শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কাছে একবার এক ভক্ত জানতে চাইলেন- "নানা বৈষয়িক কাজে লিপ্ত
থাকায় একাগ্রচিত্তে 'নাম' করতে পারি না; কি উপায়?" প্রত্যুত্তরে
কৃপাসিন্ধু ঠাকুর বলেন, "আপনে আপিসে যে কাজ করেন, সংসারের জন্য যে কাজ
করত্যাছেন, যাকে বৈষয়িক কাজ বলত্যাছেন, এসব কার কাজ? সব তাঁরই কাজ।
সংসার তিনিই সৃষ্টি করেছেন, সংসারের কাজগুলি তো তাঁরই। সব কাজের মধ্য দিয়া
তাঁর চিন্তা করলেই 'তাঁর' নিকট থেকে নিকটতর হওয়া যায়।"
সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে ঢেউ থামার আশায় অপেক্ষা করলে ইহজীবনেও আর স্নান করা হয় না।
সংসার তরঙ্গও ঐরকমই, এটা কখনও থামবে না। স্নান করতে হলে এই তরঙ্গের মধ্যে থেকেই
তা করতে হবে। তরঙ্গ শান্ত হবে না, শান্ত নিজেকেই হতে হবে।
দীক্ষা দানান্তে শ্রীশ্রী রামঠাকুর প্রায়শই বলতেন, "... এই যে নাম পাইলেন, এই নামই আপনেরে
উদ্ধার কইর্যা লইয়া যাইবো। নামই গুরু। বিশ্বাস রাইখেন। আপনি যদি মনে করেন স্নান
কইর্যা, জামাকাপড় বদলাইয়া শুদ্ধ হইয়া ঠাকুরের কাছে যাইবেন এবং নাম করবেন, তাহলে
আপনের আর নাম করা হইবো না।
ঠাকুর তো নিত্যশুদ্ধ, নিত্যমুক্ত। কতো শুদ্ধ হইয়া আপনে তাঁর কাছে যাইবেন? তাই যখন
যে অবস্থায় থাকেন নাম করবেন। সংসারে আসা-যাওয়া বড়ই কষ্টের। নামই কিন্তু তা বন্ধ
করতে পারে।
তাই সদা সর্বদা নাম করবেন।"
কোন মন্তব্য নেই: