গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

সংসারের সত্য কি? | জীব দয়া, নামস্মরণ ও ত্যাগের মহাত্ম্য | শিক্ষা বাংলা@srisriramthakurpranerthakur

গুরু বন্দনা,জয় গুরু জয় গুরু জয় গুরু জয়..শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর (Ramthakuer Song)এর একটি ভক্তি মূলক গান

 মহারাজকে দর্শন ও তাঁহার কুশল সংবাদ যাদবপুরের শ্রীধামে জানিতে গেলে একদিন তিনি বলিলেন, "শ্রীশ্রী ঠাকুরের চিত্রপটের শ্রীদেহে কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চন্দন দ্বারা, 'সজ্জিত না' করাই উচিত, পরিবর্তে ফুলের মালা ব্যবহার করা সমীচীন।" তখন মনে প্রশ্ন জাগে আমি বিনীতভাবে মহারাজ জীউকে জিজ্ঞাসা করিলাম, "আমাদের বাসায় দয়াল ঠাকুরের যে শ্রীচরণ আছে, যাহাতে নিত্যপূজা করা কালীন যে চন্দনসহ তুলসীপত্র ও পুষ্পাদী অর্পণ করা হয় সেইক্ষেত্রে আমাদের কি করণীয়, যদি দয়া করিয়া একটু বলিয়া দেন তবে সার্থক প্রথায় পূজা করিতে পারি। উত্তরে মহারাজ বলিলেন, "চন্দনসহ তুলসীপত্র ও পুষ্পাদি শ্রীশ্রী ঠাকুরের শ্রীচরণে নিশ্চয়ই দিবা, কিন্তু পূজার অন্তে সেই চন্দন অবশ্যই মুছাইয়া দিবা, তাহা না করিলে ঠাকুরের অস্বস্তি বোধ হয়। তাই বইল্যা নিজ অঙ্গের পরিহিত বস্ত্রাদির দ্বারা কখনওই মুছাইও না। একটি ভিজা রুমাল দিয়া মুছাইয়া দিও।" ইহা শ্রবনে আমার মনের সকল সংশয় দূরীভূত হইল।

স্মরনিকা
চতুর্থ মহারাজ শ্রীমত ভবতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়- এর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য
"স্মৃতি তর্পণ"
শ্রীদূর্গাশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)
পৃষ্ঠা: ৬৩


জীবনে তিনি," ঠাকুরমহাশয় বলতে লাগলেন, "কাহাকেও যে তেমন কষ্ট দিয়েছেন এমন তাঁর মনে পড়ে না--একমাত্র তাঁর মাতাঠাকুরানী ছাড়া"। দীর্ঘকাল পরে তিনি যখন বাড়ি যেতেন তখন তাঁর মাতৃদেবী অত্যন্ত আনন্দিতা হতেন।একবার ঠাকুরমহাশয় তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন।সকলের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের পর বাড়ির পুকুর পাড়ে বসেছিলেন বেলা তখন মধ্যাহ্ন। এমন সময় কমলাদেবী এসে তাঁহার একটা হাত ধরে বললেন, " আয় তো রাম,আমার সঙ্গে আয়"। হাতধরা অবস্থায় কমলাদেবী ঠাকুরমহাশয়কে রান্নাঘরে নিয়ে এলেন।সেখানে পিঁড়ি পাতা রয়েছে,থালায় সুচারুরুপে ভাত বাড়া এবং থালার সামনে নানারকম ব্যঞ্জনে পূর্ণ পাঁচ ছ'টি বাটি।কমলাদেবী তাঁহাকে ঐ পিঁড়িতে বসে খেতে বললেন।ঠাকুরমহাশয়ও অনিচ্ছা জানালেন।তখন আকুল হয়ে ঠাকুরমহাশয়ের মাতৃদেবী বললেন, "তুই আমার সামনে বইস্যা দুইট্যা খা,আমি একটু দেখি।" ঠাকুরমহাশয় সবিনয়ে তাঁর মাতাঠাকুরানীকে জানালেন যে অন্ন তিনি আর গ্রহণ করতে অসমর্থ।কমলাদেবীর বক্ষ জুড়ে বড় দুঃখ ছিল তার পুত্র রামচন্দ্রের প্রায় অনাহারে থাকার জন্য।চক্ষু জুড়ে জল টলমল করছিল,এবার আর বাধা মানল না,দু'গন্ড বেয়ে জলধারা বইতে লাগল।ঠাকুরমহাশয় অধোমুখে তাঁর মাতার প্রস্তুত করা পঞ্চব্যঞ্জনের মধ্য থেকে একটি বাটি টেনে নিলেন। চার-পাঁঁচবার ঐ তরকারি মুখে দিয়ে উঠে পড়লেন।আঁচলে চোখের জল মুছলেন কমলাদেবী। যাক,তবু তো আজ তার রামের পেটে কিছু পড়েছে। ভারাক্রান্ত কন্ঠে ঠাকুরমহাশয় এতক্ষণ ধরে বলছিলেন এক খাওয়া নিয়ে তিনি তাঁর মাতৃদেবীকে এমন কতই না কষ্ট দিয়েছেন। এখন সেই খাওয়া নিয়ে কষ্ট তিনি আরও কত জনকেই না দিচ্ছেন। দু'একদিন পরের কথা।ঠাকুরমহাশয় একদিন সকালে প্রভাতচন্দ্রের কাছে চারআনা পয়সা চাইলেন এবং পয়সা নিয়েই অতি দ্রুত চরণে পথে বার হলেন। প্রতিদিন দু'জনে একসঙ্গেই পথ চলেন আবার এক সঙ্গেই ফিরে আসেন। আজ তিনি একাকী বার হলেন। এই ব্যতিক্রম কেন? প্রভাতচন্দ্র রাস্তায় নামলেন। কিছু দূর এগিয়ে তিনি দেখলেন ঠাকুরমহাশয় একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।কোঁচার কাপড়ের বিস্তৃত অংশ তিনি দোকানীর সামনে প্রসারিত করে দিয়েছেন আর তার উপর দোকানী মুড়ি ঢেলে দিচ্ছে। ঠাকুরমহাশয় মুড়ি কোঁচার কাপড়ে ভাল করে গিঁট দিয়ে বেঁধে নিলেন। বেঁধে নিয়েই ঠাকুরমহাশয় যেই মুখ ফেরালেন, সঙ্গে সঙ্গে প্রভাতচন্দ্র পাশের এক গলির ভিতর ঢুকে আত্মগোপন করলেন,পাছে ঠাকুরমহাশয়ের কাছে ধরা পড়ে যান যে তিনি গোপনে তাঁর অনুগমন করছেন।
সমুদ্রতীরে বাড়িগুলো পেরিয়ে ঠাকুরমহাশয় তখন দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছেন। প্রভাতচন্দ্র গলির মুখ ছেড়ে অতি দ্রুতগতিতে ঠাকুরমহাশয়কে লক্ষ্য করে চলছেন।খানিকটা দূরে ছায়ায়ভরা একটা জায়গায় ঠাকুরমহাশয়ের গতি শেষ হলো।বৃক্ষতলে একজন বসেছিলেন,ঠাকুরমহাশয় তাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন।বালুর উপর তাঁর কোঁচার কাপড় বিছিয়ে দিলেন,যাতে ছিল মুড়ি।হঠাৎ প্রভাতচন্দ্র উপলব্ধি করলেন যে তার গতি রুদ্ধ হয়ে গেছে অনেকক্ষণ আগেই। দু'ই পায়ে যেন কঠিন লোহার শৃঙখল আবদ্ধ আছে।যা তুলতেও পারেন না,চলতেও পারেন না।সামনে দৃষ্টি প্রসারিত করে দেখলেন ঠাকুরমহাশয় করজোড়ে বালুর ওপর বসে আছেন, আর তাঁর সামনে বসে যিনি,তিনি পরমানন্দে মুড়ি খাচ্ছেন।
কিছুক্ষন বাদে প্রভাতচন্দ্র দেখলেন ঠাকুরমহাশয় এবার তার দিকে আসছেন। সঙ্গে সঙ্গে হারান শক্তি পুনরায় ফিরে পেলেন প্রভাতচন্দ্র। তাড়াতাড়ি আরেক স্থানে আত্মগোপন করলেন।ঠাকুরমহাশয় কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা চলে গেলেন।
ঠাকুরমহাশয় তো তার চোখের সামনে দিয়ে স্বর্গদ্বারের দিকে গেলেন,কিন্তু তিনি যাহাকে মুড়ি খাওয়াচ্ছিলেন তিনি গেলেন কোথায়? কোন পথে?সেই স্থানে উপস্থিত হয়ে প্রভাতচন্দ্র দেখলেন বালুকার উপরে পড়ে আছে কয়েকটি পদচিহ্ন,আর ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে সাগরের উত্তাল হাওয়ায় উড়িয়ে আনা কয়েকটি মুড়ি।
বাসায় এসে প্রভাতচন্দ্র দেখলেন ঠাকুরমহাশয় তাঁর বিছানায় সোজা বসে আছেন। ক্লান্তির কোন চিহ্ন ঠাকুরমহাশয়ের মুখমন্ডলে নেই।প্রভাতচন্দ্র ঠাকুরমহাশয়ের চরণে লুটিয়ে পড়লেন। অকপটে তিনি জানালেন যে,শুধু সন্দেহের বশবর্তী হয়েই তিনি সংগোপনে তাঁর অনুগমন করছিলেন এবং প্রত্যক্ষ যা দেখেছেন তাও তিনি বললেন।তার অপরাধ ঠাকুরমহাশয় যেন মার্জনা করেন।মধুর হাস্যে ঠাকুরমহাশয় বললেন,তিনি যে তাঁর অনুগমন করছেন এটা তাঁর অজানা নয়।প্রভাতচন্দ্র তখন প্রশ্ন করলেন যাকে খাওয়াচ্ছিলেন তিনি কে? উত্তরে ঠাকুরমহাশয় বললেন,উনি গুরু।রাগে-দুঃখে ফেটে পড়ে প্রভাতচন্দ্র চিৎকার করে উঠলেন,শুধু চারআনার মুড়ি মাত্র তাকে দিলেন? কেন,পুরীতে কি ভালমন্দ জিনিসের অভাব ছিল? উত্তরে ঠাকুরমহাশয় বললেন, "ভালবাইস্যা তাহানরে যা দেওয়া যায় সেইটাই তিনি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন।ভালমন্দ উপকরণের উপর নির্ভর কইর্যা থাকলে তাহার সেবা হয় না।ভালবাসাটাই তাহার সেবা,সেইখানে দ্রব্যের গুণাগুণ নাই।"
জয় রাম জয় গোবিন্দ।


প্রভাত চক্রবর্তী শ্রীশ্রীঠাকুরের একনিষ্ঠ ভক্ত । শ্রীশ্রীঠাকুর প্রভাত চক্রবর্তীর বাড়ীতে।
সরাসরি ঠাকুরকে বললেন ," আজ আপনাকে একটা প্রশ্ন কোরবো , আপনাকে সঠিক উত্তর দিতে হবে।"
শ্রীশ্রী ঠাকুর বললেন, " আপনি যা কন আমি তো সব কথার ই উত্তর দেই।"
" না, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আপনাকে দিতে হবে। আপনার নানারকম শ্রীপট দেখতে পাই , কিন্তু সবখানেই কন্ঠিমালা পড়া আছে। আমাদের পরিচিত অনেকেই পড়ে ,তারা ধোয় , পরিস্কার করে, কখনো খোলে। কিন্তু আপনাকে কখনোই খুলতে দেখি না । এর কারণ আজ আমায় বলতেই হবে।"
শ্রীশ্রী ঠাকুর বললেন ," এ জাইন্যা আপনার কি হইবো? নাম করেন।"
নাম করি বলেই তো জানতে চাইছি। আজ আপনাকে বলতেই হবে ।
অনেক চাপান- উতোরের পর ঠাকুর বলতে শুরু করলেন..….." পাঁচশো বছর আগে শ্রীচৈতন্য ( ওরফে ঠাকুর) পর্যটনে বেড়িয়েছেন। দক্ষিণ ভারত ভ্রমণকালে তিনি এক বাড়ীতে এক পক্ষকালের জন্য ছিলেন। সেই বাড়ীতে স্বামী - স্ত্রী আর তাঁদের একটি পুত্র সন্তান। দুজনের ভীষন আনন্দ স্বয়ং ঠাকুর তাদের বাড়ীতে আছেন। কিন্তু ছেলেটি শ্রীচৈতন্য (ওরফে ঠাকুর) কে দেখেই কাঁদতে শুরু করে। এতে বাড়ীর লোক চিন্তিত হয়ে পোড়লো বাচ্চার এই আচরণে।
একদিন বাড়ীতে কেউ ছিলো না। ছেলেটিকে প্রশ্ন করলেন শ্রীচৈতন্য , এমন কাঁদার কারন কি? ছেলেটি বললো , 'তোমার এই রূপ আমার ভালো লাগে না। তোমার বাঁশি বাজানো রূপ আমায় দেখাও।' ছেলেটিকে দেখালেন কৃষ্ণরূপ। এরপর থেকে ছেলেটি আর কাঁদেনি। একপক্ষকাল পরে শ্রীচৈতন্য যখন চলে যাচ্ছেন বাচ্চাটির বায়না শুরু হলো ঠাকুরের সাথে যাবেন। বোঝালেন শ্রী চৈতন্য, 'বাবা -মা দেহাবসানের পর তিনি ডেকে নেবেন। আর নবদ্বীপে একসাথে থাকবেন কথা দিলেন।
বাবা-মা মারা যাবার পর সেই ছেলেটি নবদ্বীপে গিয়ে শ্রীচৈতন্যের সাথেই থাকতে শুরু করলেন।
অবশেষে একদিন তাঁর মৃত্যুকাল আসন্ন । বিছানায় শায়িত সেই ভক্ত। স্বয়ং শ্রীচৈতন্য শয়ণকক্ষে বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে দেখেন , চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।
জানতে চাইলেন ঠাকুর ," তুমি কাঁদছো কেন? এতো বড়ো ভক্ত তুমি । এতো নাম করেছো , তোমার এই কন্ঠ শুধু নাম ই করেছে । তুমি তো ভাগ্যবান।" উত্তরে জানিয়েছিলো ,'আমি তো জানি , আমি তোমার কাছেই যাবো। কিন্তু আমার দেহাবসানের পর আমার এই কন্ঠ ও তো হারিয়ে যাবে। এতো নামে ভরা কন্ঠ। সেই দুঃখেই আমি কাঁদছি।'
শ্রীচৈতন্য তখন বললেন, ' ঠিক আছে এই নামে গাঁথা কন্ঠ আমি গলায় ধারণ করলাম। '
সেই থেকেই কন্ঠিমালা আজ ও ঠাকুরের গলায়।
ঠাকুর বলেছিলেন , " ভক্তের বোঝা ভগবান ই বয়"।
জয়রাম জয়রাম।
প্রভাত চক্রবর্তীর ছেলে ফণীভূষণ চক্রবর্তীর কাছ থেকে শুনেছিলেন সবসময়ের সাথী শ্রীযুক্ত নকুল চন্দ্র দে মহাশয়। আমাদের বলতে গিয়ে তিনি অঝোড়ে কাঁদছিলেন। ভালোলাগা আর ভালোবাসার মেলবন্ধনে এমন ই ভাবাবেগ হয়।
*******
একদিন শ্রীযূক্ত নকুল চন্দ্র দে ফণীভূষণ চক্রবর্তীর বাড়ীতে গেছেন। ফণীবাবু অন্ধ ছিলেন। একাই থাকতেন । ছোট্ট একটা তক্তাপোষ ।
ঘরে ঢুকতেই ফণীবাবু তক্তাপোষের একটা কোণ দেখিয়ে প্রণাম করতে বললেন। বিস্মিত শ্রীযুক্ত নকুল চন্দ্র দে। কারন জানতে চাইলেন । উত্তর শুনে কেঁদেছিলেন নিশ্চয় ই , আমাদের বলতে গিয়ে কাঁদছিলেন সাথে আমরাও।
ওই তক্তাপোষের কোণায় ঠাকুর এসে বসেছিলেন। প্রণাম করেছিলেন নকুলবাবু। স্বপ্নে দেখেছিলেন কি না জানতে চাইলে ফণীবাবু বলেছিলেন, " যেমন আপনাকে দেখছি তেমন ই ঠাকুরকে দেখতে পেয়েছি। ঠাকুর আমায় লিখতে বললেন ।"
ভক্তের সংশয়ের ভার এখানেও ভগবান লাঘব করলেন।
ফণীবাবুর সংশয় ছিলো ঠাকুর প্রসঙ্গ লেখায়। কিন্তু সকলের অনুরোধ ছিলো যেন লেখেন ঠাকুরের কথা। এবার ফণীবাবুর সব সংশয় দূর করলেন ঠাকুর। ঠাকুর লিখতে বললেন ফণীবাবুকে।
রচিত হলো ' শ্রুতিতে রামঠাকুর'।
গুরু কৃপাহী কেবলম্।

সংসারের সত্য কি? | জীব দয়া, নামস্মরণ ও ত্যাগের মহাত্ম্য | শিক্ষা বাংলা@srisriramthakurpranerthakur সংসারের সত্য কি? | জীব দয়া, নামস্মরণ ও ত্যাগের মহাত্ম্য | শিক্ষা বাংলা@srisriramthakurpranerthakur Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ on April 17, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.