সত্য, মোর লীলা, কৰ্ম্ম, সত্য মোর স্থান। ইহা মিথ্যা বলে মোরে করে খান খান ॥”
কৃষ্ণনাম, কৃষ্ণরূপ ও কৃষ্ণদেহ এই তিনে কোন ভেদ দেখেন না। তাহারা সবই চিদানন্দময় দেখেন। ব্রহ্মানন্দ অপেক্ষা কৃষ্ণানন্দকেই পূর্ণানন্দময় মনে করেন। একদিন ভারতের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ ব্রহ্ম উপাসক নৈয়ায়িক মায়াবাদী সন্ন্যাসী প্রকাশানন্দ শ্রীশ্রীমহাপ্রভু শ্রীগৌরাঙ্গকে দর্শন করিয়া সর্ব্ব অভিমান ও গোঁড়ামী ত্যাগ করিয়া ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের পদতলে লুটিয়া পড়িয়াছিলেন ।
* এই জগৎ মিথ্যা মায়া, নীরব-নিস্পন্দ ব্রহ্মে লীন হওয়াই মানব জীবনের লক্ষ্য,” শ্রীঅরবিন্দ ইহা কোন দিন স্বীকার করেন
নাই। তিনি বলিলেন, জগৎ সত্য, ইহার মধ্যে ভগবানের আত্মপ্রকাশ হইতেছে; মানুষকে হইতে হইবে জড়দেহে সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ, ইহা শ্রীশ্রীঅরবিন্দের বাণী। আর শ্রীশ্রীরামঠাকুরের ভাবধারাও ঠিক একই প্রকারের। শ্রীশ্রীঠাকুরের পরিব্রাজ্য সন্ন্যাস জীবন গৃহীর আলয়ে পরিসমাপ্তি প্রাপ্ত হইল ।
শ্রীশ্রীমহাপ্রভু বলিয়াছিলেন :-
“কাশীতে পড়ায় বেটা প্রকাশানন্দ । সে বেটা করে মোর অঙ্গ খণ্ড খণ্ড ॥ বাখানয়ে বেদ মোর বিগ্রহ না মানে। সৰ্ব্বাঙ্গে হইল কুষ্ঠ তবু নাহি জানে ॥ সর্ব্বযজ্ঞময় মোর যে অঙ্গ পবিত্র। অজভব আদি গায় যাঁহার চরিত্র ॥ পূর্ণ পবিত্রতা পায় যে অঙ্গ পরশে। তাহা মিথ্যা বলে বেটা কেমন সাহসে ॥ সত্য, মোর লীলা, কৰ্ম্ম, সত্য মোর স্থান। ইহা মিথ্যা বলে মোরে করে খান খান ॥”
শ্রী সুরেন্দ্র বিজয় চৌধুরী
কোন মন্তব্য নেই: