?”
বলিলাম— “দাহ করিবার জন্য পিতাঠাকুরকে শ্মশানে নিয়া যাইতেছি।” ঠাকুর আমার প্রতি তীব্র দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া বলিলেন— “একি বলতাছ? জীবন্ত পিতাঠাকুররে তোমরা দাহ কইরা ফেলবা? কিন্তু কেন? আমি বলছি তুমি যাও, গিয়া পিতাঠাকুরের সেবা শুশ্রূষা কর।”
মহাক্রন্দনের রোল উঠিয়াছে। এমন সময় আমার মনে হইল যেন পিতাঠাকুর একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলিলেন।
আমি আনন্দে উৎফুল্ল হইয়া দৌড়াইয়া ঠাকুরের নিকট যাইয়া জানাইলাম— “পিতাঠাকুর শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলিতেছেন।”
ঠাকুর এই কথা শুনিবামাত্র একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়িয়া বলিয়া উঠিলেন— “আঃ বাঁচা গেল! তোমরা জীবিত পিতাঠাকুরকে দাহ করতে চলছিলা। গুরুবাক্যে পূর্ণ বিশ্বাস রাইখতে হয়।”
“এখন যাও। আজ এ ঘরে তোমারে থাইকতে হইব না। ভোগ নিমু না। তুমি পিতাঠাকুরের নিকট থাইকা তাঁর সেবাশুশ্রূষা কর গিয়া। মধ্যে মধ্যে কমলা লেবুর রস দিবা।”
🌺 জয়রাম 🌺
🙏 গুরু কৃপাহি কেবলম্
“রামভাই স্মরণে”
ফনীন্দ্র কুমার মালাকার
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
মার্চ ০৪, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: