গোবিন্দের সেবায় মনের ক্লেদ দূর হয় — শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অপূর্ব শিক্ষা
বড়দা ঠাকুরকে প্রণাম করে উঠে দাঁড়াতেই ঠাকুর তাঁর পাশে রাখা দুটি ছোট তোয়ালে হাতে নিয়ে বললেন,
"এই তোয়ালে দুইখানা রাখেন।"
বড়দা শ্রদ্ধাভরে তোয়ালে দুটি গ্রহণ করে ঠাকুরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তখন ঠাকুর স্নেহভরে বললেন,
"ফেনীর বাড়িতে গিয়ে প্রতিদিন দুই বেলা গোবিন্দের ভোগ নিবেদন করবেন। তারপর এই তোয়ালে দুইখানা দিয়ে গোবিন্দের মুখ ভালো করে মুছে দেবেন। এতে আপনার মনে যে ক্লেদ জমেছে, তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।"
এই কয়েকটি কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা। ভগবানের সেবা কেবল বাহ্যিক আচরণ নয়; আন্তরিক ভক্তি ও সেবার মাধ্যমে মানুষের অন্তরের দুঃখ, অভিমান, অশান্তি ও মানসিক মলিনতাও ধীরে ধীরে দূর হয়ে যায়।
উল্লেখযোগ্য প্রসঙ্গ
সেই সময় শ্রীশ্রী রামঠাকুর মনস্থির করেছিলেন যে তিনি বিলোনিয়ার এই বাড়িতেই দেহরক্ষা করবেন। তিনি তাঁর সমাধির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সম্পর্কেও লেখককে নির্দেশ দিচ্ছিলেন।
এই কথা শুনে বড়দা রায় সাহেব শচীন্দ্র কুমার মালাকার গভীরভাবে মর্মাহত হন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, ঠাকুর যেন তাঁদের আদি নিবাস ফেনীতেই দেহরক্ষা করেন। তিনি এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি এবং এ বিষয়ে ছোট ভাই ফনীন্দ্র কুমার মালাকারকে দায়ী মনে করেছিলেন। সেই দুঃখে তিনি সারারাত উপবাসে কাটিয়ে পরদিন ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
কিন্তু করুণাময় ঠাকুর মানুষের অন্তরের সব কথা জানতেন। তাই তিনি গোবিন্দসেবার মাধ্যমে বড়দার অন্তরের অভিমান ও মানসিক ক্লেদ দূর করার পথ দেখিয়েছিলেন।
শিক্ষা: ঈশ্বরের আন্তরিক সেবা, ভক্তি ও আত্মসমর্পণ মানুষের হৃদয়ের অশান্তি, অভিমান ও দুঃখকে নির্মল করে। সত্যিকারের ভক্তি মানুষের মনকে শান্তি, গ্রহণযোগ্যতা এবং ঈশ্বরপ্রদত্ত ইচ্ছার প্রতি সমর্পণের শক্তি প্রদান করে।
🌺 জয় গুরু • জয় রাম 🌺
সূত্র: 'রামভাই স্মরণে' — ফনীন্দ্র কুমার মালাকার।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
জুলাই ২০, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: