বেদবানী প্রথম খন্ড (১) নং পত্রাংশ ,শ্রীশ্রী রামঠাকুর।
(৪৬) সংসার মায়ামুগ্ধ ভ্রান্তিজনক। এই সংসারে প্রারব্ধভোগে পরিচালিত হইয়া থাকে। বাসনাকুলে বিব্রত হইয়া সত্য প্রতিষ্ঠার চঞ্চল হয়। কর্ম্মক্ষেত্রে সহিষ্ণুতাই সামর্থ্য প্রকৃতির উদ্বর্ত্তন করিয়া থাকে। প্রলোভনীয় পথে নানা উপসর্গ জুটিয়া চিত্তকে কলুষিত করিয়া লয়, তাহা হইতেই নানা উপায় অবলম্বন করিয়া জগতে অভাবগ্রস্থ হইয়া পড়ে। নানা পথে চালিত হইয়া, নানাগুণের তরঙ্গদ্বারা শান্তির অশান্তির সংঘটন করে। মুক্তি পাবে বলিয়া মায়া অর্থাৎ ভ্রান্তি যোগ আশ্রয় নিয়া যজ্ঞ ভুলিয়া যায়। যজ্ঞ শেষ করিতে পারে না। যজ্ঞ হারাইয়া নানাবিধ কাল দণ্ডের অধীন হইয়া গতাগতিময় পুনঃ পুনঃ জগতে নানারূপে সুখ দুঃখে লাঞ্ছিত হইতে দেখা যায়। স্থির বস্তুর সঙ্গ না পাইয়া, পতিসেবা হারাইয়া নানাবিধ উপায় সৃষ্টিদ্বারা কেহ সন্ন্যাসী, কেহ জাপক, কেহ যোগী, কেহ ভোগীরূপ ধারণ করিয়া আশু সুখ অনুভূতিদ্বারা সর্ব্বতোভাবে ব্যবসায়ী বুদ্ধির আবৃত হইয়া যায়। এই সকল কেবল মায়ামন্ত্র জানিবেন। সকল উদ্দেশ্যবিধান ছাড়িয়া একমাত্র পতিসেবায় নিত্য নিযুক্ত থাকিতে চেষ্টা করিবেন। বর্ত্তমানে পতিসেবাই পরম পুরুষার্থ, ইহা বই আর কিছুই নাই। ভগবৎভক্তিদেবী কোন অভাব প্রবর্ত্তন করান না, সর্ব্বদাই পবিত্র করিয়া দেন।
সংসার, মায়া ও মুক্তির পথ: রামঠাকুরের বাণীর গভীর ব্যাখ্যা | বেদবাণী পাঠ ও বিশ্লেষণ"
"জয় রাম ঠাকুর।
আজ আমরা শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী প্রথম খণ্ডের (৪৬) নম্বর পত্রাংশের উপর আলোচনা করব।
এই বাণীতে ঠাকুর সংসার, মায়া, প্রলোভন এবং মুক্তির প্রকৃত পথ নিয়ে যে অমূল্য জ্ঞান দিয়েছেন, তা আমাদের প্রতিদিনের জীবনচর্যায় গভীর দিশা দেখাতে পারে।
ঠাকুরের বাণী ও তার ব্যাখ্যা।"
বেদবাণী (৪৬):
“সংসার মায়ামুগ্ধ ভ্রান্তিজনক। এই সংসারে প্রারব্ধভোগে পরিচালিত হইয়া থাকে। বাসনাকুলে বিব্রত হইয়া সত্য প্রতিষ্ঠার চঞ্চল হয়...
...বর্ত্তমানে পতিসেবাই পরম পুরুষার্থ, ইহা বই আর কিছুই নাই।
ভগবৎভক্তিদেবী কোন অভাব প্রবর্ত্তন করান না, সর্ব্বদাই পবিত্র করিয়া দেন।”
ব্যাখ্যা
"ঠাকুর বলছেন — সংসার মায়াময় এবং বিভ্রান্তিকর। আমাদের জীবনে যা কিছু ঘটে, তা প্রারব্ধভোগ বা পূর্বজন্মের কর্মফলের ফলশ্রুতি।
কিন্তু এই সংসারে আমরা বাসনার ফাঁদে পড়ে যাই, সত্য উপলব্ধির পথে চঞ্চল হয়ে পড়ি।
অসহিষ্ণুতা আমাদের কর্মক্ষেত্রে দুর্বল করে তোলে, আর প্রলোভন আমাদের চিত্তকে কলুষিত করে।
এই কলুষতা থেকেই আসে নানা সংকট — অভাব, ক্লেশ, অশান্তি।
অনেকে মুক্তির আশায় সন্ন্যাস নেয়, কেউ জপে, কেউ যোগে, কেউ ভোগে — কিন্তু অধিকাংশই ব্যস্ত হয়ে পড়ে ব্যবসায়ী বুদ্ধিতে, অর্থাৎ নিজের লাভ-লোকসানে।
ঠাকুর এদের ‘মায়ামন্ত্রজ্ঞানী’ বলেছেন — অর্থাৎ যাঁরা মায়ার দ্বারা চালিত।
তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন — সকল প্রকার উপায়, উদ্দেশ্য, আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে একমাত্র 'পতিসেবা' — অর্থাৎ ঈশ্বরসেবায় নিবিষ্ট থাকাই হল পরম পুরুষার্থ।
এই ভক্তিসেবা কখনো অভাব সৃষ্টি করে না, বরং জীবনে পবিত্রতা ও শান্তি এনে দেয়।
এইটাই ঠাকুরের শেষ নির্দেশ — পতিসেবা, পতিসেবা, পতিসেবা।"
🗣️
"প্রিয় দর্শকবৃন্দ,
এই বাণী আমাদের শেখায় — সংসারিক ক্লেশের মাঝেও ঈশ্বরসেবাই একমাত্র পরিত্রাণ।
আসুন, আমরা ঠাকুরের দেখানো পথে চলি, অন্তরের নিষ্ঠায় পতিসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি।
জয় রাম ঠাকুর।
ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক, শেয়ার ও সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।
নতুন নতুন ঠাকুরের বাণী নিয়ে আবার ফিরব — ততক্ষণ পর্যন্ত থাকুন ভক্তি ও বিশ্বাসে।
🙏 ধন্যবাদ।"
#বেদবাণী #রামঠাকুর #ঠাকুরেরবাণী #ভক্তি #পতিসেবা #সংসার_ও_মুক্তি #Ramthakur #Vedbani #banglabhakti #spiritualbengali #mayarporikha
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
জুলাই ১৩, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: