সর্বদা নাম করুন—সংসারের দুঃখ থেকে মুক্তির পথ | বেদবাণী Iনাম করার সঠিক পদ্ধতি কী?#ramthakur
মহাসাধক শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক কামাখ্যা লীলা
১৮৭২ সালের কথা। বালক রামচন্দ্রের (রামঠাকুরের আসল নাম) বয়স তখন খুবই কম। অল্পদিনের ব্যবধানে তাঁর পিতা এবং তাঁর প্রথম গুরুদেব শ্রীমৃত্যুঞ্জয় ন্যায়পঞ্চানন পরলোকগমন করেন। এই ঘটনা বালক রামচন্দ্রের মনে তীব্র বৈরাগ্য এনে দেয়। মানুষের জীবন ও মৃত্যুর রহস্য জানার জন্য তাঁর মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে।এক অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে তাঁর পরলোকগত গুরুদেব স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাঁকে একটি সিদ্ধ মন্ত্র দান করেন। এর পরেই একদিন গভীর রাতে, কারোর কিছু না জানিয়ে, বালক রামচন্দ্র এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন।কামাখ্যা মন্দিরের সেই অলৌকিক ডাকপায়ে হেঁটে গভীর জঙ্গল, দুর্গম পাহাড় আর নদী পার হয়ে তিনি এসে পৌঁছালেন আসামের বিখ্যাত কামাখ্যা দেবীর মন্দিরে। দিনটি ছিল কাকতালীয়ভাবে সেই অক্ষয় তৃতীয়া তিথি। মন্দিরের এক নির্জন কোণে বসে তিনি মনে মনে তাঁর গুরুদেবের দেওয়া সেই সিদ্ধ নাম জপ করতে শুরু করলেন।হঠাৎ এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। গভীর ধ্যানমগ্ন অবস্থার মধ্যেই তিনি শুনতে পেলেন, এক গম্ভীর ও দিব্য কণ্ঠে কে যেন ডাকছে— "রাম... রাম..."। এই ডাক সাধারণ কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর ছিল না, এটি ছিল এক মহাশক্তিধর ডাক। রামচন্দ্র চোখ খুলে বাইরে এসে দেখলেন, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক জটাধারী, দীর্ঘাঙ্গী ও পরম জ্যোতির্ময় মহাপুরুষ। তাঁর গা থেকে এক অপূর্ব স্বর্গীয় আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল।গুরুর কৃপা ও অলৌকিক যাত্রাসেই মহাপুরুষকে দেখেই রামচন্দ্র বুঝতে পারলেন, ইনিই তাঁর পরম গুরু। তিনি কোনো দ্বিধা না করে সেই মহাপুরুষের চরণে প্রণাম করলেন এবং গুরুও তাঁর এই যোগ্য শিষ্যকে বুকে টেনে নিলেন।এরপর শুরু হলো এক চরম অলৌকিক অধ্যায়। সেই হিমালয়ের সাধক গুরু রামঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে এগিয়ে চললেন। ভক্তদের বিশ্বাস, এই যাত্রাপথেই গুরুদেব রামঠাকুরকে তিব্বতের রহস্যময় এবং অলৌকিক 'জ্ঞানগঞ্জ' আশ্রমে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বছরের পর বছর ধরে কঠোর সাধনা করেন এবং পরম আত্মজ্ঞান লাভ করে স্বয়ং "সত্যনারায়ণ" রূপে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।লীলার মূল শিক্ষারামঠাকুরের এই লীলা আমাদের শেখায় যে, যদি ঈশ্বরের প্রতি বা গুরুর প্রতি ভক্তি ও বিশ্বাস অটুট থাকে, তবে ঈশ্বর নিজে এসে ভক্তের হাত ধরেন। তিনি বলতেন, "সত্যে থাকো, নির্ভীক থেকো এবং মনকে স্থির করে হরিনাম স্মরণ করো।"—
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ
on
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
Rating:







.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: