শ্রীশ্রী ঠাকুর শ্যাম দাকে উদ্দেশ্য করিয়া কহিলেন ,
পাহাড়তলীর পর্ব্বতে কৈবল্যধাম আশ্রম হইছে ,
আপনে ঐখানে থাকেন গিয়া।
ঠাকুর মহাশয়ের চিঠি পাওয়ার পর হইতে শ্যাম দা ( শ্রীমৎ শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় ) ভাবিতে লাগিলেন ,অনেক বৃথা সময় ব্যয় হইয়াছে । আর নায়।
এই বার গুরু প্রদত্ত শ্রীনামের সেবায় আরও অধিক যত্ন নেয়া প্রয়োজন।
মনে মনে স্থির করিলেন ,
জন বসতি ছাড়িয়া পর্ব্বতোপরি হিমালয়ে কোন নির্জ্জন স্থানে চলিয়া যাইবেন। তাহাতে শ্রীশ্রী ঠাকুরের অনুমতি প্রয়োজন।
পত্রযোগে শ্যাম দা জানিতে পারিলেন ঠাকুর মহাশয় দিল্লিতে জনৈক ভক্ত গৃহে শুভ বিজয় করিতেছেন। হিমালয় গমনের অনুমতি পাইতে শ্যাম দা শ্রীশ্রীঠাকুর সমীপে দিল্লিতে আসিলেন।
শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত শুভময় দত্ত মহাশয় এবং অপরাপর কতিপয় পরিবেষ্টিত শ্রীশ্রী ঠাকুর শ্যাম দা সেখানে উপস্থিত হইতে
দেখিয়া শুভময় দত্ত বাবুকে বলিলেন,
" আপনে যাইবার সময় শ্যাম বাবুকে সঙ্গে নিয়া যাবেন " ।
শ্রীশ্রী ঠাকুর শ্যাম দাকে উদ্দেশ্য করিয়া কহিলেন , "পাহাড়তলীর পর্ব্বতে কৈবল্যধাম আশ্রম হইছে ,
আপনে ঐখানে থাকেন গিয়া "।
ঠাকুর মহাশয় পুনরায় শুভময় দত্ত বাবুকে বলিলেন ,
" আপনে সব ব্যবস্থা কইরা দিবেন।"
হিমালয় গমনের কথা আর ঠাকুর মহাশয়কে জানানো
হইল না শ্যাম দার ।
পুণ্ডরীক শ্রীশ্রী ঠাকুরের ব্যবস্থানুসরে এই ভাবেই শ্রী শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় পাহাড়তলী শ্রীধাম শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম আশ্রমে আসিয়া যুক্ত হয়েছিলেন।
তারপর প্রথম মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ হরিপদ বন্দোপাধ্যায় মহাশয়ের তিরোধানের পরে শ্রীশ্রী ঠাকুর রামচন্দ্রদেবের
আদেশ অনুসারে ঠাকুর আশ্রিত সকল ভক্তগণের অতিপ্রিয় শ্যাম দা শ্রীশ্রী কৈবল্যধামের দ্বিতীয় মোহন্ত মহারাজ রূপে অভিষিক্ত হইয়াছিলেন। একথা কাহারোই অজানা নাই।
শ্যাম দার কথা বলিতে যাইয়া একবার শ্রীশ্রী রামঠাকুর মহাশয় কতিপয় ভক্তের সমক্ষে বলিয়াছিলেন ,
" শ্যামবাবু যোগী হইয়া আছেন ,
পূর্ব স্মৃতি ভুইল্যা আছেন " ।
শ্রীমৎ শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় সুপ্ত বা গুপ্ত যাহাই হউক না কেন তিনি যে যোগী ছিলেন , তখনকার সময়ে আসাম,ত্রিপুরা অঞ্চলের অনেকেই তাহার প্রমাণ পাইয়াছিলেন।
শ্যাম দার অনেক আশ্চর্য্যময় ঘটনা আছে , যাহা যোগ বলেই হওয়া সম্ভব ।
সদানন্দ চক্রবর্ত্তী ।
ছন্নাবতার শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
কোন মন্তব্য নেই: