```html
ওঁ তৎসৎ
ওঁ ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
একাদশ অধ্যায়
বিশ্বরূপ দর্শন-যোগ
শ্লোক ৪১–৪২
মূল শ্লোক
सखेति मत्वा प्रसभं यदुक्तं
हे कृष्ण हे यादव हे सखेति।
अजानता महिमानं तवेदं
मया प्रमादात्प्रणयेन वापि॥४१॥
यच्चावहासार्थमसत्कृतोऽसि
विहारशय्यासनभोजनेषु।
एकोऽथवाप्यच्युत तत्समक्षं
तत्क्षामये त्वामहमप्रमेयम्॥४२॥
উচ্চারণ
সখেতি মত্বা প্রসভং যদুক্তং
হে কৃষ্ণ হে যাদব হে সখেতি।
অজানতা মহিমানং তবেদং
ময়া প্রমাদাৎ প্রণয়েন বাপি।।
যচ্চাবহাসার্থমসৎকৃতোহসি
বিহারশয্যাসনভোজনেষু।
একোহথবাপ্যচ্যুত তৎসমক্ষং
তৎ ক্ষাময়ে ত্বামহমপ্রমেয়ম্।।
শব্দার্থ
ইতি — এভাবে
মত্বা — মনে করে
প্রসভম্ — প্রগল্ভভাবে
যৎ — যা কিছু
উক্তম্ — বলা হয়েছে
হে কৃষ্ণ — হে কৃষ্ণ
হে যাদব — হে যাদব
হে সখে — হে সখা
অজানতা — না জেনে
মহিমানম্ — মহিমা
তব — তোমার
ময়া — আমার দ্বারা
প্রমাদাৎ — অজ্ঞতাবশত
প্রণয়েন — স্নেহ বা প্রণয়বশত
অবহাসার্থম্ — পরিহাসের উদ্দেশ্যে
অসৎকৃতঃ — অসম্মান করা হয়েছে
বিহার — ভ্রমণ বা খেলাধুলা
শয্যা — শয়ন
আসন — একত্রে বসা
ভোজনেষু — আহারের সময়
একঃ — একাকী
তৎসমক্ষম্ — সকলের সামনে
অচ্যুত — যিনি কখনও পতিত হন না, শ্রীকৃষ্ণ
ক্ষাময়ে — ক্ষমা প্রার্থনা করছি
অপ্রমেয়ম্ — যিনি অপরিমেয়, অসীম
বাংলা অনুবাদ
তোমার অসীম মহিমা না জেনে, তোমাকে কেবলমাত্র আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু মনে করে আমি কখনও "হে কৃষ্ণ", "হে যাদব", "হে সখা" বলে সম্বোধন করেছি। অজ্ঞতাবশত কিংবা অতিরিক্ত স্নেহ ও প্রণয়ের বশে আমি যা কিছু বলেছি বা করেছি, সেই সমস্ত অপরাধ তুমি দয়া করে ক্ষমা করো।
হে অচ্যুত! একত্রে বিহার, শয়ন, উপবেশন কিংবা আহারের সময়, কখনও একান্তে আবার কখনও বন্ধুদের সামনে আমি যদি পরিহাসের ছলে তোমার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে থাকি, তবে হে অপরিমেয় প্রভু, সেই সমস্ত অপরাধের জন্য আমি তোমার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা
বিশ্বরূপ দর্শনের পর অর্জুন উপলব্ধি করেন যে, যাঁকে তিনি এতদিন কেবল বন্ধু হিসেবে দেখেছেন, তিনিই সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর পরমেশ্বর। এই উপলব্ধির ফলে তাঁর হৃদয়ে গভীর অনুতাপের জন্ম হয়। তিনি বিনয়ের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের কাছে অতীতের সমস্ত অসাবধানতা ও অজান্তে করা অসম্মানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এই শ্লোক আমাদের শিক্ষা দেয়—ভক্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হলো বিনয়। ঈশ্বরের মহিমা উপলব্ধি হলে মানুষের অহংকার দূর হয়ে যায় এবং হৃদয়ে আত্মসমর্পণের ভাব জাগ্রত হয়। প্রকৃত ভক্ত নিজের ভুল স্বীকার করে ভগবানের শরণ গ্রহণ করেন। ঈশ্বর করুণাময়; আন্তরিক অনুতাপ ও ভক্তিভাব নিয়ে ক্ষমা চাইলে তিনি ভক্তকে নিশ্চয়ই ক্ষমা করেন।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
জুলাই ২০, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: