শ্রীশ্রী রামঠাকুরের জন্ম, জীবন, সাধনা, নামতত্ত্ব ও কৈবল্য মুক্তির পূর্ণ আধ্যাত্মিক জীবনী। বেদবাণী–সমন্বিত প্রামাণ্য আলোচনা।
শ্রীশ্রী রামঠাকুর: জন্ম, জীবন ও লীলাকথা | বেদবাণী–সমন্বিত আধ্যাত্মিক জীবনী
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের জন্ম, জীবন, সাধনা, নামতত্ত্ব ও কৈবল্য মুক্তির পূর্ণ আধ্যাত্মিক জীবনী। বেদবাণী–সমন্বিত প্রামাণ্য আলোচনা।
জয় রাম। জয় গোবিন্দ।
✨ ১. জন্ম ও শৈশব
১৮৬০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, ফরিদপুর জেলার ডিঙ্গামানিক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন :contentReference[oaicite:1]{index=1}।
- পিতা: শ্রীরাধামাধব চক্রবর্তী
- মাতা: শ্রীমতি কমলাদেবী
- পাঁচ ভাই–বোনের মধ্যে যমজ রাম ও লক্ষ্মণ ছিলেন অকৃতদার
ছেলেবেলায় পাঠশালায় বাংলা শিক্ষার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু। পিতার তন্ত্রসাধনার প্রভাবে তিনি রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণে গভীর মনোনিবেশ করেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ।
✨ ২. গুরুদেব ও দুই মৃত্যু—আত্মজাগরণের শুরু
পিতার গুরুদেব শ্রীমৃত্যুঞ্জয় ন্যায়পঞ্চানন ছোট রামকে গভীর স্নেহ করতেন। মাত্র আট বছর বয়সে পিতা ও অল্পদিনের মধ্যে গুরুদেবের মৃত্যুই তাঁর মনে জীবন–মৃত্যুর গভীর প্রশ্ন জাগ্রত করে।
এক অক্ষয় তৃতীয়ার রাত্রিতে স্বপ্নযোগে গুরুদেব তাঁকে সিদ্ধ নাম প্রদান করেন— এই ঘটনাই তাঁর জীবনের আধ্যাত্মিক মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
✨ ৩. গৃহত্যাগ ও অজানার সন্ধান
১৮৭২ সালে কিশোর বয়সে তিনি নিঃশব্দে গৃহত্যাগ করেন। বন–নদী–পর্বত অতিক্রম করে পৌঁছান কামাক্ষ্যা মন্দিরে।
গভীর জপের সময় তিনি শুনতে পান— “রাম… রাম…” এবং বাহিরে এসে দর্শন পান এক জটাধারী দীপ্তিমান মহাপুরুষের— যাঁকেই তিনি গুরুরূপে গ্রহণ করেন।
✨ ৪. হিমালয়ে তপস্যা ও অষ্টসিদ্ধি
হিমালয়ের কৌশিকাশ্রম, বশিষ্ঠাশ্রম প্রভৃতি তপোবনে বহু বছর সাধনায় নিমগ্ন থেকে তিনি অষ্টসিদ্ধি অর্জন করেন এবং ঋষিদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
পরবর্তীতে গুরুদেব তাঁকে নির্দেশ দেন— “লোকালয়ে ফিরে মানবসেবা কর।”
✨ ৫. মাতৃসেবা ও গার্হস্থ্যে পরম ত্যাগ
নোয়াখালিতে এক ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে পাচক হিসেবে কাজ নিলেও তিনি নিজে অল্প দুধ ও ফলাহারে জীবনধারণ করতেন। তাঁর জীবনযাপনেই প্রকাশ পেত বৈরাগ্য ও সংযম।
✨ ৬. ফেণী শহরে সেবা—নীরব সমাজবিপ্লব
ফেণী শহরে সরকারি কর্মসূত্রে অবস্থানকালে তিনি অসহায় নারী ও রোগীদের সেবা করতেন মা–বোন জ্ঞানে। বর্ণ ও জাতিভেদের কঠোর সময়ে এই মানবসেবা ছিল যুগান্তকারী।
কবি নবীনচন্দ্র সেন লিখেছিলেন— “পরসেবায় ছিল তাঁর পরমানন্দ।”
✨ ৭. যোগশক্তি ও মানবমুক্তির দিশা
জীবনের অর্ধেক সময় লোকচক্ষুর আড়ালে সাধনা এবং শেষ ৪০ বছর লোকালয়ে মানবমুক্তির পথ দেখান। তিনি বলতেন— “আমি তোমাদের জন্য নাম আনছি।”
✨ ৮. নাম–তত্ত্ব ও কৈবল্য মুক্তি
তিনি উপদেশ দিতেন—
- “শান্ত হইলেই শান্তি পাওয়া যায়।”
- “দীক্ষা হল—দেখা।”
- নামই একমাত্র সম্বল—যা সর্বত্র, সর্বদা করা যায়
নামসাধনার মাধ্যমেই অভাব, ঋণ ও জন্ম–মৃত্যুর বন্ধন মোচন হয়— এই অবস্থাই কৈবল্য মুক্তি।
✨ ৯. কৈবল্যধাম প্রতিষ্ঠা
- ১৯৩০ — চট্টগ্রাম কৈবল্যধাম
- ১৯৪২ — যাদবপুর কৈবল্যধাম
- ১৯৪৩ — ডিঙ্গামানিক সত্যনারায়ণ সেবা মন্দির
✨ ১০. গান্ধীজীর প্রয়াণ ও দর্শন
১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি গান্ধীজীর প্রয়াণ মুহূর্তে চৌমুহনীতে তিনি বলেন— “মহাত্মা গান্ধী চইল্যা গেলেন। গান্ধীর আর জন্ম হইবো না।”
✨ ১১. মহাপ্রয়াণ
১৯৪৯ সালের ১ মে, অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য লগ্নে ৯০ বছর বয়সে তিনি মহাপ্রয়াণ করেন।
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন— “সমুদ্রেরও কূল আছে, কিন্তু তোমার ঠাকুরের কোনও কূলকিনারা নেই।”
🌼 ১২. উপসংহার
শ্রীশ্রী রামঠাকুর ছিলেন একযোগে মহাগুরু, যোগী, সমাজসংস্কারক এবং চিরন্তন আশ্রয়।
তাঁর বাণী আজও পথ দেখায়—
- “শান্ত হইলেই শান্তি পাওয়া যায়।”
- “নামই একমাত্র পথ।”
🙏🕉 জয় রাম। জয় গোবিন্দ। 🕉🙏
SEO Keywords / Hashtags:
#SriSriRamthakur, #Bedbani, #RamthakurLife, #Kaibalyadham,
#NamSadhana, #SpiritualBiography, #IndianSaints,
#BengaliSpirituality, #VedanticLife, #RamGobindo,
#BanirAlokePothChala, #Satyanarayan, #Kaibalyamukti
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
December 27, 2025
Rating:








.jpg)
No comments: