Sri Sri Ram Thakur is a revered spiritual master whose teachings continue to inspire countless devotees across India and around the world. The website serves as a comprehensive digital platform dedicated to preserving, promoting, and sharing the divine life, teachings, philosophy, and spiritual legacy of Sri Sri Ram Thakur, lovingly known as Dayal Thakur, Sri Sri Kaibalyanath, and Sri Sri Satyanarayan by his followers. Born as Ram Chandra Dev in Dingamanik, Faridpur (present-day Bangladesh)

শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণের সেবামন্দির ডিঙ্গামাণিক: একটি আধ্যাত্মিক ইতিহাস

 

শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণের সেবামন্দির ডিঙ্গামাণিক: একটি আধ্যাত্মিক ইতিহাস

শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণের সেবামন্দির, ডিঙ্গামাণিক: শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মস্থান ও আশ্রমের মহিমা

✍️ কলমে: শ্রী শুভময় দত্ত


ফরিদপুর জেলার ডিঙ্গামাণিক গ্রামে যে মহাপবিত্র স্থানে শ্রীশ্রীঠাকুর জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই বাড়ির পূর্বদিকের বহিবাটিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই পুণ্যময় আশ্রম। ১৩৪৯ সনের আষাঢ় মাসের গুরুপূর্ণিমা তিথিতে শ্রীশ্রীঠাকুরের অনুমতিক্রমে একটি টালির ছাউনি ঘরে এই আশ্রমের যাত্রা শুরু হয়।

আশ্রম প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী

আশ্রমের বর্তমান মোহন্ত মহারাজ শ্রীযুক্ত মহেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্তী মহাশয়ের বিবৃতি থেকে জানা যায়, ঠাকুরের নির্দেশেই এই আশ্রমের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। তিনি ঠাকুরের সেই অমূল্য স্মৃতিচারণ করে বলেন:

"ঠাকুর আমাকে চৌমুহনীতে ডেকে বললেন— গিরীন্দ্র (গিরীন্দ্রমোহন চক্রবর্তী) ধীর, স্থির ও কর্মঠ; তোমারা তাকেই মোহন্ত করো। তোমরা সকলে শাকপাতা টোকাইয়া আনিবে, মেয়েরা রান্নাবাড়া করিবে। তোমরা একবেলা ঠাকুরের প্রসাদ এবং রাতে সত্যনারায়ণের সিন্নি প্রসাদ পাইবে। নিশ্চিন্ত মনে ঠাকুরের সেবায় নিযুক্ত থাকো।"

মন্দির নির্মাণ ও ভক্তগণের সমবেত প্রচেষ্টা

চৌমুহনীতে এক ভক্ত সম্মেলনে পণ্ডিত শ্রীমোহিনীমোহন শাস্ত্রীশ্রীরবীন্দ্রকুমার মিত্র প্রমুখের উপস্থিতিতে মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিখ্যাত কন্ট্রাকটর রবীন্দ্রবাবু একাই সব খরচ বহন করতে চাইলেও, শ্রী শুভময় দত্ত মহাশয় তাতে আপত্তি জানান। কারণ ঠাকুরের অভিপ্রায় ছিল— সকল ভক্ত যেন তাদের সাধ্যমতো সেবায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

পরবর্তীতে এ.বি. রেলওয়ে কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার শ্রীঅবিনাশচন্দ্র গুপ্ত মহাশয়ের নকশা অনুযায়ী বর্তমানের উচ্চ ও সুদৃশ্য মন্দিরটি নির্মিত হয়। এই মন্দিরের চূড়া পদ্মা নদীর দূরবর্তী স্থান থেকেও দৃশ্যমান হয়।

আশ্রমের পবিত্র স্থানসমূহ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ

  • অশোক বৃক্ষ: বাড়ির দরজার উত্তর পাশে একটি ছায়াশীতল অশোক গাছ রয়েছে, যেখানে ঠাকুরের পিতা রাধামাধব বিদ্যালঙ্কার মহাশয় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।
  • বকুল বৃক্ষ: প্রবেশপথের দুই পাশে দুটি বিশাল বকুল গাছ আছে, যা ঠাকুরের পিতা নিজ হাতে রোপণ করেছিলেন।
  • পবিত্র কুণ্ডসমূহ: ঠাকুর আশ্রমের পুকুর তিনটির নামকরণ করেছিলেন— 'অমৃতকুণ্ড', 'মায়াকুণ্ড' এবং 'শ্রীকুণ্ড'
  • লক্ষ্মণ ঠাকুরের স্মৃতি: মন্দিরের পশ্চিমে একটি দালানে ঠাকুরের কনিষ্ঠ ভ্রাতা পরম ভক্ত লক্ষ্মণ ঠাকুরের চিত্রপট পূজা করা হয়।

সেবা ও নিষ্ঠার মূর্ত প্রতীক: আশ্রমের সেবকবৃন্দ

আশ্রমের প্রথম মোহন্ত গিরীন্দ্রমোহন চক্রবর্তীর পর বর্তমানে মহেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্তী মহাশয় আশ্রম পরিচালনা করছেন। তাঁর সুযোগ্য পুত্র সুনীলকুমার চক্রবর্তী উচ্চপদস্থ চাকরি ত্যাগ করে ঠাকুরের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও শ্রীশ্রীঠাকুরের আত্মীয় শ্রীযুক্তা শিশুবালা দেবী সারাজীবন এই আশ্রমের নিরলস সেবা করে চলেছেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বর্তমান অবস্থা

দেশভাগের পর পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও আশ্রমের আধ্যাত্মিক পরিবেশ অম্লান। স্থানীয় মুসলমান সম্প্রদায় এবং কার্ত্তিকপুরের জমিদার বংশের মানুষেরা এই আশ্রমের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। ঠাকুরের একনিষ্ঠ মুসলমান ভক্ত চেরাগালী ভাই এই গ্রামেই একটি নিজস্ব আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা আজও তাঁর বংশধরেরা রক্ষা করছেন।

জয় রাম, জয় রাম, জয় রাম

নিষ্ঠা, সেবা এবং ভক্তির এই মিলনস্থলে আজও ঠাকুরের আশীর্বাদ বর্ষিত হচ্ছে।

শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণের সেবামন্দির ডিঙ্গামাণিক: একটি আধ্যাত্মিক ইতিহাস শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণের সেবামন্দির ডিঙ্গামাণিক: একটি আধ্যাত্মিক ইতিহাস Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on মে ০৫, ২০২৬ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.