গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

শ্রীশ্রীরামঠাকুর শ্রীশ্রীরামঠাকুর (১৮৬০ – ১৯৪৯), যিনি শ্রীশ্রী রামচন্দ্র দেব নামেও পরিচিত, ছিলেন বাংলার এক আধ্যাত্মিক সাধক ও ধর্মপ্রচারক। ভক্তদের কাছে তিনি “যুগাবতার”, “কৈবল্যনাথ” ও “সত্যনারায়ণ” রূপে পূজিত হন।

 

শ্রীশ্রীরামঠাকুর




>শ্রীশ্রীরামঠাকুর (১৮৬০ – ১৯৪৯), যিনি শ্রীশ্রী রামচন্দ্র দেব নামেও পরিচিত, ছিলেন বাংলার এক আধ্যাত্মিক সাধক ও ধর্মপ্রচারক। ভক্তদের কাছে তিনি “যুগাবতার”, “কৈবল্যনাথ” ও “সত্যনারায়ণ” রূপে পূজিত হন। কুসংস্কারমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আহ্বানে তাঁর বাণী ও ত্যাগ আজও বহু ভক্তকে অনুপ্রাণিত করে।

মূল তথ্য

  • জন্ম: ২ ফেব্রুয়ারি ১৮৬০, ডিঙ্গামানিক, শরীয়তপুর, বাংলাদেশ

  • পরলোকগমন: ১ মে ১৯৪৯, চৌমুহনী, নোয়াখালী

  • পরিচিত উপাধি: যুগাবতার, কৈবল্যনাথ, সত্যনারায়ণ

  • মূল আশ্রম: কৈবল্যধাম (চট্টগ্রাম), ডিঙ্গামানিক ও যাদবপুর আশ্রম

  • প্রধান উৎসব: আবির্ভাব তিথি ও মহন্ত উৎসব

প্রারম্ভিক জীবন ও সাধনা

শ্রীশ্রীরামঠাকুরের পিতা ছিলেন সাধক রাধামাধব চক্রবর্তী এবং মাতা কমলাদেবী। অল্প বয়সেই তিনি গুরু মৃত্যুঞ্জয় ন্যায়পঞ্চাননের কাছ থেকে আধ্যাত্মিক দীক্ষা পান। বারো বছর বয়সে তপস্যার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করে তিনি বিভিন্ন তীর্থে ভ্রমণ করেন, শেষে গুরুর নির্দেশে হিমালয় ও কামাক্ষ্যা মন্দির অঞ্চলে দীর্ঘ সাধনায় লিপ্ত হন। পরে গৃহে ফিরে তিনি নিঃস্বার্থ সেবাকর্ম ও ভক্তি প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজভাবনা

তিনি হিন্দু, মুসলিম নির্বিশেষে সকল মানুষের ঐক্য ও সত্যপথে আগ্রহী ছিলেন। বর্ণবৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরোধিতা করে নিজ হাতে সব জাতের মানুষকে আহার দিতেন, যা তৎকালীন সমাজে বিরল ঘটনা। তাঁর উপদেশ ছিল নৈতিক জীবন, সত্যভাষণ ও ঈশ্বরস্মরণ।

উত্তরাধিকার ও তীর্থস্থান

চট্টগ্রামের কৈবল্যধাম, শরীয়তপুরের ডিঙ্গামানিক, এবং কলকাতার যাদবপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আশ্রমগুলো আজও সক্রিয়। প্রতি শুক্রবার কৈবল্যধামে প্রায় দশ হাজার ভক্ত সমবেত হন; ডিঙ্গামানিকের ২২ একর এলাকাজুড়ে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ সেবামন্দির তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করছে। দেশে-বিদেশে তাঁর লক্ষাধিক অনুগামী ও মন্দির বিদ্যমান।



প্রভাব ও স্মরণ

ভক্তদের মতে, শ্রীশ্রীরামঠাকুর কলিযুগের ত্রাতা, যিনি সত্য, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ও প্রবাসে তাঁর আবির্ভাব-মহোৎসব ভক্তিসঙ্গীত, নামযজ্ঞ ও সেবা-কার্যক্রমে উদযাপিত হয়; নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে বার্ষিক মহোৎসব তাঁর বৈশ্বিক প্রভাবকে তুলে ধরে।

বেদবাণীর আলোকে — কবিতা 

(শ্রীশ্রীরামঠাকুরের ভাবানুসরণে)

সংসারে মান–অভিমান নামাও হৃদয়তল,
সরলতার জলে ধুয়ে যাক অহংকারের মল।
বন্ধুত্বে বুনি যে হাত, আপ্যায়তায় প্রাণ,
সহিষ্ণুতার শক্তিতেই জাগে পরম জ্ঞান।

যে দোষ চোখে পড়ে আজি, ভেবো ভাগ্যলব্ধ,
নিজ দন্তে নিজ জিভে কাটা—তাতেই সত্য সিদ্ধ।
অপরের প্রতি দোষারোপ বৃথা ক্লেশের ঢেউ,
ক্ষমার আলো জ্বালালে তবু অমিত্র থাকে কেউ?

নিরপেক্ষ, নির্জন হয়ে চিন্তার ভার ছাড়,
চাওয়া–পাওয়ার হিসাব ছিঁড়ে মুক্ত হোক সংসার।
মিত্র–অমিত্র এক করে বহন করো ভার,
তাতেই মিলবে ঋণমুক্তি, শান্তির অক্ষয় দ্বার।

সহিষ্ণুতা—এই শক্তিতেই মুছে যায় সব দাগ,
মার্জনায় মন শুদ্ধ হলে নীরব সুখের ভাগ।
বেদবাণীর এই পথেই শান্তি চিরকাল,
শ্রীশ্রীরামঠাকুর-এর বাণী—জীবনের

 জয় রাম · জয় গোবিন্দ 

শ্রীশ্রীরামঠাকুর শ্রীশ্রীরামঠাকুর (১৮৬০ – ১৯৪৯), যিনি শ্রীশ্রী রামচন্দ্র দেব নামেও পরিচিত, ছিলেন বাংলার এক আধ্যাত্মিক সাধক ও ধর্মপ্রচারক। ভক্তদের কাছে তিনি “যুগাবতার”, “কৈবল্যনাথ” ও “সত্যনারায়ণ” রূপে পূজিত হন। শ্রীশ্রীরামঠাকুর শ্রীশ্রীরামঠাকুর (১৮৬০ – ১৯৪৯), যিনি শ্রীশ্রী রামচন্দ্র দেব নামেও পরিচিত, ছিলেন বাংলার এক আধ্যাত্মিক সাধক ও ধর্মপ্রচারক। ভক্তদের কাছে তিনি “যুগাবতার”, “কৈবল্যনাথ” ও “সত্যনারায়ণ” রূপে পূজিত হন। Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on December 25, 2025 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.