হংস নাম ও নামের মহিমা | প্রাণের প্রতিষ্ঠা ও ইন্দ্রিয় সংযম | বেদবাণী ১১৬-১১৭ | শ্রীশ্রী রামঠাকুর
🎬 বেদবাণী প্রথম খণ্ড — পত্রাংশ ১৪৩
সংসার ছেড়ে চলে যাওয়াই কি আধ্যাত্মিক জীবনের পথ?
নাকি সংসারের সমস্ত দায়িত্ব পালন করেও মনকে আসক্তি থেকে মুক্ত রাখা যায়?
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী প্রথম খণ্ডের ১৪৩ নম্বর পত্রাংশে এমনই একটি গভীর ভাবের কথা বলা হয়েছে।
আজকের বাণীতে আমরা জানব—কর্ম করতে করতে অনাসক্ত থাকা এবং জীবনের প্রারব্ধ ভোগকে গ্রহণ করার অর্থ কী।
চলুন, বাণীটি শুনি ও সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করি।
মূল বাণী
বর্ণনাকারী:
বেদবাণী প্রথম খণ্ডের ১৪৩ নম্বর পত্রাংশে শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেছেন—
“সংসারের কার্য্য রীতিমত করিতে করিতে অনাশক্ত ভাবের দ্বারা শান্তিময় কর্ম্ম শেষ করিয়া পরমানন্দ নিত্যধাম পাইয়া থাকে। ইহার সাধন ভজন আর কিছুই নাই, কেবল মাত্র প্রারব্ধ ভোগ সহ্য করিয়া যাইতে হয়।”
এই বাণীর মধ্যে সংসার, কর্ম, অনাসক্তি এবং প্রারব্ধ—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভাব বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
🪔 EXPLANATION — সহজ ব্যাখ্যা
১. “সংসারের কার্য্য রীতিমত করিতে করিতে”
এর অর্থ—মানুষের সংসারজীবনে যে দায়িত্ব রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা।
পরিবার, সমাজ, পেশা এবং দৈনন্দিন জীবনের কর্তব্য থেকে শুধু আধ্যাত্মিকতার কারণে পালিয়ে যাওয়ার কথা এখানে বলা হচ্ছে না।
বরং নিজের দায়িত্বকে সৎভাবে পালন করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২. “অনাশক্ত ভাবের দ্বারা”
এখানে রয়েছে বাণীটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—অনাসক্তি।
অনাসক্তি মানে কাজ না করা নয়।
কাজ করব, কিন্তু কাজের ফল, লাভ-ক্ষতি, প্রশংসা-অপমান কিংবা পরিস্থিতির প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ব না—এই মানসিক অবস্থাকেই সহজভাবে অনাসক্ত ভাব হিসেবে বোঝা যায়।
অর্থাৎ—
কর্তব্য করব, কিন্তু কর্তব্যের ফলের প্রতি অতিরিক্ত মোহ রাখব না।
৩. “শান্তিময় কর্ম্ম”
যখন মানুষ নিজের কর্তব্য পালন করে কিন্তু অতিরিক্ত স্বার্থ, অহংকার ও ফলের আকাঙ্ক্ষায় আবদ্ধ হয় না, তখন কর্মজীবনে একটি শান্ত ভাব তৈরি হতে পারে।
এই বাণী আমাদের কর্মের মধ্যেই অন্তরের শান্তির সন্ধান করতে শেখায়।
৪. “প্রারব্ধ ভোগ সহ্য করিয়া যাইতে হয়”
প্রারব্ধ শব্দটি ভারতীয় আধ্যাত্মিক দর্শনে অতীত কর্মের ফলে বর্তমান জীবনে যে পরিস্থিতি বা অভিজ্ঞতা ভোগ করতে হয়—সেই ধারণার সঙ্গে যুক্ত।
রামঠাকুরের এই বাণীর আলোকে বলা যায়, জীবনে সব পরিস্থিতি নিজের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
তাই অনুকূল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ধৈর্য, বিশ্বাস ও শান্ত মন নিয়ে নিজের কর্তব্য পালন করার শিক্ষা এখানে পাওয়া যায়।
📚 SEPARATE EDUCATIONAL SECTION — শিক্ষণীয় বিষয়
বর্ণনাকারী:
এই বাণী থেকে আমাদের জীবনের জন্য কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় তুলে নেওয়া যায়।
🌿 শিক্ষা ১ — কর্তব্য থেকে পালিয়ে নয়
সংসারের দায়িত্বকে যথাযথভাবে পালন করা উচিত।
🌿 শিক্ষা ২ — কর্মের মধ্যে অনাসক্তি
কাজ করব নিষ্ঠার সঙ্গে, কিন্তু ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ব না।
🌿 শিক্ষা ৩ — সুখ-দুঃখে ধৈর্য
জীবনে সব পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। প্রতিকূল সময়ে ধৈর্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
🌿 শিক্ষা ৪ — অন্তরের শান্তি
বাহ্যিক পরিস্থিতি সবসময় পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও নিজের মনোভাবকে সংযত ও শান্ত রাখার চেষ্টা করা যায়।
🌿 শিক্ষা ৫ — আধ্যাত্মিকতা ও সংসার
এই পত্রাংশের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আধ্যাত্মিক জীবনকে শুধুমাত্র সংসারত্যাগের সঙ্গে যুক্ত না করে দৈনন্দিন কর্তব্যের মধ্যেও আধ্যাত্মিক ভাব অনুশীলনের কথা ভাবা যায়।
🎙️ DEEP MESSAGE — দর্শকদের জন্য
বর্ণনাকারী:
আমরা অনেক সময় মনে করি—সংসারের কাজ শেষ হলে শান্তি পাব।
কিন্তু এই বাণী আমাদের অন্যভাবে ভাবতে শেখায়।
সংসারের কাজের মধ্যেই যদি মনকে সংযত রাখা যায়, কর্তব্যকে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা যায় এবং ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমানো যায়—তাহলে সেই কর্মই শান্তির পথে সহায়ক হতে পারে।
তাই প্রশ্ন শুধু—
“আমি কী কাজ করছি?”
তা নয়।
আরও একটি প্রশ্ন—
“আমি কীভাবে সেই কাজটি করছি?”
🌸 END SCRIPT
বর্ণনাকারী:
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী প্রথম খণ্ডের ১৪৩ নম্বর পত্রাংশ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
কর্তব্য পালন করুন, কর্ম করুন, কিন্তু অন্তরে অনাসক্তি ও শান্তির ভাব ধরে রাখার চেষ্টা করুন।
এই বাণীর ভাব যদি আপনার হৃদয়ে স্পর্শ করে থাকে, তাহলে ভিডিওটি Like করুন, প্রিয়জনদের সঙ্গে Share করুন এবং এমন আরও আধ্যাত্মিক বাণী ও আলোচনা পেতে আমাদের YouTube চ্যানেলটি Subscribe করুন।
JOY RAM JOY GOBINDO (Sri Sri Ramthakur)
@Joyramjoygobinda
🙏 জয় গুরু। জয় রাম। জয় গোবিন্দ। 🙏
JOYRAM PRODUCTIONS HOUSE
www.srisriramthakur.com
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
Rating: 5






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: