গুরু ভাই বোনসহ সকল সনাতনী ভাই বোনদের জানাই স্বাগত ,উদ্দেশ্য গুরু দেবের অমৃত বানী সকলের মাঝে প্রচার করা।

তৃতীয় অধ্যায়- কর্মযোগ-(Bangla Gita)


অর্জুন উবাচ
জ্যায়সী চেৎ কর্মণস্তে মতা বুদ্ধির্জনার্দন।
তৎ কিং কর্মণি ঘোরে মাং নিয়োজয়সি কেশব।।১।।

অনুবাদঃ অর্জুন বললেন-হে জনার্দন! হে কেশব! যদি তোমার মতো কর্ম অপেক্ষা ভক্তি-বিষয়িনী বুদ্ধি শ্রেয়তর হয়, তাহলে এই ভয়ানক যুদ্ধে নিযুক্ত হওয়ার জন্য কেন আমাকে প্ররোচিত করছ?



 পূর্ব্ব স্মৃতি একে একে জাগিয়া উঠিল। দেখিলাম, আমি যাহাতে মায়াময় সংসারের অস্থায়ী সুখ সম্ভোগে লালায়িত না হই এবং পরমার্থ লাভের জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকি সেই চেষ্টাই তিনি আমার বাল্যাবধি করিয়া আসিতেছেন।আমি সেই পরম হিতৈষী মহাপুরুষের আদেশ উপদেশ উপেক্ষা করিয়া নূতন ভাবে সংসারে জড়িত হইবার জন্যই ঘুরিতেছি।

আত্মঘাতী আর কাহাকে বলে! কাতরনেত্রে তাঁহার দিকে চাহিয়া রহিলাম। সর্বজ্ঞ ঠাকুর আমার হৃদয়ের বেদনা জানিলেন। দয়াময় মধুর বাক্যে আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, "এখন কলিকাতা যাইয়া আমার জন্য অপেক্ষা কর।এ দিকের কাজ সারিয়া আমি তোমাকে লইয়া ঁকাশীধাম যাইব।"
তাঁহার আদেশ অনুসারে আমি কলিকাতা যাইয়া খিদিরপুরে আমার পিসতুতো ভ্রাতার বাসায় গুরুদেবের অপেক্ষায় রহিলাম। এক মাসের অধিক কাল চলিয়া গেল,তিনি আর আসেন না।আমি দুই এক দিন অন্তরই বহুবাজার ঁহরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের বাসায় যাইয়া গুরুদেবের খোঁজ লইতাম। এইরূপ যাতায়াতে আমার হাতে সামান্য যে কয়টা টাকা ছিল, তাহা খরচ হইয়া গেল।আর্থিক অনটন হেতু কলিকাতা থাকা আমার পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব হইয়া দাঁড়াইল। আমি অধৈর্য্য হইয়া পড়িলাম।একদিন ঁহরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়কে বলিলাম, "আমি আজই ঁকাশীধাম রওনা হইব। গুরুদেব আসিয়া আমার খোঁজ করিলে আমার বর্ত্তমান অবস্থা তাঁহাকে বলিবেন। নিতান্ত অসমর্থ হইয়াই তাঁহার আদেশ লঙ্ঘন করিয়া কলিকাতা ছাড়িয়া গেলাম। "
আমি ঁহরেশ্বর বাবুর দোকান হইতে বাহির হইয়া ধর্ম্মতলার মোড়ে আসিয়া দাঁড়াইলাম। রাস্তায় লোকের অত্যন্ত ভিড়।আমি এশ্ প্লানেড জংশনের দিকে মুখ ফিরিয়া দাঁড়াইয়া আছি,একটু সুযোগ পাইলেই রাস্তা পার হইয়া যাইব ও খিদিরপুরের ট্রামে উঠিব ভাবিতেছি।এমন সময় কে যেন পশ্চাদ্দিক হইতে আমার পিঠে হাত দিয়া বলিলেন, "একটু ধৈর্য্য ধরিতে হয়।"
আমি পাছে মুখ ফিরাইয়া শ্রীশ্রীগুরুদেবকে দেখিয়া স্তম্ভিত হইয়া গেলাম। তিনি অকস্মাৎ কোথা হইতে আসিলেন,আমি যে এখানে দাঁড়াইয়াছি এবং আমি যে অধৈর্য্য হইয়াছি তাই বা তিনি কি করিয়া জানিতে পারিলেন ভাবিয়া আমি আশ্চর্য্যান্বিত হইলাম। কিছুক্ষণ পরে আমরা খিদিরপুরের বাসায় গিয়া উপস্থিত হইলাম।
শ্রীমৎ শ্যামদাদার আত্মকথা
শ্রীমহেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী
No photo description available.
115
30
16
তৃতীয় অধ্যায়- কর্মযোগ-(Bangla Gita) তৃতীয় অধ্যায়- কর্মযোগ-(Bangla Gita) Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ on April 17, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.