Sri Sri Ram Thakur is a revered spiritual master whose teachings continue to inspire countless devotees across India and around the world. The website serves as a comprehensive digital platform dedicated to preserving, promoting, and sharing the divine life, teachings, philosophy, and spiritual legacy of Sri Sri Ram Thakur, lovingly known as Dayal Thakur, Sri Sri Kaibalyanath, and Sri Sri Satyanarayan by his followers. Born as Ram Chandra Dev in Dingamanik, Faridpur (present-day Bangladesh)

স্মৃতিচারণ—১ | গুরুকৃপা—একটি কাহিনী

স্মৃতিচারণ—১ | গুরুকৃপা—একটি কাহিনী

🌺 স্মৃতিচারণ—১ 🌺

গুরুকৃপা—একটি কাহিনী

শ্রীমোহন্ত মহারাজ (শ্রীভবতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়)
শ্রীশ্রীঠাকুরের ১২৫তম জন্মোৎসব উপলক্ষে মাইজদীস্থিত জন্মোৎসব মন্দির থেকে প্রকাশিত ‘স্মরণিকা’ (১৯৮১) থেকে সংগৃহীত।


📍 যাদবপুর জন্মোৎসব প্রাঙ্গন, পশ্চিমবঙ্গ

নাম গ্রহণ অনুষ্ঠান চলছে। ভক্তবৃন্দের প্রচুর ভীড়। একে একে সকলে নাম গ্রহণ করে আনন্দচিত্তে ঘরে ফিরলেন। কিন্তু সর্বালঙ্কারে বিভূষিতা চারুলোচনা এক মহিলা মন্দিরের এক কোণে প্রথম থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। সকলেই চলে গেলেও তাঁর মধ্যে যাওয়ার তাগিদ অনুভূত হলো না।

মহারাজ বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন। আসন ত্যাগ করে নিজ স্থানে ফিরতে উদ্যত হলে, সেই মহিলা এগিয়ে এসে বললেন — “বাবা, আমি আপনার কাছে কিছু কথা বলবো। শুনতে হবে।”

মহারাজ অভয় দিলেন। তখন তিনি তাঁর কাহিনী নিবেদন করলেন।


🌊 নদীর ওপারে রামসাধু

পাশাপাশি দুটি গ্রাম। মাঝে একটি ছোট নদী। ওপারের গ্রামে রামসাধু এসেছেন — খবর বাতাসের আগেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আমার শাশুড়ী দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরের কাছ থেকে নাম গ্রহণের জন্য আকুল ছিলেন। কিন্তু দারিদ্র ছিল প্রধান প্রতিবন্ধকতা। পরনে ছেঁড়া কাপড়, খেয়াপারের পয়সাও নেই। প্রতিবেশীরা সবাই নদী পেরিয়ে ঠাকুর দর্শনে যান, আর তিনি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অশ্রু বিসর্জন করেন।

একদিন অপরাহ্নে দেখা গেল, কৃষকায় শান্ত সৌম্য এক প্রৌঢ় ব্রাহ্মণ এপারের খেয়াঘাটে নামলেন। মাঝি জানালেন — তিনিই রামসাধু।

ভক্তরা তাঁর পেছনে পেছনে চললেন। তিনি এলেন আমাদের উঠোনে। শাশুড়ীকে ডেকে বললেন —

“মা, আমি নাম দিতে এসেছি। নাম গ্রহণ করুন।”

ছিন্ন বসনা অবস্থায় শাশুড়ী ইতঃস্তত করছিলেন। কিন্তু ঠাকুর সেই অবস্থাতেই তাঁকে নাম গ্রহণে আহ্বান করলেন। তিনি ভক্তিভরে মন্ত্র গ্রহণ করলেন।


🙏 এক মায়ের আকুল প্রার্থনা

ঠাকুর ফিরে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ শাশুড়ী তাঁর শ্রীচরণ জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন —

“বাবা, এক বছর আগে আমার তিন বছরের ছেলে মারা গেছে। আপনি যখন এত অনুগ্রহ করলেন, আমার সেই ছেলেটিকেও ফিরিয়ে দিন।”

ঠাকুর মুহূর্তের জন্য নীরব হলেন। তারপর ধ্যানস্থ হলেন। কিছুক্ষণ পরে বললেন —

“মা, অচীরেই তোমার হারানো ছেলে তোমার গর্ভে ফিরে আসবে।”

ঠাকুর চলে গেলেন। তিন বছর পর শাশুড়ী সন্তান সম্ভবা হলেন। নির্দিষ্ট সময়ে জন্ম নিল এক পুত্র। সেই মুখমণ্ডল, সেই কান্তি—পার্থক্য কোথাও নেই। পূর্বের মৃত সন্তানই যেন ফিরে এলো।


🌸 কাহিনীর উপসংহার

মহিলা বললেন — “আমি সেই পুত্রেরই বধূ। আজ আমাদের সব আছে। আশীর্বাদ করবেন আমরা যেন ঠাকুরের শ্রীচরণে আশ্রিত থাকি।”

এই ঘটনা বলতে বলতে মহারাজ অশ্রুবিজড়িত কণ্ঠে বললেন —

“আমি এমনই দুর্ভাগ্য যে, মহিলাটির ঠিকানাটা পর্যন্ত জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি।”

✨ চিরন্তন বাণী

যেই জন মনে প্রাণে ভজে রাম নাম ঘরে বসে পায় সে কৈবল্যধাম।

🎥 ভিডিও দর্শন করুন

স্মৃতিচারণ—১ | গুরুকৃপা—একটি কাহিনী স্মৃতিচারণ—১ | গুরুকৃপা—একটি কাহিনী Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.