তীর্থ দর্শনের জন্য বাইরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি মন ও শরীর শুদ্ধ করা যায়, তবে এই দেহের মধ্যেই পরমাত্মা এবং পবিত্র তীর্থের সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব। দেহকে মন্দির বা ‘ধাম’ জ্ঞান করে ভজন করাই এই দর্শনের মূল উদ্দেশ্য।
দেহই জীবন্ত বৃন্দাবন
কালিন্দী যমুনা দুই নাসিকাতে রয়।।
কর্ণকুহরেতে আছে গঙ্গা সরস্বতী।
জিহ্বাতে অলকানন্দা কহে শুদ্ধমতি।।
অর্থাৎ: আমাদের এই শরীরটাই একটি জীবন্ত বৃন্দাবন।
রাধাকুণ্ড ও শ্যামকুণ্ড (নেত্রদ্বয়):
ব্রজধামের পরম পবিত্র দুটি কুণ্ড হলো রাধাকুণ্ড ও শ্যামকুণ্ড। মানুষের দুই চোখকে এই দুই কুণ্ডের প্রতীক বলা হয়েছে। ভক্ত যখন প্রেমে অশ্রু বিসর্জন করেন, তখন সেই অশ্রুজলকে এই পবিত্র কুণ্ডের জলের সমান ধরা হয়।
কালিন্দী ও যমুনা (নাসিকা):
কালিন্দী মূলত যমুনারই নামান্তর। নাসিকার দুই নাসারন্ধ্রকে যমুনার প্রবাহের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যোগশাস্ত্রে ইড়া ও পিঙ্গলা নাড়ির প্রবাহ নাসিকা দিয়ে চলাচল করে—এই প্রবাহকেই কালিন্দী ও যমুনার ধারা হিসেবে ধরা হয়।
গঙ্গা ও সরস্বতী (কর্ণকুহর):
কানের ছিদ্র বা শ্রবণেন্দ্রিয়কে গঙ্গা ও সরস্বতীর পবিত্রতার সাথে তুলনা করা হয়েছে। কারণ এই পথ দিয়েই হরিকথা ও তত্ত্বজ্ঞান প্রবেশ করে, যা মানুষকে শুদ্ধ করে।
অলকানন্দা (জিহ্বা):
জিহ্বাকে বলা হয়েছে অলকানন্দা। যখন এই জিহ্বা দিয়ে কৃষ্ণনাম বা পরম সত্য উচ্চারিত হয়, তখন তা অলকানন্দার পবিত্র প্রবাহের মতো সকল কলুষতা দূর করে।
সারকথা:
তীর্থ দর্শনের জন্য বাইরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি মন ও শরীর শুদ্ধ করা যায়, তবে এই দেহের মধ্যেই পরমাত্মা এবং পবিত্র তীর্থের সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব। দেহকে মন্দির বা ‘ধাম’ জ্ঞান করে ভজন করাই এই দর্শনের মূল উদ্দেশ্য।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
এপ্রিল ০২, ২০২৬
Rating:






.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: