শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অসুস্থতার মধ্যেও আশ্বাস — “আমার এখন মরণ নাই”
জয় রাম জয় গোবিন্দ।
ঘরের ঠাকুর শ্রী রামচন্দ্র।
অসুস্থ অবস্থায় শ্রীশ্রী রামঠাকুর
বিকেলে ঠাকুরের অবস্থা একটু ভালো দেখা গেল। ডাক্তার দাশগুপ্তও তাঁর প্রস্রাব পরীক্ষা করে এলেন। পরীক্ষা করে এসে তিনি বললেন,
“আমাদের ডাক্তারী মতে প্রস্রাবের যা দোষ দেখছি, তাতে তিন চার ঘন্টার বেশী রোগী বাঁচতে পারে না।”
এই কথা শোনার পর উপস্থিত সকলেই বিষণ্ণ হয়ে গেলেন। অত্যন্ত বিমর্ষতার সঙ্গে সেই রাত কাটল। সকলের মনে তখন এক গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা।
সকালে দেখা গেল অন্য এক দৃশ্য
কিন্তু পরদিন সকালে এক আশ্চর্য দৃশ্য দেখা গেল। ঠাকুর চৌকিতে বসে আছেন। আগের দিনের তুলনায় তাঁকে আরও একটু ভালো মনে হলো।
এরপর কৈলাসবাবু এলেন। ঠাকুর তাঁকে বললেন—
“কৈলাসবাবু, আপনে একটি ঘোড়ার গাড়ি নিয়া আসেন। আপনের বাসায় যামু।”
কৈলাসবাবু বিস্মিত হয়ে বললেন—
“বাবা, আপনার যেমন শরীর, আপনি কি যেতে পারবেন?”
ঠাকুর তখন বেশ সুস্থ মানুষের মতোই বললেন—
“এখন আমি বেশ ভালো আছি। একটু বেড়াইয়া না আসলে শরীরের দুর্ব্বলতা যাইব না।”
ঠাকুরের ছোট্ট পুঁটুলি
কর্ত্তা, অর্থাৎ কুঞ্জলাল মজুমদার তখন বাজারে গিয়েছেন। কৈলাসবাবু ইতস্তত করছেন। এর মধ্যেই ঠাকুর নিজের চশমা ও কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলেছেন।
তাঁর জিনিসপত্র বলতে ছিল একটি ছোট্ট পুঁটুলি। তার মধ্যে ছিল—
- রুমাল
- নেকড়া জড়ানো কাপড়ের পাড়
- কাগজ, খাতা ও পেন্সিল
- লাল রঙের আয়ুর্ব্বেদীয় নস্যি
- নানারকম হোমিওপ্যাথিক ওষুধ
- ষড়বিন্দু তেল
- আরও দু-একটি প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিস
ভক্তের অনুরোধ—“বাড়ি ছেড়ে যাবেন না”
এই অসুস্থ অবস্থায় ঠাকুরকে বাইরে যেতে দেখে তাঁকে অনেক অনুনয় করে বলা হলো, তিনি যেন বাড়ি ছেড়ে না যান।
তখন ঠাকুর অত্যন্ত আশ্বাসের সঙ্গে বললেন—
“মা, কোন চিন্তা কইরেন না। আমার এখন মরণ নাই। মরুম না। সবকিছু দেইখ্যাই মরুম। একটু ঘুইরা আবার আপনের এখানে আসুম।”
ঠাকুরের কথার গভীর তাৎপর্য
ঠাকুরের কথার সুর শুনে মনে হলো, তিনি হয়তো আমাদের কোনো অন্যায় আচরণ দেখেছেন এবং তাতে কিছুটা বিরক্ত হয়েছেন। এমনভাবে তিনি কখনও কথা বলতেন না।
তাঁকে বেরোতে বারণ করার সাহসও কারও হলো না। এরই মধ্যে কর্ত্তা, কুঞ্জলাল মজুমদার, বাজার থেকে ফিরে এলেন।
এক গভীর স্মৃতি ও ভক্তির অধ্যায়
এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একজন অসুস্থ মানুষের শারীরিক অবস্থার বিবরণ নয়। এর মধ্যে রয়েছে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা, তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং ভক্তদের প্রতি গভীর আশ্বাসের এক স্মরণীয় চিত্র।
চিকিৎসকের আশঙ্কার বিপরীতে ঠাকুর নিজেই বলেছিলেন— “আমার এখন মরণ নাই। মরুম না।” তাঁর এই কথাগুলি ভক্তদের মনে আজও গভীরভাবে অনুরণিত হয়।
স্মৃতির উৎস
এই হৃদয়স্পর্শী স্মৃতিচিত্রটি শ্রীমতী কিরণবালা মজুমদারের স্মৃতিবর্ণনা থেকে সংগৃহীত।
— শ্রীমতী কিরণবালা মজুমদার
জয় রাম জয় গোবিন্দ
🙏 ঘরের ঠাকুর শ্রী রামচন্দ্র 🙏
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী ও জীবনকথা
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের জীবন, বাণী, লীলাকথা এবং ভক্তদের স্মৃতিচারণ নিয়ে আরও আলোচনা ও ব্যাখ্যার জন্য আমাদের আধ্যাত্মিক বিষয়ভিত্তিক লেখাগুলি পড়ুন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
“বাণীর আলোকে পথ চলা – শ্রীশ্রী রামঠাকুরের পত্রাংশের ব্যাখ্যা”
লেখক: সুব্রত মজুমদার
SEO Keywords
Hashtags
#শ্রীশ্রীরামঠাকুর #রামঠাকুর #রামঠাকুরেরবাণী #রামঠাকুরেরজীবনকথা #রামঠাকুরেরলীলাকথা #ঘরেরঠাকুর #জয়রামজয়গোবিন্দ #SriSriRamThakur #SriSriRamthakur #RamThakur #RamthakurBani #RamthakurLifeStory #SpiritualBengali #BengaliDevotional #SanatanDharma
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অসুস্থতার মধ্যেও আশ্বাস | “আমার এখন মরণ নাই” | কিরণবালা মজুমদারের স্মৃতিকথা Suggested Blogger Permalink
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
অক্টোবর ০৬, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: