মনের অধীন না হইয়া, সর্বদাই প্রাণের সঙ্গ করিবেন।
একদিন ঠাকুরকে জিগগেস করলাম, আচ্ছা ঠাকুর আপনি তো সর্বদাই 'নাম' করতে বলেন। কিন্তু একমনে তো নাম করতে পারি না। নাম করতে বসলেই নানারূপ চিন্তা এসে মনকে বিচলিত করে তোলে। এই চঞ্চল মনকে স্থির করবার উপায় কি?
—'মনের অধীন না হইয়া, সর্বদাই প্রাণের সঙ্গ করিবেন। যখন ঘুমাইয়া থাকেন, তখন তো মন থাকে না। প্রাণই থাকে। প্রাণেই তো নাম করে। প্রাণবায়ুর সঙ্গে নাম নিয়া অভ্যাস করিতে করিতে চৈতন্য শক্তির উদয় হয়। ব্রজভূমে বাস হয়। তখনই মনের চাঞ্চল্য হইতে অব্যাহতি পাওয়া যায়।' প্রত্যুত্তরে ঠাকুর
বললেন।
—এমন কি সহজ উপায় আছে, যা অভ্যাস করলে গুরুকে সব সময় অনুভব করা যায়? প্রশ্ন রাখলাম।
—'নাম'। নাম করিলেই গুরুকে পাওয়া যায়। নামের মাধ্যমে তাঁহার সহিত যোগাযোগের কেন্দ্র স্থাপিত হয়। সেই কেন্দ্র স্থাপন করিলেই 'তত্ত্বমসি', তুমিই সেই পরমব্রহ্ম, যাহা প্রত্যেকের অন্তরে নিহিত আছেন, তাহা উপলব্ধি করা যায়। এবং তাঁর কৃপালাভ হয়।' ঠাকুর বললেন। ঠাকুর আরও বললেন, – 'নাম করিতে করিতে ধাম খোলে। নাম আর ভগবান এক।'
#কৃপাসিন্ধুশ্রীশ্রীরামঠাকুর
আর একটি নূতন দিন আমার জীবনে আলোকিত হয়ে উঠলো।
তখন ১৯৩০ সাল। আমি শ্রীশ্রীরামঠাকুরের নিকট হতে নাম পেলাম।
দেহে মনে অনুভব করলাম অপূর্ব আনন্দ শিহরণ।
জানলাম চিনলাম রামঠাকুরকে।
আমার প্রাণনিধি প্রাণের প্রাণ গুরুরূপী ভগবান শ্রীশ্রীরামঠাকুরকে।
উপলব্ধি করলাম ইনি মহাযোগীশ্বর মহাপুরুষ।
তিনি উপদেশ দিলেন – 'পতিসেবা করবেন এবং নাম করবেন।
সত্যনারায়ণকে কখনও ভুলবেন না।
কোন মন্তব্য নেই: