মৃত্যুকালে শ্রীহরির দর্শন
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক কৃপালীলা
চাঁদপুরে অবস্থানকালে প্রতিদিন বহু ভক্ত ও ভদ্রলোক শ্রীশ্রী রামঠাকুরের দর্শনের জন্য আসিতেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন চাঁদপুর সিভিল কোর্টের আমিন ভক্তিভাজন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, যিনি পরবর্তীকালে "স্বামী কেবলানন্দ অবধূত" নামে সুপরিচিত হন। ঠাকুর তাঁহাকে অত্যন্ত স্নেহ করিতেন এবং নিকটে বসাইয়া আধ্যাত্মিক নানা বিষয় আলোচনা করিতেন।
ভক্ত বিধবার শেষ ইচ্ছা
চাঁদপুরের বিশিষ্ট মোক্তার বসন্তকুমার মজুমদারের পত্নী ছিলেন স্বামী কেবলানন্দজীর একনিষ্ঠ ভক্ত। জীবনের অন্তিম মুহূর্তে তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন। স্বামী কেবলানন্দজী করজোড়ে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের নিকট প্রার্থনা করিলেন, যেন তিনি কৃপা করিয়া মৃত্যুপথযাত্রী ভক্তকে পদধূলি প্রদান করেন। ঠাকুর সস্নেহে সেই প্রার্থনা গ্রহণ করিলেন।
করুণাময় আগমন
সেই দিন বেলা প্রায় দশটার সময় শ্রীশ্রীঠাকুর, রোহিণী কুমার মজুমদার এবং অমূল্যচরণ ঘোষ জিতেন্দ্রকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করিতেছিলেন। পথিমধ্যে স্বামী কেবলানন্দজী মোক্তারবাবুর বাড়ির সম্মুখে দাঁড়াইয়া অপেক্ষা করিতেছিলেন। তিনি বলিলেন—
"এই বাসা।"
ঠাকুর সঙ্গে সঙ্গে গৃহে প্রবেশ করিলেন। রোগিণী তখন অচেতন অবস্থায় শয্যাশায়ী। নাভিশ্বাস উঠিতেছে, চক্ষু মুদিত।
শ্রীহরির দর্শন
রোগিণীর শিয়রের কাছে দাঁড়াইয়া শ্রীশ্রী রামঠাকুর তিনবার বলিলেন—
"চাইয়া দেখেন, আপনার শিয়রে স্বয়ং শ্রীহরি দণ্ডায়মান।"
এই অমৃতবাণী শ্রবণ করিয়া মৃত্যুপথযাত্রী ভক্ত ধীরে ধীরে চক্ষু উন্মীলিত করিয়া শিয়রের দিকে দৃষ্টিপাত করিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই শ্রীশ্রীঠাকুর নিঃশব্দে সেই স্থান ত্যাগ করিলেন। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভক্ত বিধবা শান্তচিত্তে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করিলেন।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
এই ঘটনা শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অসীম করুণা, ভক্তবৎসলতা এবং গুরুতত্ত্বের এক অনন্য উদাহরণ। ভক্তের জীবনের অন্তিম মুহূর্তেও তিনি তাঁহার আশ্রিতকে একাকী রাখেন নাই। শ্রীহরির দর্শন দান করিয়া মৃত্যুভয় দূর করিয়া পরম শান্তির পথে তাঁহাকে পরিচালিত করিয়াছেন।
রোহিণী কুমার মজুমদারের ভাষায়—
"এই রমণীর মৃত্যুসময়ে স্বয়ং ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণরূপ ধরিয়া আশ্বাস দিয়াছেন। ইহা অপেক্ষা সৌভাগ্য ইহজগতে আর কি হইতে পারে! দুঃখ এই যে, জীবদ্দশায় এই পুণ্যবতী মহিলাকে কেহই চিনিতে পারেন নাই।"
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
জুলাই ২৩, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: