শ্রীশ্রীরামঠাকুর,বেদবানী পত্রাংশ নং -((৪৬)
ভগবান সর্ব্বত্র সম প্রকৃতির আশ্রয় নিয়া বিলাস করিয়া থাকেন। গুণ আবর্ত্তনে বিষমত্ব লাভ হইয়া অজ্ঞানবশত: সুখ দুঃখ , আয়ব্যয়ে পরিণত হয়। এই দুঃখ জ মুক্তের জন্যই ভগবৎ-সেবায় রত থাকিয়া নিরপেক্ষতা লাভ করেন, ইহাই মুক্তি। পাপপূণ্য দ্বারা জীবের শরীরে ভোগ হয় না, প্রাক্তনলব্ধ জন্য হইতে ব্যাধিসকল আক্রমণ করে। সমস্তই গ্রহবৈগুণ্য মাত্র। কালচক্রের গতি অনবরত পরিক্রমণ করিয়া থাকে। যখন যে সত্তায় উপভোগে অধিষ্ঠান থাকে তাহাই ভোগে লিপ্ত হয়।
ভগবৎ সেবাই মুক্তির পথ
ভগবৎ সেবার প্রকৃত অর্থ
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই অমূল্য বাণীতে জীবনের গভীর আধ্যাত্মিক সত্য প্রকাশিত হয়েছে। ভগবান সর্বত্র সমভাবে বিরাজমান। কিন্তু জীবের অজ্ঞানতা ও মায়ার প্রভাবে সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি ও বিভিন্ন ভোগের সৃষ্টি হয়।
ঠাকুর বলেছেন, ভগবৎ সেবায় রত থাকিলে জীব নিরপেক্ষতা লাভ করে। আর এই নিরপেক্ষতাই প্রকৃত মুক্তি। মানুষ যখন নিজের অহং, কামনা ও ভোগবৃত্তিকে ত্যাগ করে ঈশ্বরসেবায় আত্মনিয়োগ করে, তখন তার অন্তরে শান্তি ও চিরআনন্দের উদয় হয়।
পাপ-পুণ্য ও জীবনের ভোগ
এই বাণীতে আরও বলা হয়েছে যে, জীবের শরীরে যে সুখ-দুঃখ বা ব্যাধি আসে, তাহা কেবল পাপ-পুণ্যের ফল নয়; প্রাক্তন কর্মফল ও গ্রহবৈগুণ্যের কারণেও জীব বিভিন্ন ভোগ ভোগ করে থাকে।
কালচক্রের গতি অবিরাম। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে জীব বিভিন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু যে ব্যক্তি ভগবানের সেবায় আত্মনিয়োগ করে, সে এই সকল দুঃখ ও পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হয়।
মুক্তির পথ
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের শিক্ষা অনুযায়ী, মুক্তির একমাত্র পথ হলো ভগবৎ সেবা, নামস্মরণ ও গুরুকৃপা। জীব যখন নিরহংকারভাবে ঈশ্বরের শরণ গ্রহণ করে, তখনই সত্যিকারের মুক্তির দ্বার উন্মুক্ত হয়।
উপসংহার
বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই বাণী আমাদের জন্য এক অনন্য দিশারী। ভোগ, দুঃখ ও অশান্তির মধ্যেও ভগবানের নাম ও সেবার মধ্যেই রয়েছে চিরশান্তি ও মুক্তির পথ।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
May 23, 2026
Rating:






.jpg)
No comments: