গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

গর্ব্বহারী ভগবান কারো গর্ব্ব অভিমান থাকতে দেন

 

ঠাকুরমহাশয়ের ফেনী দর্শন — এক নবীন ছাত্রের অভিজ্ঞতা | শ্রীশ্রী রামঠাকুর লীলা

ঠাকুরমহাশয়ের ফেনী দর্শন — এক নবীন ছাত্রের অভিজ্ঞতা

প্রকাশিতঃ • লেখক: Subrata Majumder • বিভাগ: ভক্তিলীলার কাহিনী
ঠাকুরমহাশয় ও নবীন ছাত্র — শ্রীশ্রী রামঠাকুরের লীলা

পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর বছর আগেকার ঘটনা।
ঠাকুরমহাশয় দীর্ঘদিন বাদে এসেছেন ফেনী শহরে। খবরটি স্বাভাবিকভাবেই জানাজানি হতে লাগল ছোট্ট শহরটিতে। সেই জানার ঢেউ কানে এসে পৌঁছূল জপসা গ্রাম থেকে আসা ফেনী কলেজের এ বছরের ভর্তি হওয়া আই.এ. প্রথম বৎসরের ছাত্রটির কানেও। গ্রাম থেকে যখন শহরের জীবনে আসেন তখন তার ঠাকুরমা ও পিতা-মাতার কথা মনে পড়ছিল, তারা বলেছিলেন ফেনীতে রামঠাকুরমহাশয় মাঝে মাঝে আসেন, খোঁজ খবর রাখিস একবার তাঁর দর্শন পাওয়ার জন্য।

শিশুকাল থেকে ঐ ছাত্রটি শুনে এসেছেন রামঠাকুরের কথা। দু'একবার ঠাকুর জপসা গ্রামেও গিয়েছেন। ঐ গ্রামেই ছিলেন ঠাকুরমহাশয়ের পিতৃদেব রাধামাধব চক্রবর্তী মহাশয়ের ও তাঁহার মাতা-ঠাকুরানীর কুলগুরু। পিতৃবিয়োগের পর ঠাকুরমহাশয় তাঁহার শোকাতুরা মাতা কমলাদেবীকে নিয়ে কয়েক বারই গিয়েছেন জপসায়। তখন ঠাকুরমহাশয়ের বয়স সাত বছরের কাছাকাছি। ঠাকুরমহাশয়ের পিতা-মাতার কুলগুরু আর এই ছাত্রটির সম্পর্ক ওদের বাড়িতে আলোচিত হতো। ছাত্রটির বাড়িতে আলোচনার সময় তার পূর্বপুরুষ সগৌরবে বলতেন, রামঠাকুরের বাবা-মা তাদের দশ-রাত্রির জ্ঞাতি। ঠাকুরমহাশয়ের পিতা-মাতার কুলগুরু এবং তারা জ্যাঠতোতো খুড়তোতো ভাই।

ছাত্রটি রাত্রে অনেকক্ষণ ভাবলেন ঠাকুরমহাশয় সম্পর্কে তাদের বাড়িতেই যা যা আলোচনা হয়েছে সে সব কথা। পরদিন থেকে তিনি তৎপর হয়ে উঠলেন ঠাকুরমহাশয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার জন্য। অনেককে তিনি অনুরোধ করেছিলেন ঠাকুরমহাশয়ের কাছে যাওয়ার সময় তিনি যেন তাকে একটু দয়া করে নিয়ে যান। কিন্তু তা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি কারণ তারা আপন কর্মস্থল থেকেই সোজা চলে যেতেন ঠাকুরমহাশয়ের কাছে। নবীন যুবকটি একথাও শুনেছেন যে ঠাকুরমহাশয়ের স্থিতি সর্বত্রই প্রায় স্বল্পকালীন। সুতরাং আর অপেক্ষা করা নয়।

পরদিন সকালবেলা ছাত্রটি তার এক সহপাঠীর সঙ্গে গিয়ে ঠাকুরমহাশয়ের আবাসস্থল দেখে এলেন। দুপুর কাটল কলেজে। বিকেলে একলা শুধু সাহসের উপর নির্ভর করে প্রবেশ করলেন সেই বাড়িতে। বাড়ির লোক ঠাকুরমহাশয়ের ঘরখানা দেখিয়ে দিলেন। এবার নবীন যুবকটি দুরু দুরু বক্ষে ঠাকুরমহাশয়ের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হলেন। দেখলেন, ঘরে দশ-পনেরো জন নর-নারী বসে আছেন আর ঠাকুরমহাশয় বলে যাচ্ছেন সাবিত্রী-সত্যবানের কথা। পরিণত বয়সেরই নর-নারী ওখানে উপস্থিত। সুতরাং তার প্রবেশ করা কী সমীচীন হবে? অথচ মনের দুর্বার আকর্ষণ এবার ঠাকুরমহাশয়ের দর্শন লাভের।

সহসা ঠাকুরমহাশয়ের একটানা কন্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে গেল। বিছানা ছেড়ে ওঠে দাঁড়ালেন ঠাকুরমহাশয়। দু'পা এগিয়ে ঠাকুরমহাশয় বললেন, "আপনি খাড়াইয়া আছেন?" আর সঙ্গে সঙ্গেই ঠাকুরমহাশয় তার দুইচরণে প্রণাম করলেন। টলছে যুবকটির সারা দেহ। কন্ঠ, তালু সব শুকিয়ে গেছে। ঠাকুরমহাশয় নবীন যুবকটির দুই কম্পমান হস্ত ধরে নিয়ে এলেন সযত্নে তাঁর শয্যার পাশে। অতি দ্রুতহস্তে ঠাকুরমহাশয় উল্টে দিলেন তাঁর ব্যবহৃত বিছানার চাদরখানা। দু'হাত দিয়ে মার্জনা করলেন তাঁর ব্যবহৃত বিছানা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে। পরে ঐ যুবকটিকে বসালেন তাঁর নিজ শয্যায়। উপস্থিত নরনারীর চোখমুখে আশ্চর্যের চিহ্ন ফুটে ওঠেছে আর নবীন যুবকটি বিহ্বল, একটি হাড়-মাংসের স্তুপ।

ঠাকুরমহাশয় আবার দ্রুত চলে গেলেন বাড়ির ভিতরে। প্রসাদ না হওয়া এমন কোনও খাদ্যবস্তু যদি ঘরে থাকে তাহলে তা এক্ষুনি যেন কেটে দেন গৃহিণী--কাতর কন্ঠে ঠাকুরমহাশয় বললেন। ভদ্রমহিলাও ফল ধুয়ে, কেটে এবং আজ মধ্যাহ্নে যে নারকেল-ছাপা উনি তৈরী করেছিলেন তা নিয়ে যেতে উদ্যত হলেন। ঠাকুরমহাশয় তখন তাকে বাধা দিয়ে বললেন--না মা, এইখানে আমারেই দিয়া আসতে হইব। ঠাকুরমহাশয় একখানা টুলের উপর রাখলেন ঐ ফল-মিষ্টান্ন নবীন যুবকটির সামনে। পরে এক গ্লাস জলও এনে রাখলেন ঐ টুলেরই এক পাশে। করজোড়ে ঐ নবীন যুবকটিকে বললেন, আপনি দয়া কইরা একটু খান। যন্ত্রচালিতের মত যুবকটি খেয়ে গেলেন।

হাত বাড়িয়ে ঠাকুরমহাশয় কাঙালের মত বললেন, "আমার তো কিছুই নাই।আপনেরা যদি কেউ পারেন আমারে দুই একটা টাকা দিবেন?" সঙ্গে সঙ্গে দু'একজন ঠাকুরের হাতে টাকা তুলে দিলেন। ঠাকুর আনত শিরে যুবকটির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যেই তার জলযোগ সমাপ্ত হলো সঙ্গে সঙ্গেই ঠাকুরমহাশয় সংগৃহীত অর্থ তার হাতে দুইচরণে রেখে দুইচরণে প্রণাম করলেন। উপস্থিত নরনারী শুনছেন শুধু আপন নিঃশ্বাস। এবার ঠাকুরমহাশয় একজনকে বললেন, "আপনি একটু চেষ্টা কইরা দেখেন, একখানা ঘোড়ার গাড়ী পান কিনা। পাইলে নিয়া আসেন।"

ভাগ্যক্রমে গাড়ি দরজায় এসে গেল। ঠাকুরমহাশয় এতক্ষণ দাঁড়িয়েই ছিলেন নির্বাক যুবকটির পাশেই, করজোড়ে বললেন, "আমারে দিয়া আপনের যদি কোন কাম হয় তবে আপনি কষ্ট কইরা আসবেন না। প্রমথনাথ (অধ্যাপক প্রমথনাথ চক্রবর্তী), আপনি যেই কলেজে পড়েন, সেই কলেজেই তো পড়ান, তারে একটু বইলা দিবেন আমি আপনের লগে গিয়া দেখা করুম আর আপনের কাজ সাধ্যমতন করতে পারলে আমি বড়ই উপকৃত হইতাম।"

এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে একটি কথা বলারও মত তার শক্তি ছিল না। যেমন নির্বাক হয়ে তিনি এই ঘরে প্রবেশ করেছিলেন তেমনই নীরবে ঠাকুরমহাশয়ের হাত ধরে নিজের একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও এবার গাড়িতে উঠে বসলেন ঠাকুরমহাশয়ের কথা মত। আবার ঠাকুরমহাশয় ভিক্ষার জন্য হাত বাড়ালেন। একজন একটা টাকা দিলেন। ঠাকুরমহাশয় নিজ হস্তে কোচওয়ানকে তা দিয়ে বললেন, "ফেরৎ পয়সা আর আমারে দিতে হইবে না। বাকি পয়সায় আপনি কিছু কিন্যা খাইয়েন।"

জয় রাম। জয় গোবিন্দ।

 গর্ব্বহারী ভগবান কারো গর্ব্ব অভিমান থাকতে দেন
"জীবের ইচ্ছা কোটী বাঞ্ছা করে। কৃষ্ণের যে ইচ্ছা সেই ফল ফলে।।"


ইহা মহাজনের বাক্য, অভ্রান্ত।
~ বেদবাণী, ৩য় খণ্ড, পত্রাংশ ১৩৬।

🙏
  • গভীর অর্থবোধক:

    • গর্ব্বহারী ভগবানের বিধান: কোটি বাঞ্ছা বনাম কৃষ্ণের ইচ্ছা।

    • জীবের ইচ্ছা ও ভগবানের ফল: অভিমান মুক্তির পথ।

    • নিয়তির বিধান: কেন গর্ব্ব অভিমান টিকতে পারে না?

  • আকর্ষণীয় ও প্রশ্নবোধক:

    • আপনার কোটি বাঞ্ছার ফল কি সত্যিই আপনার হাতে?

    • কে আপনার জীবনের আসল ফলদাতা? - গর্ব্বহারী ভগবানের রহস্য।

    • অভিমান: পতনের কারণ নাকি ভগবানের লীলা?

  • সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ:

    • গর্ব্বহারী ভগবান ও চরম সত্য।

    • কৃষ্ণের ইচ্ছা: জীবনের শেষ কথা।

    • বাঞ্ছা নয়, কৃষ্ণই ফলদাতা।



  • মুখ্য বিষয়:
    উক্তিটির দুটি অংশকে বিশ্লেষণ করা।

    • প্রথম অংশ: "গর্ব্বহারী ভগবান কারো গর্ব্ব অভিমান থাকতে দেন" (আসলে হবে "গর্ব্বহারী ভগবান কারো গর্ব্ব অভিমান থাকতে দেন না")

      • ব্যাখ্যা: এর অর্থ হলো ঈশ্বর (ভগবান) অহংকার বা গর্বকে সহ্য করেন না। তিনি এমন সব পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন, যার মাধ্যমে মানুষের অহংকার চূর্ণ হয় এবং সে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।

      • গুরুত্ব: জীবনে আসা বাধা, ব্যর্থতা বা অপ্রত্যাশিত মোড় - এগুলি প্রায়শই ভগবানের একটি লীলা, যার উদ্দেশ্য হলো জীবকে নম্রতা শেখানো এবং 'আমিই সব করি' এই মিথ্যা অহং থেকে মুক্তি দেওয়া।

    • দ্বিতীয় অংশ: "জীবের ইচ্ছা কোটী বাঞ্ছা করে। কৃষ্ণের যে ইচ্ছা সেই ফল ফলে।।"

      • ব্যাখ্যা: মানুষ শত শত, কোটি কোটি ইচ্ছা পোষণ করতে পারে, কিন্তু ফলস্বরূপ কেবল সেটাই ঘটে যা ঈশ্বরের (কৃষ্ণের) ইচ্ছা।

      • গুরুত্ব: এটি কর্মফল এবং নিয়তির চূড়ান্ত সত্যকে নির্দেশ করে। এটি মানুষকে শেখায় যে নিজের চেষ্টার পাশাপাশি চূড়ান্ত ফল ভগবানের হাতে সমর্পণ করা উচিত। মানুষের স্বাধীনতা হলো চেষ্টা করা, কিন্তু তার ফলের ওপর তার কোনো একচ্ছত্র অধিকার নেই।

  • উপসংহারের মূল ভাবনা:

    • গর্ব্ব অভিমান ত্যাগ করে ঈশ্বরের চরণে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শান্তি লাভ করা যায়।

    • মানুষের কোটি বাঞ্ছা থাকলেও, ভগবানের ইচ্ছাই জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে।


 

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অমৃত বাণী — জীবন, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অমৃত বাণী — জীবন, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২৫ • লেখক: Subrata Majumder

নীচে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের জীবনোপযোগী বাণীগুলো দেয়া হল — প্রতিটি বাণী ছোট, স্পষ্ট এবং আধ্যাত্মিকভাবে অনুশীলনযোগ্য।

অমৃত বাণীসমূহ

  • তোমার জন্য তুমি নও, অপরের জন্য তুমি হও।
  • ফুল তুলসী গঙ্গাজলের ন্যায়—সেবা, ত্যাগ, প্রেম, ভক্তি ও নাম হল সেবার উপকরণ।
  • ভগবৎ মাধুর্য্য দিয়েই ভগবৎ সেবা, পূজা ও তৃপ্তির কারণ হয়।
  • বেদ-বিধি ঐশ্বর্যে ভগবৎ কৃপা লাভ করা যায় না; ঈশ্বরেও একাত্ম হওয়া যায় না।
  • ঈশ্বরকে সকলেরই চাই, কিন্তু তিনি ধরা দেন কেবল ভাল ও পবিত্র মানুষে।
  • লাইগ্যা থাকলে মাইগ্যা খায় না — অস্থির চিত্তে কিছুই হয় না; যা করবেন নিষ্ঠা নিয়ে করুন।
  • বংশে কারো ভগবৎ চেতনা এলে তাঁর সাত প্রজন্ম উদ্ধার হয়।
  • ভালবাসুন — ভাল করুন — ভাল হোন।
  • সত্যনারায়ণের চরণে নিজ কর্তৃত্ব, অহংকারসহ সকল কিছু সমর্পণ—এটাই গুহ্য মাহাত্ম্য।
  • ডিগ্রী নয়, শিক্ষাতেই মানুষ হয়; পুঁথিগত পার্থিব বিদ্যা হল অবিদ্যা।
  • সাধু সাজবেন না—সাধু হন।
  • না দেখবে কারো দোষ, না লইবে কারো রোষ; আপনি হোন সাবধান।
  • লক্ষ্যে ভগবান থাকলে তিনিই টেনে নিয়ে যান—লক্ষ্যই আসল।
  • অপরের দোষ দেখতে অভ্যস্ত হলে নিজ দোষ দেখতে পারবে না।
  • সংসারে 'আমি' বলতে কেউ নেই; সত্যিকারের আত্মজ্ঞানে 'আমার কিছু নাই' আসে।
  • কর্তাভিমানীর মহাবিপদ—না পারে করতে, না পারে দিতে বা এগোতে ব্যর্থতা।
  • ভগবান বিভিন্ন ধর্ম, নামে ও রূপে প্রকাশ — সকল পথ ও মতকে শ্রদ্ধা করা উচিত।
  • ধ্রুব সত্য: আগের জীবনের ভিত্তি এই জীবনে এবং ভবিষ্যতের জীবনও এই জীবনের থেকে নির্ধারিত হবে।
  • একমাত্র ভগবৎ শরণেই শান্তি; প্রলোভন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের অশান্তি ত্যাগ করা।
  • ঈশ্বরের করুণা লাভ করতে শুচিতা-নিয়ম-উপকরণ লাগে না; নাম, প্রেম, ভক্তি ও নির্ভরতা মুখ্য।
  • সুকৃতিতেই সদগুরু লাভ হয়; শেখায় জন্ম-মৃত্যুর চক্র পাড় হয়ে শিবলোকে যাওয়ার পথ।

কীভাবে পড়বেন ও প্রয়োগ করবেন

প্রতিটি বাণীকে ধীরে ধীরে মনন করুন। ছোট ছোট ধাপে জীবনযাপে প্রয়োগ করুন — সেবা আর নম্রতাকে দৈনন্দিন অভ্যাস করুন।

প্রস্তাব: প্রতি দিন একটি বাণী নিজে হাতে লিখে মনন করুন এবং নিজের দৈনন্দিন কাজের মধ্যে তা প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন। পরিশেষে এ অভ্যাস জীবন বদলে দিতে পারে।

লেখক: Subrata Majumder • ভাগ করুন যদি উপকৃত হন • ট্যাগ: শ্রীশ্রী রামঠাকুর, ভক্তি, বাণী, আধ্যাত্মিকতা

যার যা প্রাপ্য তা সম্পূর্ণভাবে মিটিয়ে দিবেন আগে — শ্রীশ্রী রামঠাকুর | জয় রাম জয় গোবিন্দ

যার যা প্রাপ্য তা সম্পূর্ণভাবে মিটিয়ে দিবেন আগে — শ্রীশ্রী রামঠাকুর

জয় রাম • জয় গোবিন্দ  |  উৎস: শ্রুতিতে রামঠাকুর — ফনীভূষণ চক্রবর্ত্তী (পৃষ্ঠা ১১৪)
“যার যা প্রাপ্য তা সম্পূর্ণভাবে মিটিয়ে দিবেন আগে। পরে থাকলে খাবেন, না থাকলে শুকুবেন। এই কথাটা যেন সারা জীবনে কখনও না ভুলেন।”
— শ্রীশ্রী রামঠাকুর

ঠাকুর মহাশয় একবার পাচককে নির্দেশ দিলেন — নিজের ও ভৃত্যের জন্য প্রথমে যথেষ্ট আহার্য্য রেখে বাকিটা অতিথিদের পরিবেশন করতে। এরপর তারা দেখল ঠাকুর স্বহস্তে শয্যা তৈরি করে বসে আছেন এবং দর্শকদের কাছে মন দিয়ে কয়েকটি অনুপ্রেরণামূলক কথা বললেন।

কাহিনী (Main Script)

ঠাকুর মহাশয় উঠে গিয়ে পাচককে বললেন যে, সে যেন নিজের এবং ভৃত্যটির জন্য প্রচুর পরিমাণে আহার্য্য রেখে বাকিটা পরিবেশন করেন ইনাদের। আহার শেষে মুখ ধুয়ে ওরা রাস্তায় গিয়েছিলেন ধূমপান করতে। তারা ফিরে এসে দেখলেন ঠাকুর মহাশয় স্বহস্তে শয্যা প্রস্তুত করে রেখেছেন এবং বসেও আছেন অপর একটি শয্যার উপরে। সাত জন এসে বসলেন ঠাকুরের কাছে এবং শুনলেন মন দিয়ে ঠাকুরের কয়টি কথা।

ঠাকুরের উপদেশ

“যতদিন পৃথিবীতে থাকবেন কাহাকেও এক কপর্দকণ্ড বঞ্চনা করবেন না। যার যা প্রাপ্য তাকে তা সম্পূর্ণ ভাবে মিটিয়ে দেবেন আগে। পরে থাকলে খাবেন, না থাকলে শুকুবেন — সেটা বেদনার নয়, সেটা পরম সুখের সোপান।”

“বঞ্চনা করলে এইজন্মে না হোক পরবর্তী জন্ম-জন্মান্তরেও সেই বঞ্চিত অর্থ চক্রবৃদ্ধি সুদে আসলকে অনেকগুণ ছাড়িয়ে যাবে। ঋণ শোধের জন্য আসা-যাওয়া থাকবে অব্যাহত। বরং নিজে বঞ্চিত হওয়া অনেক ভালো অন্যকে বঞ্চিত করার চেয়ে। এই কথাটা যেন সারা জীবনে কখনও না ভুলেন।”

বর্ণনা ও প্রাসঙ্গিকতা

ঠাকুর here places emphasis on moral economy — অন্যকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না করা এবং প্রয়োজনে নিজে ত্যাগ স্বীকার করা। এই দর্শন কেবল আধ্যাত্মিক তাঁরা নয়, সমাজিক ন্যায়বিচারেরও একটি প্রাঞ্জল নির্দেশিকা।

শিক্ষণ (Education / Moral Lessons)

  1. ন্যায়বিচার প্রথমে: যে-কারো প্রাপ্যতা আগে মেটিয়ে দিলে সমাজে সমতা ও শান্তি বজায় থাকে।
  2. স্বার্থের উপর বঞ্চনা: নিজের স্বার্থের চেয়ে অন্যের অধিকারকে প্রাধান্য দিলে জীবনে প্রকৃত আত্মতৃপ্তি আসে।
  3. ঋণ ও পারিণামিকতা: অযথা অন্যকে বঞ্চিত করলে তার ফল বহু জন্মে লঙ্ঘিত রূপে ফিরে আসতে পারে।

কেন এই শিক্ষা গুরুত্বপূর্ন?

সহজভাবে বললে — সামাজিক সেতুবন্ধন ও মানবীয় করুণা বজায় রাখতে এই বাণী অতি প্রয়োজনীয়। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি নৈতিক শিক্ষার একটি সরাসরি উদাহরণ, যেখানে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং সেবা-চেতনা প্রথম সারিতে।

প্রয়োগ (Practical Applications)

শিক্ষক, অভিভাবক, ও সম্প্রদায়ের নেতাদের জন্য কয়েকটি বাস্তব পরামর্শ:

  • স্কুল বা পরিবারের অনুদান, রেশন ইত্যাদি যখন বিতরণ করবেন, প্রত্যেকের প্রাপ্যতা যাচাই করে আগে দেন।
  • শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাগাভাগি ও ন্যায্যতার শিক্ষণ সচেতনতা বাড়ান— ছোটবেলা থেকেই শেয়ারিংয়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের অাহার্য্য বা স্বাচ্ছন্দ্য সাময়িক বঞ্চিত করে অন্যকে অগ্রাধিকার দিন—দীর্ঘমেয়াদে সেটাই শান্তি ও তৃপ্তি দেয়।

উপরিশেষ (End Script / Closing)

আজ সকালে আপনার হৃদয়ে এই ঠাকুরবাণীটিকে নিয়ে নিন—"যার যা প্রাপ্য তাকে আগে দিন। পরে থাকলে খাবেন, না থাকলে শুকুবেন।" মনে রাখবেন, সৎ কাজ ও অন্যের অধিকার রক্ষাই প্রকৃত পরম সুখের সোপান।

🌸 জয় রাম — জয় গোবিন্দ 🌸

উৎস: শ্রুতিতে রামঠাকুর — ফনীভূষণ চক্রবর্ত্তী, পৃষ্ঠা ১১৪।
প্রস্তুতকরণ: Subrata Majumder

 

আমি বীজমন্ত্রের প্রয়োজন দেখি না – ঠাকুর মহাশয়ের দিব্যবাণী | Ramthakur Vedbani

আমি বীজমন্ত্রের প্রয়োজন দেখি না – ঠাকুর মহাশয়ের দিব্যবাণী

শ্রীশ্রী ঠাকুরের করুণাকৃপা লাভের আকুল বাসনায় একজন ভক্ত বীজমন্ত্র প্রাপ্তির জন্য গভীর মিনতি জানালেন। তাঁর অন্তর ব্যাকুল হয়ে উঠল গুরুকৃপা পাওয়ার প্রত্যাশায়। সেই সময় ঠাকুর মহাশয় দিব্যদৃষ্টি নিয়ে স্থিরভাবে তাঁর দিকে চেয়ে রইলেন।

ভক্তটি যেন যন্ত্রচালিতের মতো ঠাকুরের পবিত্র পাদপদ্মে মাথা রাখলেন। উঠে দাঁড়াতেই ঠাকুর বললেন—

“আমি আপনরেরে নাম দেওয়ার জন্য বইসা আছি। নাম নেন।”

কিন্তু ভক্তের আকাঙ্ক্ষা বীজমন্ত্র। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বললেন— “না, আমি নাম শুনিব না। আমাকে বীজমন্ত্র দিন।”

ঠাকুরের দিব্য ব্যাখ্যা : নাম ও বীজমন্ত্র

“আমি বীজমন্ত্রের প্রয়োজন দেখি না।”

এরপর ঠাকুর কৃপাপূর্বক বোঝালেন— নাম জন্ম-মৃত্যুর অতীত। নামের মধ্য দিয়াই গুরুর কৃপা সর্বক্ষণ বর্ষিত হয়। নামই ভক্তকে ঈশ্বরের দরবারে পৌঁছে দেয়, নামই গুরুর স্বরূপরূপী শক্তি।

এই সুন্দর উপদেশ শোনার পরে ভক্তের অন্তর গলে গেল। তিনি কাতর কণ্ঠে মিনতি করে বললেন—

“আমি নাম নিব।”

ঠাকুর তখন কৃপা করে নাম প্রদান করলেন এবং বললেন—

“এই নামের মধ্যে আমারে পাইবেন।”

ভক্ত তখন তাঁর দেহ-মন-প্রাণ শ্রীগুরুর শ্রীপাদপদ্মে সম্পূর্ণ সমর্পণ করলেন।

গৃহে প্রত্যাবর্তন ও নবজন্ম

দীক্ষালাভের পর গৃহে এসে পিতামাতার চরণবন্দনা করে আশীর্বাদ গ্রহণ করলেন। তিনি লক্ষ করলেন— মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম ও সদগুরুর দীক্ষারূপ নবজন্ম—দুটি-ই বৃহস্পতিবার।

রামভাই স্মরণে — ফনীন্দ্রকুমার মালাকার

এই পুরো ঘটনাটি রামভাইকে স্মরণ করে লিখেছেন ফনীন্দ্রকুমার মালাকার। এটি গুরুকৃপা, নামমাহাত্ম্য ও ভক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।


🔱 শ্রীশ্রী রামঠাকুরের উপদেশ থেকে শিক্ষাঃ

  • নাম সর্বশ্রেষ্ঠ সাধন।
  • নামের মধ্য দিয়েই গুরুকৃপা প্রবাহিত হয়।
  • দীক্ষা মানেই নবজন্ম।
  • সদগুরুর প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পণই মুক্তির পথ।

জয় গুরু জয় রাম
জয় পরমদয়াল শ্রীশ্রী ঠাকুর

 

বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড,শ্রীশ্রীরামঠাকুর,বেদবানী পত্রাংশ নং -

(১২৮) ভগবানের নিকট সর্ব্বদা থাকিতে চেষ্টা করাই ধর্ম্ম। প্রাক্তন বশত: নানান দেশ ঘুরিয়া নানান উপাধি ধারণ করিয়া বেড়াইয়া থাকে। কাহারও কোন ক্ষমতা নাই। যা’র যা’র যে যে প্রারব্ধ (ভাগ্য) ঘটিবে তাহা কেহই ত্যাগ করিতে কি রাখিতে পারে না, ভ্রমবশত: কর্ত্তাভিমানে মুগ্ধ হইয়ক এই জগতে নানান বাসনায় বন্ধন হইয়া থাকে। মরভূমে যেমন চতুর্দ্দিকেই জল ভ্রম হয়, অন্বেষণ দ্বারা ক্লান্তি বৈ আর পিপাসা লাঘব হয় না, ইহাও তাহাই। ইদং তীর্থমিদং তীর্থ আপন সুখের পিয়াসে ঘুরিয়া বেড়ায় কিন্তু কোনই উপায় হইতে আশা পরিপূর্ণ হয় না।  (সর্ব্বতীর্থ ময়ং দেবী শ্রীগুরুপদ সেবনাৎ) যাহা হউক, যা’র যাহা প্রাক্তনে আছে তাহা ঘটিবেই, তা’র দেবার জন্য চেষ্টা করা বৃথাই আড়ম্বর মাত্র। …আপনি যদি শ্রীমানদের জন্য কোটি কোটি সংস্থান করিয়া যান, ভাগ্য না থাকিলে তাহাও তাহারা ভোগ করিতে পাইবে না। আর যদি আপনি কিছুই না করিয়া যান তাহা হইলেও ভাগ্যে থাকিলে তাহারা পরম আনন্দে জগতের ধন জন বৈভব সকলি প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবেন, সন্দেহ নাই। যাহা হউক, ভগবানের নামে পড়িয়া থাকিলে ভগবান কোন অভাব রাখেন না, যেহেতুক [তিনি] স্বভাবময়।

 


“ভাগ্যের উপরে নয়—ভগবানের উপরে ভরসা রাখো | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী ব্যাখ্যা (পত্রাংশ ১২৮)”




“ভাগ্য, প্রারব্ধ, উপাধি — এ সবই ভ্রম।
ভগবানের নামে আশ্রয়ই একমাত্র পথ।”
আজ আমরা শুনব শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী,
‘বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড, পত্রাংশ নং ১২৮’ থেকে —
এবং জানব, কীভাবে ভগবানের নামে স্থিত হয়ে
মানবজীবনের ভয় ও ভ্রমকে জয় করা যায়।


পরম প্রেমময় শ্রীশ্রী রাম ঠাকুরের লীলা অমৃত: বড় ভাল আম, বড় মিষ্ট আম সুধীর আনছে - দম্ভের দান, দণ্ডের সমান


“ভগবানের নিকট সর্ব্বদা থাকিতে চেষ্টা করাই ধর্ম্ম।
প্রাক্তন বশত: নানান দেশ ঘুরিয়া নানান উপাধি ধারণ করিয়া বেড়াইয়া থাকে।
কাহারও কোন ক্ষমতা নাই। যা’র যা’র যে যে প্রারব্ধ ঘটিবে, তাহা কেহই ত্যাগ করিতে কি রাখিতে পারে না...
ভ্রমবশত: কর্ত্তাভিমানে মুগ্ধ হইয়া, এই জগতে নানান বাসনায় বন্ধন হইয়া থাকে।
...ভগবানের নামে পড়িয়া থাকিলে ভগবান কোন অভাব রাখেন না, যেহেতুক তিনি স্বভাবময়।”


বিজয়া দশমী: বাংলার জয়ধ্বনি ও ভগবান রামের আশীর্বাদ

(From the book “বাণীর আলোকে পথ চলা – Sri Sri Ramthakur-er Potransho-er Byakhya”)

1️⃣ ভগবানের নিকট থাকাই ধর্ম:
ঠাকুর বলছেন, মানবজীবনের আসল সাধনা হল — সর্বদা ঈশ্বরস্মরণে থাকা। বাহ্যিক উপাধি, সমাজে স্থান বা নাম নয়, প্রকৃত ধর্ম মানে ভগবানের সান্নিধ্যে থাকা।

2️⃣ প্রারব্ধ বা ভাগ্য অনিবার্য:
যা পূর্বকর্মে নির্ধারিত, তা ঘটবেই। কেউ তাকে পরিবর্তন করতে পারে না। তাই অতিরিক্ত চিন্তা বা অহংকার অর্থহীন।

3️⃣ কর্তৃত্ববোধ ও ভ্রম:
মানুষ ভাবে সে নিজেই সব করছে — কিন্তু এই ভাবই বন্ধনের কারণ। মরুভূমির মরীচিকার মতো, যা দেখতে জল, কিন্তু আসলে শূন্য।

4️⃣ তীর্থ থেকে তীর্থভ্রম নয়, গুরুপদই সর্বতীর্থ:
ঠাকুর বলেন — “সর্বতীর্থময়ং দেবী শ্রীগুরুপদ সেবনাৎ”। অর্থাৎ, প্রকৃত তীর্থ ভ্রম নয়, বরং গুরুপদ সেবাই সব তীর্থের ফল।

5️⃣ অর্থসম্পদ নয়, ভগবানের কৃপা:
আপনি যতই ধনসম্পদ রেখে যান, ভাগ্যে না থাকলে সন্তানরা তা পাবে না। আবার কিছু না রেখেও যদি ভাগ্যে থাকে, তারা প্রতিষ্ঠিত হবে।
তাই মূলমন্ত্র — “ভগবানের নামে থাকিলে ভগবান কোন অভাব রাখেন না।”

6️⃣ ভগবান স্বভাবময়:
তিনি নিজেই পূর্ণ। তাঁর স্মরণে যে থাকে, তার অভাব থাকতে পারে না, কারণ ঈশ্বরই সমস্তের আশ্রয় ও পরিপূর্ণতা।


শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম: আত্মদানের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যIশ্রীশ্রী ঠাকুর ঘোষণা করেন যে আশ্রম উদ্বোধন হবে ১৯৩০ সালের ২৬ জুলাই (১৩৩৭ বঙ্গাব্দের ১০ শ্রাবণ) তারিখে। দিনটি ছিল শুক্রবার। সেইদিনই আশ্রমের প্রতিষ্ঠা হয় এবং নামকরণ হয় শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম।

“আমরা নিজের ভাগ্য নিয়ে যত চিন্তা করি,
ততই ঈশ্বর থেকে দূরে সরে যাই।
ভাগ্য নয়—ভগবানের ওপর বিশ্বাস রাখুন।
তাঁর নামে থাকুন, তাহলেই সব অভাব পূর্ণ হবে।”

✨ Display Text:
🕉️ “গুরুকৃপাহি কেবলম্…”
📘 বাণীর আলোকে পথ চলা – Sri Sri Ramthakur-er Potransho-er Byakhya
✍️ Written by Subrata Majumder



“যদি শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী ও ব্যাখ্যা আপনার হৃদয় স্পর্শ করে,
তাহলে ভিডিওটি Like, Share ও Subscribe করুন।”
🔔 “পবিত্র বাণীর আলো ছড়িয়ে দিতে পাশে থাকুন।”

📌 Subscribe Now | শেয়ার করুন | জয় রাম ঠাকুর!

গর্ব্বহারী ভগবান কারো গর্ব্ব অভিমান থাকতে দেন গর্ব্বহারী ভগবান কারো গর্ব্ব অভিমান থাকতে দেন Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on December 06, 2025 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.