ঠাকুর বলিলেন - "এই কেমন ভক্তি, কেমন ভালবাসা! আপনি কি শুধু আমাকে মাথায়ই রাখিয়াছেন, আপনার শরীরের আর কোথাও কি আমি নাই? দিলে সর্ব্বশরীরই দিতে হইবে।"
ফেণীতে শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মোত্সব অনুষ্ঠানে অন্যান্য সকল গুরুভ্রাতাদের সহিত রাণীবাড়ী হইতে ঠাকুরের আশ্রিত শ্রীযুক্ত সুরেশ্বর চট্টোপাধ্যায় যোগদান করিয়াছিলেন। সন্ধ্যার পর ফিরিয়া যাওয়ার সময় তিনি যখন কোয়ার্টারের দোতলায় আসিয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিলেন তখন ঠাকুর খাটের নিচে বারে বারে দেখিতে লাগিলেন। আমি সামনে ছিলাম কাজেই
জিজ্ঞাসা করিলাম - "ঠাকুর মশায়, কি দেখেন?"
ঠাকুর বলিলেন - "দেখেন ত, এইখানে এক জোড়া জুতা ছিল।"
ঠাকুরের কাপড়ের জুতা ছাড়া আর জুতা নাই বলিলাম। এই জুতা জোড়াই আমাকে দেন। ঠাকুর যা বলিলেন আমি তাহাই করিলাম।
ঠাকুর সেই জুতা জোড়া হাতে নিয়া সুরেশ্বর বাবুকে বলিলেন - "আপনার জুতা হারাইয়া গিয়াছে, আপনি এই জুতা পায়ে দিয়া যান, এই দারুন শীত, খালি পায়ে যাইতে পারবেন না।"
সুরেশ্বর বাবু আবেগে কাঁদিয়া ফেলিয়া জুতা জোড়া মাথায় নিয়া বলিলেন - "এই জুতা জোড়া আমি কেমন করিয়া পায়ে দিব? আমি এই চরণ নিত্য পূজা করিব!"
ঠাকুর বলিলেন - "এই কেমন ভক্তি, কেমন ভালবাসা! আপনি কি শুধু আমাকে মাথায়ই রাখিয়াছেন, আপনার শরীরের আর কোথাও কি আমি নাই? দিলে সর্ব্বশরীরই দিতে হইবে।"
সুরেশ্বর বাবু চোখের জল নিয়াই স্থান ত্যাগ করিলেন কারণ গাড়ীর সময় হইয়া গিয়াছে।
আমি বলিলাম - "শুভ্দার জুতাও ত চুরি হইয়াছে।"
ঠাকুর বলিলেন - "শুভবাবুর টাকা আছে, সে জুতা নোয়াখালী যাইয়াই কিনিতে পারিবে, আর সে ত মোটর গাড়িতে যাইবে, তা কস্ট হইবে না।"
ঠাকুরের উপর যারা নির্ভরশীল তাদের জন্য তাঁর কত দরদ ঠাকুরের এই আচরণ হইতে বুঝিতে পারা যায়।
শ্রীশ্রীঠাকুর প্রসঙ্গে।
শ্রীঅখিল চন্দ্র রায়।
কোন মন্তব্য নেই: