গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ পাঁচালী |

(শূণ্য ধাতু ভবেৎ প্রাণঃ) "প্রানোহি ভগবাণীশঃ প্রাণোবিষ্ণুঃ পিতামহঃ। প্রাণেন ধার্য্যতে সর্ব্বং, সর্ব্বং প্রাণময়ং জগৎ।।" মনের-অর্থ্যাৎ পূর্ব্ব পারস্থিত ব্যাসকাশীতে রূপলাবণ্যে রস বিরসের তারতম্য দ্বারা প্রলোভিত হইয়া, সত্যরূপ যে অখন্ড অবিনাশী প্রাণ তাঁহাকে ভূলিয়া মনের জল্পনা কল্পনায় বিমোহিত হই বলিয়াই হৃদাকাশ সীমাবদ্ধ রূপের ত্যাগ করিতে পারে না, কারণ, প্রাণের কোন রূপ নাই। মনের দ্বারা সীমাবদ্ধেই রূপের অস্থায়ী বৃত্তির সম্ভোগ ঘটিয়া থাকে। জন্ম মৃত্যু এড়াইতে মনে পারে না, প্রাণেই শক্তিমান জানিবেন। পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেব অভশিষ্যতে। সকল অবস্থায় পূর্ণ জানিবেন। মনে পূর্ণত্ব নাই, অপূর্ণই জানিবেন। প্রাণকেই পূর্ণমাসী বলিয়া প্রকাশ করিয়াছে। অতএব প্রাণের আশ্রয় নিলে অর্থাৎ শূন্যকে আশ্রয় করিলে প্রভাশূন্য, মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য, নিরাময়, সর্ব্বশূন্য নিরাভাস সমাধি তস্য লক্ষণং, ত্রিশূন্য যখন উপস্থিত হয় তখনই যজ্ঞ সমাপ্ত হইয়া থাকে।। ব্রহ্ম, বেদ, যজ্ঞ, ব্রাক্ষণ করিয়া বিশ্বনাথ অন্নপূর্ণাার অবিমুক্ত ক্ষেত্র করিয়াছেন। ব্যাস অন্নপূর্ণার স্থানে থাকিতে পারে না বলিয়াই পূর্ব্বপার অর্থাৎ মনের কাশী ( জ্ঞান) বলিয়া কীর্ত্তন করিয়াছেন। বেদবাণী ২য় খন্ড/২০৫ জয়রাম, জয়গোবিন্দ,

শূণ্য ধাতু ও প্রাণতত্ত্ব – সহজ ব্যাখ্যা


“শূণ্য ধাতু ভবেৎ প্রাণঃ”— এই বাক্যের মূল অর্থ হলো, প্রাণের প্রকৃত স্বরূপ শূন্য। এই শূন্য কোনো অভাব নয়, বরং সর্বব্যাপী পূর্ণতা। প্রাণই সকল শক্তির আধার।

শাস্ত্রবাণীতে বলা হয়েছে, প্রাণই ঈশ্বর, প্রাণই বিষ্ণু এবং প্রাণই ব্রহ্মা। এই সমগ্র জগৎ প্রাণের দ্বারাই ধারণকৃত। অর্থাৎ জগৎ সম্পূর্ণরূপে প্রাণময়।

মন রস-বিরসের তারতম্যে মোহিত হয়ে অখণ্ড ও অবিনাশী প্রাণতত্ত্বকে ভুলে যায়। কারণ প্রাণের কোনো রূপ নেই, কিন্তু মন রূপবদ্ধ। তাই মন সীমাবদ্ধ রূপের বাইরে যেতে পারে না।

জন্ম ও মৃত্যু মনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রাণ জন্ম-মৃত্যুহীন ও শক্তিমান। মানুষ যতদিন নিজেকে মন বলে জানে, ততদিন জন্ম-মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।

প্রাণই পূর্ণ। মন কখনো পূর্ণ নয়, সে সর্বদাই অপূর্ণ। তাই শাস্ত্রে প্রাণকেই পূর্ণমাসী বলা হয়েছে।

প্রাণের আশ্রয় মানে শূন্যের আশ্রয়। এই শূন্য অবস্থায় মন, বুদ্ধি ও অহং নিরাবরণ হয়ে যায়। এ অবস্থাই সর্বশূন্য সমাধি।

যখন মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য ও অহংশূন্য—এই ত্রিশূন্য অবস্থা উপস্থিত হয়, তখনই যজ্ঞ সমাপ্ত হয়।

ব্রহ্ম, বেদ, যজ্ঞ ও ব্রাহ্মণ—এই চতুর্বিধ সাধনাকেই অবিমুক্ত ক্ষেত্র বলা হয়েছে। জ্ঞানক্ষেত্ররূপে একে মনের কাশী বলা হয়।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: গুরু কৃপা ব্যতীত এই প্রাণ-শূন্য তত্ত্ব উপলব্ধি সম্ভব নয়।

“গুরু কৃপাহি কেবলম্”

জয়রাম, জয়গোবিন্দ

শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ পাঁচালী | শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ পাঁচালী | Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on April 01, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.