শ্রীশ্রীঠাকুরের অপার কৃপা
দাঙ্গা, রোগমুক্তি ও আশীর্বাদের অলৌকিক লীলা
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপা অসীম ও অপরিমেয়। ভক্তের জীবনের চরম বিপদেও তিনি অদৃশ্যভাবে রক্ষা করেন এবং তাঁর আশ্রিতদের কখনও পরিত্যাগ করেন না। শ্রী উপেন্দ্র চন্দ্র দে মহাশয়ের জীবনের কয়েকটি ঘটনা সেই সত্যেরই উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে।
১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় অলৌকিক রক্ষা
১৯৪৬ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় লেখক কলকাতার বেলগাছিয়া কুণ্ড লেনে বসবাস করিতেন। শুক্রবার সন্ধ্যা হইতে চারিদিকে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। প্রাণভয়ে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাইতে বাধ্য হন।
অবশেষে সোমবার তিনি বুকে শ্রীশ্রীঠাকুরের ছবি ধারণ করিয়া পূর্ণগর্ভা স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা ও এক চাকরকে সঙ্গে লইয়া বিপজ্জনক পথ অতিক্রম করেন। পথে প্রায় দুই শতাধিক অস্ত্রধারী মুসলমানের সম্মুখীন হইলেও অলৌকিকভাবে তাঁহাদের কোন ক্ষতি হয় নাই। নিরাপদে শ্যামবাজারে পৌঁছিতে সক্ষম হন।
"শুধু গুরু কৃপায়ই ঐরূপ অবস্থায় পড়িয়াও অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে পৌঁছিতে সমর্থ হইয়াছিলাম—ইহাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।"
চৌমুহণীতে শিশুর রোগমুক্তি
১৯৫১ সালে স্ত্রী ও চার বছরের অসুস্থ পুত্রকে সঙ্গে লইয়া নোয়াখালীর চৌমুহণীতে শ্রীযুক্ত উপেন্দ্র সাহা মহাশয়ের বাড়িতে শ্রীশ্রীঠাকুরের দর্শনে যান।
চার বছরের শিশুটি মারাত্মক রক্ত আমাশয়ে ভুগিতেছিল। শ্রীশ্রীঠাকুর সস্নেহে মর্তমান কলা, ঘি ও চিনি মিশ্রিত মহাপ্রসাদ প্রদান করেন। শিশুটি সেই প্রসাদ গ্রহণ করিয়াই সম্পূর্ণ সুস্থ হইয়া যায় এবং পরবর্তীকালে আর কখনও ঐ রোগে আক্রান্ত হয় নাই।
অন্তর্যামী গুরুর কৃপা
সেই দিনই প্রত্যাবর্তনের সময় দেখা গেল, টিকিট কাটিবার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সঙ্গে নাই। উপেন্দ্র সাহার নিকট ধার চাইতেও সংকোচ বোধ হয়। কেবল মনে মনে শ্রীশ্রীঠাকুরকে স্মরণ করিয়া স্টেশনের দিকে যাত্রা করেন।
অন্তর্যামী গুরু ইতোমধ্যেই সব জানিয়াছিলেন। তিনি উপেন্দ্র সাহাকে দশ টাকা লইয়া স্টেশনে পাঠাইয়া দেন।
"বাবা বলিয়া পাঠাইলেন—এই টাকা অক্ষয় বাবুর মেয়েকে দিবেন।"
মৃতপ্রায় কন্যার অলৌকিক আরোগ্য
অক্ষয় বাবুর কন্যা তখন মৃত্যুশয্যায়। চিকিৎসকেরা আর বাঁচিবার আশা ত্যাগ করিয়াছিলেন।
শ্রীশ্রীঠাকুরের আশীর্বাদস্বরূপ সেই দশ টাকা কন্যার শরীরে স্পর্শ করানো মাত্রই আশ্চর্য পরিবর্তন দেখা দেয়। ধীরে ধীরে রোগ সেরে যায় এবং সে সম্পূর্ণ সুস্থ হইয়া ওঠে।
ভক্তের উপলব্ধি
এই সমস্ত ঘটনার পর শ্রী উপেন্দ্র চন্দ্র দে গভীর ভক্তিভরে উপলব্ধি করেন—
"শ্রীশ্রীঠাকুরের কৃপায় এ যাবৎ বহু বিপদ হইতে উদ্ধার হইয়াছি এবং এখনও তাঁহার কৃপায়ই বাঁচিয়া আছি। শ্রীশ্রীঠাকুর ভিন্ন আর কিছুই আপনার নাই।"
আধ্যাত্মিক শিক্ষা
- গুরুর প্রতি অটল বিশ্বাস ভক্তের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি।
- পরম গুরু অন্তর্যামী—ভক্তের অভাব ও বিপদ তিনি পূর্বেই জানেন।
- গুরুপ্রসাদ কেবল খাদ্য নয়, ভক্তির সঙ্গে গ্রহণ করলে তা আশীর্বাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।
- গুরু-কৃপা থাকিলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যায়।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
জুলাই ২৩, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: