বেদবানী প্রথম খন্ড (৫) নং পত্রাংশ ,শ্রীশ্রী রামঠাকুর।
এ সংসারে কোন মাত্র সত্যের বন্ধনে থাকাই পরম তত্ত্ব, পরমপদ, ইহা বই জগতে কিছুই নাই। সংসার নিত্যানিত্যের তরঙ্গ, এই তরঙ্গ হইতে নিষ্কৃতির জন্য অভিমানের সত্ত্বাকে মার্জ্জনা করিতে হয়। “জীবে দয়া, নামে রুচি, বৈষ্ণব সেবন, ইহা বই কিছু নাই শুন সনাতন”। এই শব্দটি সকল জীবের পক্ষেই কণ্ঠহার। ঐহিক সুখ আর দুঃখ সকলই ক্ষণভঙ্গুর। ক্ষমাই দয়ার আধার, ত্যাগই সত্যের সার, পবিত্রতাই ধর্ম্ম। যাহাতে মনের কোন রকম অশান্তি, মলিনত্ব না হয় তদ্বিষয়ে সহিষ্ণুতা দ্বারা মার্জ্জনা করাই উচিত। ক্ষণিক সুখে মজিয়া থাকিলে পরে পরিণাম দুঃখই থাকে, পরিত্রাণের জন্য অবশিষ্ট সুখরূপ সত্যের লেশও থাকে না। ঐহিক সুখে মত্ত হইয়া কৃত ধর্ম্ম নষ্ট করিতে নাই।
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের "বেদবানী" প্রথম খণ্ডের (৫) নং পত্রাংশ-এর ব্যাখ্যা একটি গভীর আধ্যাত্মিক বোধ এবং মানবজীবনের চরম লক্ষ্য সম্পর্কে ধারনা দেয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
মূল ভাবার্থ ও ব্যাখ্যা:
"এ সংসারে কোন মাত্র সত্যের বন্ধনে থাকাই পরম তত্ত্ব, পরমপদ, ইহা বই জগতে কিছুই নাই।"
👉 জীবনের চরম উদ্দেশ্য হলো সেই সত্যের সাথে সংযুক্ত হওয়া, যা চিরন্তন ও পরম। এ জগতে সেই পরম সত্য ছাড়া আর কিছুই চিরস্থায়ী নয়।
"সংসার নিত্যানিত্যের তরঙ্গ, এই তরঙ্গ হইতে নিষ্কৃতির জন্য অভিমানের সত্ত্বাকে মার্জ্জনা করিতে হয়।"
👉 সংসার হলো চঞ্চল—সুখ, দুঃখ, আশা-নিরাশার তরঙ্গ। এই ওঠানামা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের অহংকার (অভিমান) ও আত্মকেন্দ্রিক সত্ত্বাকে ক্ষমা ও ধৈর্যের মাধ্যমে শুদ্ধ করতে হবে।
“জীবে দয়া, নামে রুচি, বৈষ্ণব সেবন, ইহা বই কিছু নাই শুন সনাতন”।
👉 এই বাক্যটি চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। জীবের প্রতি দয়া, ঈশ্বরনামে অনুরাগ এবং সাধুজনের সেবা—এই তিনিই সনাতন ধর্মের মূল ভিত্তি। এর বাইরে কিছুই চিরন্তন নয়।
"ঐহিক সুখ আর দুঃখ সকলই ক্ষণভঙ্গুর। ক্ষমাই দয়ার আধার, ত্যাগই সত্যের সার, পবিত্রতাই ধর্ম্ম।"
👉 পার্থিব সুখ ও দুঃখ দুটোই অস্থায়ী। শাশ্বত গুণগুলির মধ্যে—
ক্ষমা: দয়ার ভিত্তি,
ত্যাগ: সত্যের সার,
পবিত্রতা: ধর্মের মূল।
"যাহাতে মনের কোন রকম অশান্তি, মলিনত্ব না হয় তদ্বিষয়ে সহিষ্ণুতা দ্বারা মার্জ্জনা করাই উচিত।"
👉 মন যেন অশান্ত ও অপবিত্র না হয়, সে জন্য ধৈর্য ও ক্ষমার গুণে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
"ক্ষণিক সুখে মজিয়া থাকিলে পরে পরিণাম দুঃখই থাকে, পরিত্রাণের জন্য অবশিষ্ট সুখরূপ সত্যের লেশও থাকে না।"
👉 সাময়িক আনন্দের পেছনে ছুটলে তার ফল হয় দুঃখ। এতে আসল আত্মিক আনন্দ বা মুক্তির পথ রুদ্ধ হয়।
"ঐহিক সুখে মত্ত হইয়া কৃত ধর্ম্ম নষ্ট করিতে নাই।"
👉 পার্থিব সুখের মোহে পড়ে যেন আমরা আমাদের ধর্ম ও কর্তব্য নষ্ট না করি।
এই পত্রাংশে শ্রীশ্রী রামঠাকুর আমাদের চিরন্তন তত্ত্বের পথে চলতে আহ্বান করেছেন। তিনি শিখিয়েছেন—
আত্মত্যাগ,
করুণা,
ক্ষমা,
ও নামস্মরণ—এই চিরন্তন পথই মুক্তির দিশা।
আজকের পৃথিবীতেও, যেখানে মানুষ দ্রুত সাফল্য, ভোগ আর ইন্দ্রিয়সুখের পেছনে ছুটছে, সেখানে এই শিক্ষাগুলি আগামীর সমাজের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।
banir aloka poth chala by Subrata Majumder
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
জুলাই ১৩, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: