এই আমার শ্রীশ্রীঠাকুরের শ্রীচরণে শেষ প্রণাম।
: ---- রোহীনী কুমার মজুমদার।
শ্রীশ্রীঠাকুর আমাকে বলিলেন ,
আমাকে প্লেনে করিয়া চৌমুহনীতে নিয়া যাইতে পারবেন?
আমি স্বীকৃত হইলে শ্রীঠাকুর তখনই উঠিয়া রওয়ানা হইলেন।
অনেক বুঝাইলে নিরস্ত হইলেন।
রাত্রিটুকু ওখানেই থাকিলাম।
ভোর রাত্রেতে ঠাকুরকে লইয়া দমদম এরোড্রামের নিকট গুরুভ্রাতা শ্রী রনেন্দ্রনাথ ঘোষের বাসায় শ্রীঠাকুরকে
পৌছাইয়া দিয়া আসিলাম।
প্লেনে শ্রীঠাকুরকে লইয়া চট্টগ্রাম যাইব শুনামাত্র হরিপদবাবুও ঠাকুরের সহিত প্লেনে যাইতে চাহিলেন। এবং আমাকে শ্রীঠাকুরের অনুমতি প্রার্থনা করিতে বলিলেন।
সন্ধ্যার দিকে আমরা দুইজনে দমদমে রনেন্দ্রবাবুর বাসায় পৌঁছিয়া শ্রীঠাকুরকে প্রণাম করিলাম।
শ্রীঠাকুরকে বলিলাম ,
প্লেনের টিকিট কাটি?
তিন খানা টিকিট কাটিতে হইবে।
ঠাকুর বলিলেন , তিন খানা কেন?
আমি বলিলাম ,
হরিপদবাবুও আমাদের সঙ্গে যাইবেন।
শ্রীঠাকুর বলিলেন ,
আমাদের সঙ্গে তাহার যাওয়ার কি দরকার?
আমি বলিলাম , উনি আশ্রমে যাইবেন।
শ্রীঠাকুর রাগান্বিত হইয়া আমাকে ভর্ত্সনা করিয়া বলিলেন ,
আপনারও যাইতে হইবে না ,
আপনি গিয়া কাজ করেন ,
আমি মণির সঙ্গে যাইব।
হরিপদবাবু প্রণাম করিলে শ্রীঠাকুর বলিলেন ,
আমার মাথার ঠিক নাই ,
কাকে কি বলি বুঝি না।
আপনি অসন্তুষ্ট হইবেন না।
শ্রীঠাকুর হরিপদবাবুর মাথায় হাত বুলাইয়া দিলেন। আমরা শ্রীঠাকুরকে প্রণাম করিয়া বাসায় ফিরিয়া আসিলাম।
ভোরবেলা প্লেনে করিয়া শ্রীযুক্ত মণিভূষণ মালাকার
শ্রীঠাকুরকে লইয়া চালিয়া গেলেন।
এই আমার শ্রীশ্রী ঠাকুরের শ্রীচরণে শেষ প্রণাম।
শ্রীঠাকুর চৌমুহনীতে চালিয়া গেলেন।
রোহীনী কুমার মজুমদার
" শ্রীগুরু শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর "
পৃষ্টা সংখ্যা ১৮১ হইতে ।
কোন মন্তব্য নেই: