Sri Sri Ram Thakur is a revered spiritual master whose teachings continue to inspire countless devotees across India and around the world. The website serves as a comprehensive digital platform dedicated to preserving, promoting, and sharing the divine life, teachings, philosophy, and spiritual legacy of Sri Sri Ram Thakur, lovingly known as Dayal Thakur, Sri Sri Kaibalyanath, and Sri Sri Satyanarayan by his followers. Born as Ram Chandra Dev in Dingamanik, Faridpur (present-day Bangladesh)

ভগবদ্গীতার ৬১টি জীবন বদলে দেওয়া শিক্ষা | Krishna Motivational Speech in Bengali


নমস্কার প্রিয় দর্শকবৃন্দ।

আজ আমরা আলোচনা করবো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৬১টি অমূল্য শিক্ষা, যা মানুষকে ভয়, দুঃখ, হতাশা ও অশান্তি থেকে মুক্তি দিয়ে সত্যিকারের শান্তি ও সাফল্যের পথে পরিচালিত করে।

শিক্ষা ১

মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করো না। প্রত্যাশাই অধিকাংশ কষ্টের মূল কারণ।

শিক্ষা ২

নিজের ভালোবাসা কখনো জোর করে কারও উপর চাপিয়ে দিও না।

শিক্ষা ৩

নিজের দুর্বলতা সবার সামনে প্রকাশ করো না।

শিক্ষা ৪

প্রতারণা থেকে শিক্ষা নাও, কিন্তু ঘৃণা পোষণ করো না।

শিক্ষা ৫

কর্ম করো, কিন্তু ফলের প্রতি আসক্ত হয়ো না।

শিক্ষা ৬

মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে জীবনের সব বাধা জয় করা সম্ভব।

শিক্ষা ৭

ক্রোধ, লোভ ও মোহ মানুষের সর্বনাশের প্রধান কারণ।

শিক্ষা ৮

অতীত নিয়ে আফসোস নয়, বর্তমানকে বাঁচতে শেখো।

শিক্ষা ৯

সত্যিকারের শান্তি বাইরের জগতে নয়, নিজের অন্তরে।

শিক্ষা ১০

ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখো, তিনি কখনো ভক্তকে ত্যাগ করেন না।

(এভাবে বাকি শিক্ষাগুলি সংক্ষেপে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করুন।)


Option 1

গীতার ৬১টি শিক্ষা

জীবন বদলে যাবে!

Option 2

শ্রীকৃষ্ণের সতর্কবার্তা

এখনই শুনুন!

Option 3

এই ৬১টি শিক্ষা জানলে

দুঃখ দূর হবে!




 শ্রীমদ ভগবত গীতার জ্ঞান অসাধারণ রহস্যে ভরপুর। জীবনে তুমি আর কিছু জানো বা না জানো যদি শুধু গীতার জ্ঞান তুমি উপলব্ধি করতে পারো তবে জীবনে তুমি সেই সবকিছুই পেতে পারবে যা তুমি সত্যিই পেতে চাও। তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ, [মিউজিক] দুর্দশা, অশান্তি, সমস্যা সবকিছুকে সহজেই দূর করতে পারবে। গীতার জ্ঞান মানুষকে প্রতিটি ভয় থেকে মুক্তি দেয়। প্রতিটি চিন্তা থেকে আজাদ করে দেয় এবং সাফল্য ও খ্যাতি অর্জনের পথ প্রশস্ত করে। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে অবশ্যই এই জ্ঞান শুনবে। মনোযোগ দিয়ে গ্রহণ করবে। এতে করে ধীরে ধীরে তোমার


ভেতরের অশান্তি দূর হবে। মন শান্ত হবে আর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারণ প্রতিদিন আমরা এখানে গীতার জ্ঞান ও ধর্মের [গলা পরিষ্কার করা] গভীর বার্তা ভাগ করে নিই। যা তোমার জীবনে আলো ছড়াবে। গীতার এই উপদেশগুলো সাধারণ কথা নয়। এগুলো জীবনের অমূল্য দিশা। গীতা আমাদের শেখায় প্রথমত এই কঠিন কলিযুগে মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভালোবাসা বা ভালো ব্যবহারের প্রত্যাশা করা উচিত নয়। আজকের যুগে কেউ কারো জন্য ভালো হয় কেবলমাত্র তখনই যখন তার কোন স্বার্থ জড়িত থাকে। স্বার্থ শেষ হয়ে গেলে সেই একই মানুষ এমন একটি রূপ দেখায় যা তুমি কখনো কল্পনাতেও ভাবোনি।


মানুষের যে বাহ্যিক ভালো দেখাও তা আসলে একটি মুখোষ একটি ছদ্দবেশ মাত্র। তাই যখন কেউ তোমার প্রতি ভালো আচরণ করে তখন তাকে নিয়ে অন্ধভক্তি সৃষ্টি করো না বা তার পিছনে পিছনে নিজেকে নিঃশেষ করো না। কারণ একজন মানুষ কবে কেমন বদলে যাবে তা কেউ জানে না। যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ ভালো থাকে ততক্ষণ তাকে নিয়ে আনন্দ করো। কিন্তু যখন সে বদলে যায় তখন তার জন্য আফসোস করো না। নিজের ভেতরে সেই বোধ তৈরি করো যে পৃথিবীতে সবকিছু পরিবর্তনশীল। যেকোন মানুষ যে কোোনো সময় বদলে যেতে পারে। তাই কারো ভালো ব্যবহার দেখে অন্ধ হয়ে তাকে নিয়ে ভেসে


যেও না। কিংবা তাকে একেবারে নিজের অবলম্বন বানিও না। যে যত ভালোই তোমার সঙ্গে চলুক না কেন বিশ্বাস করো ঠিক ততটুকুই যতটুকুতে তোমার হৃদয় ভেঙে না যায়। গীতার আরেকটি শিক্ষা হলো নিজের ভালোবাসা কখনো জোর করে কারো উপর চাপিয়ে দিও না। তুমি যতই কাউকে ভালোবাসো না কেন যদি তার কাছে তোমার সেই ভালোবাসার কোন মূল্য না থাকে তবে তুমি যতই আকুল মিনতি করো না কেন তার কাছে তা কোন অর্থ বহন করবে না। যেমন যদি কেউ কোন বানরকে ক্ষীরের মালা পরিয়ে দেয় তবে মানুষ তাকেই পাগল বলবে। কারণ বানরের কাছে সেই মহামূল্যবান জিনিসের কোন দাম নেই। সে


সেটিকে ভেঙে ফেলে দেবে। একইভাবে তোমার ভালোবাসাও সেই হীরের মালার মতো। যদি তুমি তা এমন এক মানুষের উপর নষ্ট করে দাও যার হৃদয় সেই যোগ্য নয়। তবে শেষে শুধু আফসোস আর কান্নাই তোমার প্রাপ্য হবে। তাই যদি তুমি না বুঝে কারো কাছে তোমার ভালোবাসা উজার করে দাও তবে ভুলটা তোমারই ধরা হবে। অন্যের নয়। গীতা আমাদের আরো শেখায় যে কখনোই অন্যদের সামনে নিজেকে দুর্বল প্রমাণ করো না। যদি তুমি কারো কাছে তোমার দুর্বলতা প্রকাশ করো তবে তা তোমার জন্য ক্ষতির কারণ হবে। কারণ মানুষ তোমার সেই দুর্বলতাকেই তার শক্তি বানিয়ে তোমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। যেমন যদি তুমি


কারো কাছে বলে ফেলো যে তুমি তার ছাড়া বাঁচতে পারবে না। তবে সেই মানুষ জানবে যে সে তোমার সঙ্গে যতই খারাপ ব্যবহার করুক না কেন তুমি তার কাছেই থাকবে। তখন তোমার জীবন তার উপর নির্ভর হয়ে যাবে। আর সে সবসময় তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। যে মানুষই তোমার দুর্বলতা জেনে ফেলে সে তোমাকে বারবার ভয় দেখাবে এবং তোমাকে তার নিয়মে চালাবে। আর তখন তুমি আর স্বতন্ত্র থাকবে না। কেবলই এক অসহায় দুর্বল মানুষ হয়ে যাবে। আর দুর্বল মানুষের প্রতি কেউ ভয় পায় না কেউ তার সম্মানও করে না। তাই তোমার যত দুর্বলতাই থাকুক না কেন তা কখনো পৃথিবীর সামনে


প্রকাশ করো না। আরেকটি উপদেশ হলো যখন কেউ তোমার সঙ্গে অন্যায় করে তোমাকে ঠকায় বা বিশ্বাসঘাতকতা করে তখন তাকে গালাগাল দেওয়ার চেয়ে এই চিন্তা করা উচিত তুমি কোথায় এমন সুযোগ দিলে যে সে তোমার সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারলো কোন ভুলে তুমি তাকে এতটা সুযোগ করে দিলে আসলে আজকের যুগে অধিকাংশ মানুষই সুযোগ সন্ধানী কিন্তু যদি তুমি শিখে নাও কার সঙ্গে কতটুকু সম্পর্ক রাখতে হবে এবং যদি কেউ সীমা অতিক্রম করে তবে তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দাও যে তুমি অন্যায় কখনোই সহ্য করবে তবে কেউ তোমাকে সহজে ব্যবহার করতে পারবে না। জীবনে তুমি


যে প্রতারণা ও কষ্ট পেয়েছো সেখান থেকে শিক্ষা নাও। কাউকে আর দ্বিতীয়বার একই সুযোগ দিও না। মনে রেখো মানুষ তোমাকে সম্মান করবে বা তোমাকে ব্যবহার করবে এটা সম্পূর্ণ তোমার উপর নির্ভর করে। তাদের উপর নয়। তাই ভাই বোনেরা প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আর সকালে ঘুম থেকে উঠে এই জ্ঞান শুনতে ভুলো না। নিয়মিত শুনলে তোমার ভেতরের ভয় কেটে যাবে। মন শান্ত হবে। আর জীবনে তুমি পাবে এক অদ্ভুত শক্তি। আর যারা এখনো সাবস্ক্রাইব করোনি তারা অবশ্যই আমাদের মেসেজ অফ ধর্ম চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করো। যাতে প্রতিদিন গীতার এই পবিত্র বাণী তোমার


কাছে পৌঁছাতে পারে। গীতা আরো জানায় যে আজকের যুগে সত্যিকারের ভালোবাসা বা সৎস সম্পর্ক খুব কম মানুষই সহ্য করতে পারে। কারণ মানুষ মিথ্যার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সম্পর্কগুলো বাহ্যিক ভানেই সীমাবদ্ধ। তাই যখন কেউ আন্তরিকভাবে সত্যিকারের ভালোবাসা দেয় তখন তার প্রতিদান হিসেবে প্রায়শই দুঃখই পেতে হয়। এক বিদেশী ভ্রমণকারী ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তিনি শুনেছিলেন যে এখানে দেশী গুরুর খাঁটি দুধ অত্যন্ত উৎকৃষ্ট ও স্বাস্থ্যকর। তাই তিনি যে হোটেলে উঠেছিলেন সেখানে মালিককে বললেন, আমি ভারতীয় খাঁটি দুধের মহিমা অনেক শুনেছি। আমায় কি সেই দুধ দেওয়া


সম্ভব? হোটেলওয়ালা বললেন, অবশ্যই আমি আপনাকে খাঁটি দুধ এনে দেব। সেই বিদেশী অতিথি দুধ খেলেন এবং সত্যিই তার স্বাদে মুগ্ধ হলেন। তিনি আরো এক গ্লাস দুধ অর্ডার দিলেন। [মিউজিক] কিন্তু দুগ গ্লাস দুধ খাওয়ার পরেই তার পেট খারাপ হয়ে গেল। হজম শক্তি নষ্ট হলো এবং পরের দিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। হোটেলওয়ালা বিশিত হয়ে গেলেন। যে দুধ অসুখ সারায় শরীরকে শক্তি দেয়। সেই দুধ খেয়ে তিনি অসুস্থ হলেন কিভাবে?" ডাক্তার এসে বললেন, এর হজম শক্তি আসল দুধ সহ্য করার মত নয়। এতদিন এ শুধু নকল দুধই খেয়ে এসছে। তাই খাঁটি দুধ হজম করার


ক্ষমতা এর শরীরে নেই। ঠিক তেমনি আজকের কলিযুগের মানুষও তারা সারাজীবন মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে থাকে। মিথ্যার সম্পর্ক গুড়ে তোলে। মিথ্যার পথেই চলে। তাই যখন কোন সত্যিকারের সম্পর্ক বা খাঁটি প্রেম তাদের জীবনে আসে তখন তারা তা সহ্য করতে পারে না গ্রহণ করতে পারে না। সত্যিকারের ভালোবাসার ও সম্পর্কের আসল মূল্য তারা বোঝেই না গীতা আমাদের এখান থেকে শেখায়। কলিযুগে মানুষের জীবন ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠবে। প্রতিটি মানুষের জীবন জটিল সমস্যায় জড়িয়ে যাবে। মানুষ শুধু নিজের স্বার্থের কথাই ভাববে। নিজের বাইরে অন্য কারোর জন্য


মনোযোগ দেবে না। নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য মানুষ একে অপরকে প্রতাারিত করতে লজ্জাবোধ করবে না। অন্যকে কষ্ট দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। সম্পর্কগুলো টিকবে কেবল তখন পর্যন্ত যতক্ষণ স্বার্থ আছে। স্বার্থ শেষ হয়ে গেলে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। কলিযুগে মানুষ ক্রোধী ঝগড়াটে হয়ে উঠবে। অতি সামান্য কারণে তারা উত্তেজিত হবে এবং সবসময় লড়াই বিবাদে জড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকবে। কারোর জীবনেই শান্তি দেখা যাবে না। এই কারণে গীতা বলে কলিযুগে মানুষের সঙ্গে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই সম্পর্ক রাখো। অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়লে শেষে তোমার প্রাপ্তি হবে শুধু দুঃখ


আর যন্ত্রণা। মানুষের কাছ থেকে সুখ আশা করা একেবারেই ত্যাগ করো। এ পৃথিবী এক মায়ার জগত। এখানে সবকিছু বাইরে থেকে আকর্ষণীয় মনে হলেও ভেতরে শূন্য। মানুষের মধ্যে সুখ কেবলই প্রদর্শিত হয়। বাস্তবে তা থাকে না। যেমন আয়নায় তুমি নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাও। অথচ সেটি প্রকৃত তুমি নও কেবলই ছায়া। তেমনি মানুষের মধ্যে প্রকৃত আনন্দ, প্রকৃত ভালোবাসা খুঁজতে যেও না। বোঝো যে তোমার শান্তি, তোমার আনন্দ, তোমার সুখ কেবল তোমার অন্তরের মধ্যেই আছে। গীতার পরবর্তী শিক্ষা হলো প্রতিটি মানুষ নিজের কাজের জন্য একমাত্র নিজেই দায়ী।


ঈশ্বর মানুষকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। সে চাইলে সৎকর্ম করবে, চাইলে অসৎ কর্ম করবে। তাকে কেউ আটকাবে না। তাই মানুষ যা কর্ম করবে সেই অনুযায়ী ফল পাবে। মানুষের জীবনে যে সুখ-দুঃখ আসে তা আসলে তার নিজের কর্মফল। কিন্তু মানুষ প্রায়ই ভাগ্যকে দোষ দেয়। ঈশ্বরকে দোষ দেয়। যে আমার ভাগ্যই খারাপ। বা ঈশ্বর জানি কেন আমাকে পরীক্ষা নিচ্ছেন। প্রকৃত সত্য হলো তোমার ভাগ্য তোমার নিজের কর্মেই তৈরি হয়। তোমার কর্মই তাকে সাজায় বা ভেঙে দেয়। যে ঈশ্বর বা প্রকৃতিকে তুমি দোষ দাও সে আসলে কেবল তোমার কর্মফল তোমার কাছে ফিরিয়ে


দেয়। তাই পুরো দায়িত্ব তোমার নিজের। তোমার জীবন যদি ভালো হয় তার কারণ তুমি নিজেই। আর যদি জীবন দুঃখময় হয় তার কারণও তুমি ছাড়া আর কেউ নয়। নিজের দায়িত্ব থেকে কক্ষনো পালিয়ে যেও না। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এ সত্য স্বীকার না করবে যে নিজের জীবন তুমি নিজেই গড়ে তোলো বা ভেঙে দাও ততক্ষণ তুমি পরিবর্তনের কোন পদক্ষেপই নেবে না। কারণ যদি তুমি ভেবে বসো যে আমার হাতে কিছুই নেই। সবকিছুই ভাগ্যের হাতে। সব ঈশ্বরের হাতে। তবে তোমার জীবনে কোন উন্নতি আসবে না। ঈশ্বর বা ভাগ্য তোমার জন্য কিছুই করে না। তোমার নিজের কর্মই নির্ধারণ করে।


তোমার জীবনে সুখ আসবে না দুঃখ? আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গীতা আমাদের দেয়। এই যুগে যদি তুমি পড়ে যাও ব্যর্থ হও তবে তোমাকে তুলতে কেউ আসবে না। তোমাকে ভর্সা দিতে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসবে না। আর যখন তোমার খারাপ সময় আসবে তখন সবাই তোমাকে ছেড়ে পালিয়ে যাবে। কিন্তু আশ্চর্য হলো যখন তুমি সফল হতে শুরু করবে জীবনে এগিয়ে যাবে তখন সবাই তোমাকে টেনে নামানোর চেষ্টা করবে। এ পৃথিবীর স্বভাবই এমন। দুঃখী মানুষকে কিছু দেয় না। সুখী মানুষকে সহ্য করে না। জীবন এমনই এক নিয়মে চলে। এখানে তোমাকেই পড়তে হবে। আর তোমাকেই


উঠে দাঁড়াতে হবে। আজকের দিনে মানুষ এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে কারো মৃত্যু হলেও তারা ভাবে দ্রুত দাহ সংস্কার করো। আমাদের অন্য কাজে যেতে হবে। কারো জীবনে কি ঘটছে সে কি যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তা জানার বা বোঝার মত সময় বা ইচ্ছা আজ আর কারো নেই। প্রত্যেকেই কেবল নিজের কথাই ভাবে। নিজের জীবন নিয়েই ব্যস্ত। তাই মানুষের কাছ থেকে আশা করো না যে তারা তোমার দুঃখে পাশে থাকবে। তোমার সত্যিকারের সঙ্গী কেবল ঈশ্বর আর তুমি নিজেই। ভগবত গীতা আমাদের এমন অমূল্য উপদেশ দেয় যার গভীরতা এত বিস্তৃত যে মানুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা উপলব্ধি করতে পারে।


গীতা স্পষ্ট করে বলে যদি কোন সম্পর্ক কোন কাজ কোন ব্যবসা বা জীবনের কোন বিষয় তোমার মনের শান্তি আর আনন্দ কেড়ে নেয় তবে তার পিছনে কষনো ছুটবে না। বুঝে নাও সেটি তোমার জন্য তৈরি হয়নি। তুমি যতই চেষ্টা করো না কেন সেই জিনিস কোনদিন তোমার হাতে আসবে না। তুমি সেই সম্পর্কে সুখ খুঁজবে কিন্তু তার বদলে পাবে কেবল অস্থিরতা আর কষ্ট। জীবনে আমরা সবসময় দু ধরনের জিনিস পাই। একটি যা আমাদের মনকে ভালো লাগে আরেকটি যা আমাদের জন্য সত্যিই ভালো। কিন্তু সবসময় মনকে ভালো লাগা জিনিস সঠিক নাও হতে পারে। অনেক সময় যেটা সত্যিই আমাদের জন্য কল্যাণকর


সেটা মনকে ভালো লাগে না। তাই কেবল মনের পছন্দের পিছনে দৌড়াবেন না বরং যেটা আপনার জন্য সত্যিই সঠিক সেটাকেই গ্রহণ করা উচিত। কারণ মন প্রায়ই আমাদের সেই পথে নিয়ে যায় যা আমাদেরকে জটিলতায় ফেলে। বিভ্রান্ত করে রাখে। মহাভারতের যুদ্ধক্ষেত্রে যখন যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছিল তখন অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে বললেন, আমি যুদ্ধ করবো না। নিজের স্বজনদের হত্যা করার চেয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করাই শ্রেয়। যদিও গৌরবেরা আমাদের প্রতি অনেক অন্যায় করেছে তবুও আমি কেমন করে আমার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলবো তখন শ্রীকৃষ্ণ তাকে বললেন এখানে


তোমার মনের ভালো লাগার কোন স্থান নেই এখানে কথা হচ্ছে ধর্ম অধর্মের ন্যায় ও অন্যায়ের যদি তুমি যুদ্ধ না করো তবে অধার্মিক আর পাপিষ্ঠরা আরো অধর্ম করবে আরো অন্যায় করবে জনগণকে কষ্ট দেবে তাই মনের ভালো লাগার পিছনে নয় বরং যেটা সঠিক সেই কর্ম করো তোমার জীবনের এবং সমাজের মঙ্গল সেখানেই নিহিত গীতার একটি শিক্ষা হলো যতক্ষণ তুমি অন্যদের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার আশা করবে ততক্ষণ অবমাননা তোমার সঙ্গী হবে। যতক্ষণ তুমি চাইবে কেউ তোমাকে গুরুত্ব দিক ততক্ষণ তোমার কোন মূল্য কেউ দেবে না। মানুষের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার আশা করা উচিত নয়। কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ


মানুষ স্বার্থপর। তাদের স্বার্থপূর্ণ হলেই তারা ভুলে যায় তুমি তাদের জন্য কি করেছো। তুমি সারাজীবন কারোর জন্য নিঃস্বার্থভাবে সব দেবে। কিন্তু তারা সম্পর্ক ভাঙতে এক মুহূর্তও নেবে না। অথচ তুমি চাইতে থাকবে তারা যেন তোমার কদর করে। কিন্তু এরা কারোরই নয়। তাই তাদের জন্য মরতে যেও না বরং নিজের জন্য বাঁচতে শিখো। আরেকটি শিক্ষা যা হয় ভালোই হয়। যা হচ্ছে ভালোই হচ্ছে। আর যা হবে সেটিও ভালোই হবে। শুনতে সহজ কিন্তু মানতে সবচেয়ে কঠিন। কারণ জীবনে যখনই আমাদের সঙ্গে অন্যায় ঘটে বা দুঃখ আসে তখন মনে হয় যেন সবই ভুল। মানুষ


স্বার্থপর মনে হয়। জীবন অন্যায় মনে হয়। তখন এই কথাটা সত্যি বলে মনে হয় না। কিন্তু বাস্তব হলো দুঃখ আমাদের শক্তিশালী করে। স্বচ্ছ শক্তি দেয়। যখন কেউ আমাদের আঘাত দেয় তখনই আমরা বুঝতে পারি আসলে কার জন্য আমরা সব করছিলাম। আর সেই মানুষটির কাছে আমাদের কোন মূল্যই ছিল না। যেমন একটি শিশু যখন অসুস্থ হয় তখন মা তাকে তেত ওষুধ খাওয়ায়। শিশুর কাছে তা একেবারেই অরুচিকর। কিন্তু সেই তেত ওষুধই রোগ সারায়। জীবনের কষ্টও তেমনি। আমাদের চোখ খুলে দেয়। মানুষ চিনতে শেখায়, লড়াই করতে শেখায়, এগিয়ে যেতে শেখায়। আসলে মানুষকে ঠিকমত চেনা যায় তখনই যখন সে


আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। সবাই মুখে মুখোষ পড়ে থাকে। কিন্তু যখন তাদের স্বার্থ ফুরিয়ে যায় তখনই তাদের আসল চেহারা প্রকাশ পায়। তাই জীবনে কষ্ট পাওয়ারও মঙ্গলজনক। কারণ তাতে আমরা শক্ত হতে শিখি। জীবনের গভীর সত্য বুঝতে পারি। ভগবত গীতার আরেকটি গুরুমূলক শিক্ষা হলো জীবনে কখনো কারো দাসত্বে বেঁচে থেকো না। কারো উপর নির্ভরশীল হয়েও না। যতক্ষণ তুমি স্বাধীন ততক্ষণ কেউ তোমাকে কষ্ট দিতে পারবে না। কেউ তোমাকে ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু যেই মুহূর্তে তুমি কারো উপর নির্ভরশীল হলে সেই মুহূর্ত থেকে সে তোমাকে শোষণ করা শুরু করবে। জীবনে নিজের কাজ নিজে


করার অভ্যাস না থাকলে মানুষ তোমাকে দাসত্বে আবদ্ধ করে রাখবে। অফিসে বস, ঘরে পরিবার কিংবা বাইরের মানুষ যার উপর তুমি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে সে তোমার স্বাধীনতা কেড়ে নেবে। নিজের প্রতিভা থাকলেও তারা তোমার পাখা কেটে দেবে। তোমাকে সামনে এগোতে দেবে না। কারো দাসত্বে থাকা মৃত্যুর থেকেও ভয়ঙ্কর। কারণ তা মানুষকে জীবন্ত লাশ বানিয়ে দেয়। খেয়াল করে দেখলে দেখবে জীবনে তোমার সব কষ্ট সব দুঃখ এসেছে সেখান থেকেই যেখানে তুমি কারো কাছে নির্ভরশীল হয়েছিলে। গীতা তাই শেখায় নিজেকে শক্ত করে তোলো। আত্মনির্ভরশীল হও। নিজের জীবন


নিজের মত করে গড়ে তোলো। তাহলেই তুমি মুক্ত। তাহলেই তুমি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন। কিন্তু জীবনে মানুষ কেবল দেহ বা কাজের কারণে নয়। সবচেয়ে বড় নির্ভরশীলতা তৈরি হয় মনের মধ্যে। আমাদের এই মনই বারবার কাউকে চাইতে থাকে। কেউ যেন আমাদের বুঝুক, সামলাক, পাশে থাকুক। অথচ যখন কেউ থাকে না তখন আমরা অনেক সময় সুখী হতে পারি না। একাকিত্ব মানুষ সহজে সহ্য করতে পারে না। আর সেই দুর্বলতায় আমাদের এমন সব সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলে যেখানে অন্যরা আমাদের মনের এই নির্ভরশীলতার সুযোগ নেয়। আমরা ভাবি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে কিছুটা আনন্দ বা স্বস্তি পাবো। কিন্তু


বাস্তবে তারা আমাদের চোখের জলে ভাসিয়ে দেয়। রক্তের অস্ত্র ঝরায়। আমাদের জীবনকে নরক করে তোলে। একটি কথা মনে রাখতে হবে মা-বাবা ছাড়া এই পৃথিবীতে এমন কেউ জন্মায়নি যে তোমার মহতাজি বুঝে তোমাকে ব্যবহার করবে না। শ্রীমদ ভাগবত গীতা আমাদের সবচেয়ে গভীর শিক্ষা দেয় যে যখনই জীবনে একাকীত্ব অনুভব করো তখন মনে রেখো তুমি পৃথিবীতে একা এসেছো একাই যাবে। এখানে কারো সঙ্গে আমাদের আসলেই স্থায়ী সম্পর্ক নেই। যারা মা-বাবা যারা আমাদের জন্ম দেন একদিন তারাও এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যান সেক্ষেত্রে অন্যদের থেকে বড় প্রত্যাশা করাটাই বৃথা। আর যদি কোনদিন কেউ তোমার


সঙ্গ ছেড়ে চলে যায় তাহলে দুঃখ পেও না। কারণ ঈশ্বর কখনোই তোমার সঙ্গ ত্যাগ করেন না। তিনি সর্বদা তোমার সঙ্গে আছেন। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং অর্জুনকে বলেছেন, মানুষ আমাকে মানুক বা না মানুক আমি তাদের কখনো ছেড়ে যাই না। কারণ তারা সকলেই আমারই সন্তান। তাই একাকিত্বকে ভয় পেয়ে বা কষ্ট পেয়ে সময় নষ্ট করো না। বরং ভয় পাওয়া উচিত ভুল। মানুষের সঙ্গ পেলে কারণ ভুল মানুষের সঙ্গে থাকা সবসময় একাকিত্বের থেকেও ভয়ানক। আমরা প্রায়ই শুনি কিছু না থাকার চেয়ে কিছু থাকা ভালো। কিন্তু এর থেকেও বড় সত্য হলো অর্থহীন সঙ্গের চেয়ে


একা থাকা অনেক ভালো। তাই একা থাকাকে কখনো দুর্বলতা ভেবো না। গীতা শেখায় জীবনে যখনই কঠিন সময় আসুক ভেঙ্গে পড়বে না। শুধু একটু ধৈর্য ধরো। যে ব্যক্তি কঠিন সময় নিজেকে সামনে নিতে পারে সে সহজেই সব বাধা অতিক্রম করে যায়। কিন্তু যে ভয় পায় তার সমস্যাগুলো আরো বড় হয়ে দাঁড়ায়। তাই সাহস হারিয়ে নয় শান্ত থেকে অপেক্ষা করলেই জীবনের সব ঝড় কেটে যায়। আরো একটি সত্য হলো মানুষ প্রায় অন্যের দ্বারা প্রতাড়িত হয়। কিন্তু [মিউজিক] প্রতারণার জন্য দুঃখিত না হয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পৃথিবীতে মানুষ আসলে তেমন নয়


যেমন আমরা ভাবি। তাই কাউকে এত বেশি আশা দিয়ে বসে থাকলে সে নিজের মনই ভাঙবে। ভালো হয়। মনকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করো। কারণ যাকে ঈশ্বরকে ভালোবাসার মত করে ভালোবাসবে তার হৃদয় কোন মানুষ ভাঙতে পারবে না। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন, হে অর্জুন, তোমার মন আর বুদ্ধি আমার মধ্যে স্থাপন করো। হৃদয় আমার কাছে সমর্পণ করো। তখন দেখবে কেউ তোমার হৃদয় ভাঙতে পারবে না। কেউ তোমাকে কষ্ট দিতে পারবে না। শ্রীগীতা আরেকটি শিক্ষা দেয় অতীতের দুঃখে ডুবে থেকো না। যদি গতদিনের বেদনা আঁকড়ে ধরে রাখো তবে আজকেও সুখী হতে পারবে না। যারা জ্ঞানী তারা গতদিনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা


নেয়। কিন্তু সেই দুঃখ বয়ে বেড়ায় না। অতীত যেমনই হোক আজকের উপর তার প্রভাব পড়তে দেওয়া উচিত নয়। প্রেম কেবল তার সঙ্গেই করো। যে তোমার প্রেমের যোগ্য। যে তোমার ভালোবাসার কদরই করে না। তার পিছনে তোমার মনের শক্তি নষ্ট করো না। যাকে তোমার কদর নেই তার থেকে যত দূরে থাকবে ততই তোমার মঙ্গল। একটি কঠিন সত্য হলো আমাদের আত্মীয়স্বজনরাই আমাদের সাফল্যে সবচেয়ে বেশি ঈর্শান্বিত হয়। বাইরের মানুষ ততটা পাত্তা দেয় না। কিন্তু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা সবসময় আমাদের জীবনের দিকে নজর রাখে। বাইরে থেকে তারা বলবে সফল হও, এগিয়ে যাও,


সুখী হও। কিন্তু যখন সত্যিই তুমি সফল হবে তখন তাদের হৃদয়ে ঈর্শার আগুন জ্বলবে। মহাভারতের যুদ্ধ বাইরের শত্রুর সঙ্গে ছিল না বরং আপন ভাইদের মধ্যে ছিল। দুঃশাসন, দুর্যোধন তারা পান্ডবদের সুখ সমৃদ্ধি সহ্য করতে পারতো না। সেই ভাইদের হিংসা আর মোহের ফলেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যেখানে অসংখ্য প্রাণ হারিয়েছিল। গীতা আরো বলে যত বেশি তুমি কারো প্রতি আসক্ত হবে তত বেশি সে তোমাকে কষ্ট দেবে। পৃথিবীতে হাজারো ঘটনার পরোয়া আমরা করি না। কিন্তু যাকে নিজের ভাবি তার সামান্য আঘাতও অসহ্য লাগে। দুনিয়ার বদল আমাদের ততটা আঘাত দেয় না।


কিন্তু আপনজনের পরিবর্তন আমাদের ভেঙে চুরমার করে দেয়। মা-বাবা সন্তানের জন্য কাঁদেন। প্রেমিক প্রেমের জন্য কাঁদে। আসক্তি যত গভীর হয় কষ্ট ততই গাঢ় হয়। জীবনকে বিশেষ করে তোলে সেই আঘাত যেটি আসে এমন একজন মানুষের কাছ থেকে যার কাছ থেকে আমরা একটুও প্রত্যাশা করিনি। অনেকেই বলে থাকে আমাকে সেই মানুষই প্রতারণা করল যার কাছ থেকে আমি কখনো এমনটা কল্পনাই করিনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রতারণা আসলে হয় কেন? প্রতারণা হয় তখনই যখন আমরা কাউকে আমাদের জীবনে এমন জায়গা দিয়ে ফেলি যার যোগ্য সে আসলেই নয়। আমরা কাউকে এতটা বিশ্বাস করে


বসি যতটা সে পাবারই যোগ্য নয়। তাই এখানে ফুল কেবল তার নয় আমাদেরও। কারণ কাউকেই [মিউজিক] এমনভাবে আঁকড়ে ধরা উচিত নয় যাতে একসময় সেই মানুষটাই আমাদের অসহ্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে ওঠে। সত্যি কথা হলো যাকে জীবনের সবচেয়ে আপন মনে করো। শেষমেষ সেই মানুষই তোমাকে সবচেয়ে বেশি অশ্রু উপহার দেয়। শ্রীমদ ভগবত গীতা আমাদের শেখায় ক্রোধ খুব দ্রুতই মানুষের সর্বনাশ ঘটায়। যে মানুষ ছোট ছোট কারণে বারবার রেগে যায় সে কখনোই তার সম্পর্কগুলোর সত্যতা খুঁজে পায় না। সবাই তার কাছ থেকে ভয় পেতে শুরু করে। কখন কোন কথায় যে সে ফেটে পড়বে তার কোন ঠিক থাকে না। আর যে


মানুষ অতিরিক্ত রাগী তার শরীরে উচ্চ রক্তচাপ হৃদ রোগের মত বিপদজনক অসুখের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমন মানুষকে ধীরে ধীরে সবাই মানসিকভাবে অস্থির মনে করতে শুরু করে। কারণ রাগী মানুষের মস্তিষ্কে সুখের হরমোন খুব কম তৈরি হয়। ফলে সে বেশিরভাগ সময় দুঃখী ও মানসিক কষ্টে ডুবে থাকে। গীতা শেখায় অতিরিক্ত কোন অভ্যাসই ভালো নয়। তার সে নেশা হোক, জুয়া খেলা হোক, অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস হোক কিংবা অকারণে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করার অভ্যাস হোক। এমনকি অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার কিংবা সারাদিন টিভি দেখার নেশা হও। একইভাবে ক্ষতিকর। যে অভ্যাস মাত্রা ছাড়িয়ে যায়


তা শেষ পর্যন্ত দুঃখই ডেকে আনে। তাই জীবনের সবকিছু করো। কিন্তু তার নিয়ন্ত্রণ যেন তোমার হাতেই থাকে। জীবনকে সত্যিই উপভোগ করতে চাইলে ভারসাম্য রেখে চলতে শিখো। আরো একটি শিক্ষা গীতা দেয়। জীবনে যখনই কোন কঠিন সময় আসে আর পাশে কাউকে পাওয়া যায় না। তখন অন্তত ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো। অনেকে বলে থাকে আমরা তো প্রার্থনায় অনেক কিছু চাই কিন্তু পাই না। কিন্তু আসল সত্য হলো প্রার্থনা মানে ভিক্ষা চাওয়া নয়। প্রার্থনার প্রকৃত অর্থ হলো হে ঈশ্বর আমাকে শক্তি দাও যেন আমি এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে নিজেকে উদ্ধার করতে পারি। জীবনের লড়াইতে পিকে থাকতে


পারি। জয়ী হতে পারি। প্রার্থনার মানেই হলো ঈশ্বরকে ডাকো যেন তিনি তোমাকে শক্তি দেন। সঠিক পথ দেখান। গীতার সবচেয়ে বিখ্যাত শিক্ষা হলো কর্ম করো। কিন্তু ফলের চিন্তা করো না। এই বাক্যটি সবাই শোনে। কিন্তু খুব কম মানুষই এর আসল অর্থ বোঝে। এর মানে এই নয় যে তুমি যেটা খুশি সেটাই করো। আর পরে বল যা হবে দেখা যাবে। গীতাতেই তো লেখা আছে ফলের চিন্তা না করতে। এর মানে এটাও নয় যে তুমি অর্থহীন কোন কাজে সময় নষ্ট করে যাবে। অথচ ফলাফল আসুক বা না আসুক তাতেই খুশি থাকবে। আসল অর্থ হলো যখন তুমি কোন কাজ করো তখন শুধু কাজের আনন্দেই ডুবে


থাকো। কারোর জন্য কিছু করলে বিনিময়ে কিছু আশা করো না। কারণ তুমি যদি আশা করো আমি এত করলাম সেও আমার জন্য করবে তাহলেই কষ্ট পেতে হবে। কারণ মানুষ বড় দ্রুতই উপকার ভুলে যায়। আজকের যুগে তো মানুষ মা-বাবার উপকারও ভুলে যায়। তাহলে তোমার উপকারই বা কতটা মনে রাখবে। তাই গীতা বলে শুধু কাজ করো কিন্তু ফলের পিছনে ছুটো না কারণ কাজ করা তোমার হাতে কিন্তু ফল তোমার নিয়ন্ত্রণে নেই গীতা আরো শেখায় নেতিবাচক মানুষের কথায় কান দিও না যারা তোমার সম্পর্কে খারাপ বলে সমালোচনা করে তোমার ত্রুটি খুঁজে বেড়ায় তাদের কথায় কোন গুরুত্ব দিও না যদি তুমি তাদের কথা মনে


প্রাণে নিতে শুরু করো তাহলে হেরে যাবে তোমার মনে হবে তুমি কিছুই করতে পারোনি জীবনে কোন অর্জনই হয়নি। তাই যারা তোমার সমালোচনা করে তাদের কথায় কখনো হৃদয়কে আঘাত করতে দিও না। একটি গভীর শিক্ষা হলো আনন্দ মানুষের ভেতরেই বাস করে। অথচ মানুষ সারাজীবন সেটি বাইরে খুঁজে বেড়ায় কখনো অন্য কারোর মধ্যে। কখনো ভবিষ্যতের আশায়, কখনো অন্যের জীবনে। সে ভেবেই চলে অমুক জিনিস পেলে আমি সুখী হব। অমুক মানুষ পেলে আমি শান্তি পাব। অথচ সেই আনন্দ কখনোই বাইরে পাওয়া যায় না। কারণ সত্যিকারের আনন্দ আমাদের অন্তরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে।


যত বয়স বাড়তে থাকে তত মানুষ উপলব্ধি করে সে এক জীবনে কত মানুষের পেছনে তার মূল্যবান সময় ভালোবাসা গুরুত্ব নষ্ট করেছে। যাদের আসলে তার জীবনে কোন প্রয়োজনই ছিল না। যাদের থাকা বা না থাকা সমান ছিল। যাদের থেকে কোন প্রাপ্তিই ছিল না। অথচ আমরা অকারণেই তাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। তাই গীতা শেখায় জীবনকে অন্যদের পিছনে ব্যয় করো না বরং নিজের জীবনকে সুন্দর ও অর্থপূর্ণ করে তোলার জন্য ব্যয় করো। গীতার আরেকটা মহামূল্যবান শিক্ষা হলো যে মানুষ নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তার মনই একদিন তার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠে। আর যে


মানুষ নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে তার মন হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে বড় বন্ধু। মানুষের মনই আসল সাথী। আবার সেটিই হতে পারে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শত্রু। যদি মন শত্রুতে পরিণত হয় তবে তা মানুষকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। কিন্তু যদি মনকে বন্ধু করা যায় তবে পৃথিবীর সব সাফল্য সব অর্জন সব আনন্দ মানুষ পেতে সক্ষম হয়। তাই অন্ধভাবে মনের পেছনে ছুটে বেড়ানো উচিত নয়। মনের দাসত্বম করা উচিত নয়। বরং মনকে বোঝাতে হবে, শাসন করতে হবে এবং তাকে সঠিক পথে চালিত করতে হবে। তখনই জীবন পাবে সঠিক দিশা। আর মনও হবে আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত


সঙ্গী। গীতা বলে সুখ ও দুঃখ জীবনে ঋতুর মতোই আসে যায়। না সুখ চিরদিন থাকে না দুঃখ স্থায়ী হয়। তাই দুঃখ আসলে ভয় পেতে নেই। আর সুখ আসলে তার নেশায় ডুবে যাওয়া উচিত নয়। কারণ সুখ-দুঃখ দুটোই পরিবর্তনশীল। আজ যেমন আছে কাল তেমন নাও থাকতে পারে। জীবনের সত্যই হলো পরিবর্তন। যা একমাত্র স্থায়ী নিয়ম। যা ঘটার কথা তা হবেই। আর যা হবার নয় তা কোনদিন ঘটবে না। এই সত্য যার বুদ্ধিতে দীর্ঘভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় তার জীবনে কোন উদ্বেগ কোন উৎকণ্ঠা টিকে থাকতে পারে না। সে জানে নিজের চেষ্টায় আমরা ভাগ্যকে পাল্টাতে পারি না। তাই অযথা দুশ্চিন্তার কোন মানে


নেই। মানুষ যতই সৎকর্ম করুক পৃথিবী প্রায়ই তার গুণ ভুলে যায়। কেবল দোষটাই মনে রাখে। তাই মানুষ কি বলছে তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। একমাত্র কর্তব্য হলো নিজের কর্মে অটল থাকা। যে নিজেকে ঈশ্বরের হাতে সমর্পণ করে দিতে পারে সে জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় খুঁজে পায়। তখন ভয়, দুঃখ, চিন্তা সবকিছু মিলিয়ে যায়। গীতা আরো শেখায়। তুমি কি নিয়ে কাঁদছো? তুমি কিছু নিয়ে আসোনি আবার কিছু নিয়ে যাবে না। যা তোমার আজ আছে কাল তা অন্যের হবে। এই জগতে সবই পরিবর্তনের নিয়মে বাধা। তাই না হারানোর জন্য বিলাপ না পাওয়ার জন্য অহংকার কিছুই স্থায়ী


নয়। যেমন পংশ শ্রীকৃষ্ণকে সর্বদা মৃত্যুর রূপে স্মরণ করেছিল। তাই কৃষ্ণও তাকে মৃত্যুই দিয়েছিলেন। অর্থাৎ মানুষ যেমন ভক্তি করে ঈশ্বরও তেমন ফল প্রদান করেন। তাই তাকে যে রূপে স্মরণ করা হবে সেই রূপেই তিনি আমাদের জীবনে প্রকাশিত হবেন। মানুষের সবচেয়ে বড় দুঃখের কারণ হলো সে আপনজন বা শ্রদ্ধেয়ের কাছ থেকে অন্যায় আচরণ সহ্য করে যায়। আমরা প্রায়ই মনে করি ওতো আমার আপনজন। ওকে কিভাবে বিরোধিতা করি? বা সে তো আমার বড় তাকে কিভাবে কিছু বলি এই ভেবে চুপচাপ কষ্ট সইতে থাকি। কিন্তু গীতা বলে যে মানুষ বারবার আমাদের দুঃখের কারণ হয়


তাকে আসলেই আপনজন বলা যায় না। আসল আপনজন তো সেই যে আমাদের দুঃখ দূর করে। তাই কখনোই কাউকে সুযোগ দেওয়া উচিত নয় যাতে সে আমাদের দুর্বলতা ভেবে বারবার আঘাত করতে পারে। কারণ আমরা যত বেশি সহ্য করি মানুষ আমাদের তত বেশি সহ্য করতে বাধ্য করে। গীতা আরো উপদেশ দেয় যে চলে গেছে তার জন্য অশ্রু বিসর্জন নয়। যে এখনো আসেনি তার জন্য দুশ্চিন্তাও নয়। মহাভারতের যুদ্ধে যখন অর্জুন চিন্তিত হয়ে বলেছিলেন যে যদি এই যুদ্ধ হয় অসংখ্য যোদ্ধা মারা যাবে পরিবার ধ্বংস হবে সমাজ ভেঙে যাবে। তখন শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন হেই অর্জুন তুমি বড়


বড় জ্ঞানীর মত কথা বলছো। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানী না মৃতের জন্য শোখ করে না অজাতের জন্য ভয় পায়। জীবন মৃত্যু মানুষের হাতে নয়। এটি প্রকৃতির নিয়ম। যিনি সত্যিকারের জ্ঞানী। তিনি অতীত নিয়ে শোখ করেন না। ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও করেন না। তিনি জানেন যা ঘটার তা হবেই। যা না ঘটার তা কোনদিন হবে না। এই উপলব্ধি মানুষকে দুঃখ ও উদ্বেগ থেকে মুক্ত করে। আমরা প্রায় সব দুঃখই পাই হয়ে অতীতের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে নয়তো ভবিষ্যতের আশঙ্কা ভেবে অথচ আমাদের হাতে আছে কেবল বর্তমান কাল আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না আগামীর দখলও আমাদের হাতে নেই আমাদের জীবনের প্রায় 99


শতাংশ দুশ্চিন্তাই অতীতের স্মৃতি আর ভবিষ্যতের কল্পনা থেকে জন্ম নেয় অথচ জীবন তো অতীত বা ভবিষ্যৎ নয় জীবন কেবলই বর্তমান মুহূর্ত গীতা আমাদের শিক্ষা দেয় আজকের এই মুহূর্তকে বাঁচো। এটাই তোমার সত্যিকারের জীবন। কিন্তু আমরা মানুষ কখনো বর্তমানকে সত্যিকার অর্থে বাঁচতে শিখি না। আমরা সবসময় অতীতের শোখ বা ভবিষ্যতের ভয়ে ডুবে থাকি। অথচ যদি কেউ বর্তমানের আনন্দ গ্রহণ করতে শেখে তবে তার জীবন থেকে সব অস্থিরতা, ভয় আর দুশ্চিন্তা চিরদিনের মত মুছে যাবে। শ্রীমদ ভগবত গীতার 40 তম শিক্ষা হলো মৃত্যুকে ভয় করা সম্পূর্ণ অর্থহীন।


শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, হে অর্জুন, এই পৃথিবী মর্তলোক। এখানে যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু একদিন নিশ্চিত। যার আরম্ভ আছে তার সমাপ্তি অবধারিত। এটিকে রোধ করার ক্ষমতা কারো নেই। যেমন আমরা প্রতিদিন পুরনো পোশাক ত্যাগ করে নতুন পোশাক ধারণ করি তেমনি আত্মাও এক দেহ ছেড়ে আরেক দেহে প্রবেশ করে। মৃত্যু কোন জীবনের শেষ নয় বরং এটি নতুন এক জীবনের সূচনা। আত্মা কখনো মরে না তাকে কেউ হত্যা করতে পারে না। কিন্তু মানুষ মৃত্যুকে ভীষণ ভয় পায় আর মৃত্যুই মানুষকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, হে অর্জুন,


তোমার আর আমার অগণিত জন্ম হয়েছে। পার্থক্য এই যে তুমি কিছুই মনে রাখতে পারোনি কিন্তু আমি সব জানি। যিনি এই সত্যটি উপলব্ধি করেন যে আমরা এখানে সামান্য কিছু সময়ের অতিথি তার জীবনের সব বিবাদ ও সব দুঃখ বিলীন হয়ে যায়। যখন যেতেই হবে তখন দুঃখ কিসের? গীতার 41 তম শিক্ষা হলো মৌন ও চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ ছাড়া জীবনে কখনো শান্তি ও সান্ত্বনা পাওয়া যায় না। অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে বলেছিলেন, আমার মন ভালোমন্দ সব জানে। তবুও আমার চিন্তা ও মন আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে না। যা করতে চাই তা পারি না। আর যা করতে চাই না আমার মন জোর করে তাই করিয়ে নেয়।


তাই আমি অস্থির শান্তি পাচ্ছি না। তখন শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, হে অর্জুন, এর জন্য তুমি মন ও চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে তাকে সঠিক পথে চালানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এটি একদিনে সম্ভব নয়। কিন্তু যতদিন না তুমি মন ও চিন্তার দাসত্ব ভাঙবে ততদিন জীবনে শান্তি ও সুখ পাবে না। গীতার 42 তম শিক্ষা হলো বাসনা, ক্রোধ ও লোভ সর্বনাশের কারণ। এগুলোই নরকের দ্বার। যে মানুষের মধ্যে এই তিনটে দোষ থাকে সে কেবল অন্যকে কষ্ট দেয় না। বরং নিজেও অনন্ত দুঃখ ভোগ করে। গীতার 43 তম শিক্ষা হল সব দেবতাই আসলে এক। কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়। সবই


পরমহের নানা রূপ ও নানা নামমাত্র। শ্রীকৃষ্ণ বিভূতি যোগে অর্জুনকে বলেছিলেন, জগতের যত দেবতা আছেন সকলেই আমি আমি শিব আমি ইন্দ্র আমি কুবের আমি অগ্নিদেব দেবতাদের গুরু বৃহস্পতিও আমিই সাগর আমিই চন্দ্র আমি অক্ষরের মধ্যে ওম আমিই সময়ের মহাকাল আমি সবকিছুর জন্মদাতা রক্ষক এবং বিনাশকারী আমার বিভূতির কোন সীমা নেই তাই সব নাম সব দেবতা সব ঈশ্বর আসলে আমারই রূপ। সুতরাং কাউকে ছোট বড় ভেবে ভেদাভেদ করো না। গীতার 44 তম শিক্ষা হলো সুখের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি দুঃখের আসল কারণ। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন মানুষ যত বেশি সুখের পেছনে ছোটে ততই তার


ইন্দ্রিয়গুলো আসক্ত হয়ে পড়ে ভোগে। আর তখন মানুষ নিজের মনকে সুখের দাসে পরিণত করে ফেলে। সুখের প্রতি আসক্তি যত বাড়ে দুঃখও ততই বাড়ে। কারণ এটাই সংসারের নিয়ম। যা শুরুতে মধুর মনে হয় তাই পরবর্তীতে তিক্ত হয়ে ওঠে। আর যা শুরুতে কঠিন মনে হয় তাই পরবর্তীতে অমূল্য হয়ে ওঠে। গীতার 45 তম শিক্ষা হল যে মানুষ পৃথিবীর সব ভরসা ছেড়ে শুধু ঈশ্বরকেই নিজের একমাত্র আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করে তার সব প্রয়োজন পূরণ করেন স্বয়ং পরমাত্মা। তার সবদিক থেকে রক্ষা করেন তিনি। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন অন্যসচিন্ত উপাসতে তেশা নিত্যযুক্তাম যোগেম বহামহাম


অর্থাৎ যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে আমাকে আশ্রয় করে তার যোগেম আমিই বহন করি যোগেমের মানে হল যা এখনো পাওয়া হয়নি তা পাওয়ার ব্যবস্থা আমিই করি আর যা তার জীবনে এসেছে তার রক্ষাও আমিই করি সুতরাং যে আমাকে নির্ভর করে তার সব দায়িত্ব আমি নিই গীতার 46 তম শিক্ষা হল এই জগতে আমাদের কিছুই আসলে নিজের নয়। বহুবার আমরা শুনেছি তোমার কি গেছে যে তুমি কাঁদছো। কাল পর্যন্ত যাদের ছাড়া তুমি বাঁচতে পারবে না ভেবেছিলে আজ তাদের সঙ্গে তোমার কোন সম্পর্ক নেই। কোন কথাবার্তাও নেই। তারা কোথায় গেল? সারাজীবন যাদের সঙ্গে বাঁচা মরার প্রতিশ্রুতি ছিল আজ তারা কোথায়


হারিয়ে গেল? এখানে সবকিছুই বদলে যায়। মানুষ বদলায় সম্পর্ক বদলায়। এমনকি আমাদের শরীরটাও প্রতিদিন বদলাচ্ছে। শিশুকাল থেকে যৌবন, যৌবন থেকে বার্ধক্য আর একদিন এই দেহও আমাদের ছেড়ে যাবে। তবে কিসের জন্য এত কষ্ট? কার জন্য এত দুঃখ আমরা সারাজীবন সম্পর্ক গড়তে ভাঙতে সাজাতে রক্ষা করতে ব্যস্ত থাকি। সম্পত্তি সম্পর্ক সংসারকে আঁকড়ে ধরি। অথচ একদিন সব ভেঙে যায়। জীবনের সব অর্জন সব সাজানো সংসার একদিন শূন্য হয়ে যায়। তাই আসক্তি নয় সমর্পণই সত্যিকারের পথ মানুষ সারাজীবন লড়াই করে যায় কখনো নিজের সাথে কখনো সংসারের সাথে কখনো পরিস্থিতির সাথে কিন্তু


একদিন আসে যখন সবকিছু ফেলে রেখে আমাদের এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয় শ্রীমদ ভগবত গীতা আমাদের এই গভীর সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয় তাই গীতা শিক্ষা দেয় মোহ ও আসক্তি ছেড়ে দাও কারণ যা তোমার নয় তা কোনদিন তোমার হবে আর যা তোমার প্রাপ্য তা থেকে কেউ তোমাকে বঞ্চিত করতে পারবে না। গীতার 47 তম শিক্ষা বলছে কাউকে অতিরিক্ত আসক্তি বা মোহ কখনো করো না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমগ্র গীতার জ্ঞানই দিয়েছিলেন অর্জুনের সেই অন্ধ মোহ দূর করার জন্য। কেননা মোহই মানুষকে সবচেয়ে বেশি কাঁদায়। মোহই মানুষের হৃদয়কে দুর্বল করে দেয়। এমনকি


সিংহের মত শক্তিশালী মানুষকেও সে শিয়ালের মত ভিরু করে দিতে পারে। অর্জুন যিনি দেবতাদের সাথেও যুদ্ধে জয় লাভ করেছিলেন। তিনি যখন কুরুক্ষেত্রের ময়দানে নিজের আত্মীয়দের সামনে দাঁড়ালেন তখন তার হাত কেঁপে উঠলো। তিনি কৃষ্ণকে বললেন, হে কেশব আমার হাতে আর ধনুক ধরার শক্তি নেই। আমি যুদ্ধ করতে পারবো না। এটাই মোহের দাহ। এমন এক যন্ত্রণা যার কষ্ট অনেক মানুষ সহ্য করতে না পেরে নিজের জীবনই শেষ করে দেয়। যদি জীবনে কারোর প্রতি অতিরিক্ত মোহ জন্মাও তবে সারাজীবন সেই মোহের কারণে [মিউজিক] দুঃখ ভোগ করতে হবে। যে মানুষ মোহের বন্ধন ছিন্ন করতে পারে না শেষ


পর্যন্ত তার সবকিছু হারাতে হয়। তাই গীতার শিক্ষা আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় মোহ থেকে নিজেকে মুক্ত করো। তবেই তুমি হবে সত্যিকার শক্তিশালী ও জ্ঞানী। 48 তম শিক্ষা হলো এই পৃথিবীতে যদি জন্ম নিয়েছো তবে দুঃখ পেতেই হবে। কারণ শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন এ দুঃখালয় যেমন ঔষধালয় গিয়ে ঔষধ পাওয়া যায় যেমন গ্রন্থাগারে বই পাওয়া যায় যেমন চিকিৎসালয় চিকিৎসা মেলে তেমনি এই সংসার হল দুঃখালয় এখানে দুঃখ আসবেই কিন্তু সেই দুঃখকে ভয় করার কিছু নেই তার জন্য অকারণ দুশ্চিন্তারও প্রয়োজন নেই এই সংসার অস্থায়ী এখানে কিছুই চিরস্থায়ী নয় সবকিছু পরিবর্তনশীল


সুখ-দুঃখে পরিণত য় দুঃখ বা সুখে রূপ নেয় সম্মান অপমানে অপমান সম্মানে আনন্দ কষ্টে কষ্ট আনন্দে রূপান্তরিত হয় জয় পরাজয়ও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে এখানে কিছুই স্থায়ী নয় না আমরা না আমাদের সঙ্গে যুক্ত কোন বস্তু বা সম্পর্ক 49 তম শিক্ষা বলছে কর্মফল ভোগ করতেই হবে যতই চালাকি করা হোক কর্মের দন্ড একদিন না একদিন ভোগ করতেই হয় 50 তম শিক্ষা বর্তমানকে বাঁচতে শিখো। আগামী দিনের জন্য অকারণ চিন্তা করো না। 51 তম শিক্ষা যে তোমার সাথে অন্যায় করে, যে পাপ করে তাকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া উচিত। 52 তম শিক্ষা সত্য মানুষ কখনো মিথ্যা


মানুষের কাছে জয়ী হতে পারে না যতক্ষণ না সে নিজেই অন্যায়, অসত্য আর অন্যাজ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত হয়। 53 তম শিক্ষা। সবাই যা করে তা অন্ধভাবে অনুকরণ করো না বরং যা সত্যিই তোমার কাছে সঠিক মনে হয় তাই করো। 54 তম শিক্ষা প্রতারণা কেবল কাছের মানুষই করতে পারে। যে তোমাকে চেনে না সে তোমাকে ঠকাতে পারবে না। তাই জীবনে সবচেয়ে বড় ধোঁকা আসে আপনজনের কাছ থেকে। 55 তম শিক্ষা। যে মানুষ নিজের রক্ষা নিজে করতে পারে না ভগবানও তার রক্ষা করতে পারেন না। 56 তম শিক্ষা কোন নিকৃষ্ট অভ্যাসকে নিজের জীবনে স্থান দিও না। কারণ একদিন সেই


অভ্যাসই তোমার জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। 57 তম শিক্ষা অলস মানুষ জীবনে কোনদিন কিছু অর্জন করতে পারে না। তারা কেবল পরিকল্পনা করে ভাবে আগামীকাল করব ভবিষ্যতে করব। অথচ সেই আগামীকাল কখনো আসে না। সারাজীবন কাল ক্ষেপণে কাটিয়ে তারা শূন্য হাতে পৃথিবী ছেড়ে যায়। 58 তম শিক্ষা যা তোমার প্রাপ্য তা তোমাকে হবেই। আর যা তোমার নয় তার জন্য অকারণ কষ্ট পেয়ো না। 59 তম শিক্ষা। যদি জীবনে সুখী হতে চাও তবে নিজের মনের দাসত্ব ত্যাগ করতে হবে। যে নিজের মনকে জয় করতে পারে সেই প্রকৃত অর্থে মুক্ত। 60 তম শিক্ষা। যত বেশি এই জগতকে ভালোবাসবে


ততই দুঃখ ও যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা বাড়বে। সংসারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কেবল কষ্টই ঢেকে আনে। 61 তম শিক্ষা। যে মানুষ সামান্য সামান্য কারণে ক্রোধে ফেটে পড়ে তার জীবনে সুখ আর শান্তি কষনো আসে না। মনে রেখো গীতার জ্ঞান শুধু শোনার জন্য নয় জীবনে পালন করার জন্য। তুমি শান্ত হয়ে যাও। বসো আমার সামনে। হ্যাঁ। চোখ বন্ধ করো। এবার আমার কথা মন দিয়ে শোনো। আমি সেই কৃষ্ণ যে কুরুক্ষেত্রের রণভূমিতে অর্জুনকে গীতা উপদেশ দিয়েছিল। আমি সেই কৃষ্ণ যে মোহ ভেঙে দেয় আত তাকে জাগিয়ে তোলে। তোমার জীবন আজ যে পথে যাচ্ছে তুমি কি সত্যিই


বিশ্বাস করো তুমি ঠিক করছো? প্রতিদিন সকালবেলা উঠে দৌড়াও উপার্জন করো। কিন্তু কার জন্য? তার জন্য যা একদিন ছেড়ে চলে যাবে। তুমি ভুলে গেছো এই সংসার এক মহামায়া। এই ঘর, এই টাকা, এই সম্পর্ক সবই এক ভ্রম। এক ক্ষণস্থায়ী ছায়া। বলতো কখনো নিজের মনকে জিজ্ঞাসা করেছো আমি কে? করণী। কারণ তুমি ভাবো তুমি এই শরীর। অথচ এই শরীর তো এক পোশাক মাত্র যা সময়ের সন্দেহে খুলে যাবে। আর যখন খুলে যাবে তখন কি থাকবে তোমার হাতে? শুধু শূন্যতা না হয়তো এক গভীর অনুশোচনা। আমি এসেছি তোমাকে বোঝাতে। কারণ এখনো সময় আছে। আমি এসেছি তোমাকে


সতর্ক করতে। কারণ আমি জানি যদি এখন থামো না নিজেকে না সামলো তাহলে শেষ প্রান্তে কেবল অন্ধকারই অপেক্ষা করছে। তুমি সম্পদের পিছনে ছুটছো। কিন্তু এই সম্পদ একদিন তোমাকেই গ্রাস করবে। তুমি সম্পর্কে গর্ব করছো। অথচ এই সম্পর্কগুলোই পরীক্ষার সময় তোমাকেই একলা ফেলে দেবে। এটাই তো হয়েছিল অর্জুনের সঙ্গেও। যখন মোহে আটকে পড়ে সে নিজের আপনজনদের উপর তীর তুলতে অস্বীকার করেছিল তখন তো আমিই বলেছিলাম কর্ম করো। ফলের চিন্তা করো না। আজ আমি তোমাকেও বলছি থামো। দেখো বোঝো। তুমি জীবনকে হারিয়ে ফেলছো। তুমি আত্মার কন্ঠস্বরকে উপেক্ষা


করছো। তুমি ভাবছো মোবাইল সোশ্যাল মিডিয়া এই বাহির চাকচিক্যকই সব অথচ আমি বলছি এগুলো তোমাকে ভিতর থেকে ফাঁপা করে দিচ্ছে প্রতিদিন তুমি কারো না কারো সঙ্গে ঈর্ষায় জ্বলছো তুলনা করছো ভাবছো ওর আছে আমার কেন নাই আমি জিজ্ঞাসা করি তোমার আত্মা কি কিছু চায় তোমার অন্তর যে ছিল শান্তির আশ্রয় আজ সে কেন অশান্ত এর কারণ কেউ নয় তুমি নিজেই তুমি নিজেই নিজের জীবনকে জটিল করে তুলেছো আমি দেখছি তোমার ভেতরে ভয়, অনিরাপত্তা, লোভ আর রাগ ভরে গেছে। তুমি হাসো কিন্তু সেই হাসি কেবল মুখরক্ষা। আসলে তুমি ভিতর থেকে ভেঙে পড়ছো। এ কারণেই আমি


বলছি থামো। এখনো সময় আছে। যদি আমার কথা না শোনো তাহলে একদিন এই ভুলের জন্যই অনুশূচনায় ভুগতে হবে। তুমি আমাকে ভুলে গেছো। তুমি আমার কন্ঠস্বরকে চেপে দিয়েছো। তুমি জীবনকে কেবল এক দৌড়ে পরিণত করেছো। তুমি কি জানো না যেদিন এই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়বে সেদিন কোন ট্রফি কেউ দেবে না কেউ তোমার জন্য হাততালি দেবে না মৃত্যুর সময় তুমি একাই থাকবে তখন আমি আবার জিজ্ঞাসা করব তুমি কি আমার কথা শুনেছিলে আর যদি উত্তর হয় না তাহলে সেই অনুশোচনা চিরদিন তোমার পিছু ছাড়বে না তুমি ভাবো এখনো অনেক সময় আছে [মিউজিক] কিন্তু কি কেউ কখনো সময় নিশ্চয়তা নিয়ে এসেছে এক


মুহূর্ত শুধু একটি মাত্র মুহূর্তেই জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে। আর তখন চাইলেও তুমি আর কিছু করতে পারবে না। আমি তোমাকে ভয় দেখাতে আসিনি। আমি তোমাকে জাগাতে এসেছি। আমি চাই তুমি ভাবো তুমি যেটা করছো সেটা কি তোমার আত্মার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তুমি কি সত্যিই তৃপ্ত? তুমি কি যাতে শান্তিতে ঘুমোতে পারো নাকি চিন্তা, ভয় আর অনুশোচনায় ডুবে যাও। এমনটি ভেবো না। কে কি বলবে? এই পৃথিবীর মানুষ কি ভাববে তা নিয়ে ভেবে তুমি নিজের হৃদয়কেই তো হারিয়ে ফেলেছো। তোমাকে বন্ধনে বাঁধা হয়েছে। আর তোমার মুক্তি একমাত্র তখনই সম্ভব যখন তুমি আমার কথা শোনো। তোমার


অহংকার বলবে আমি সব জানি আমার কারোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি বলি অহংকারী তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু। ওটাই তোমাকে মিথ্যা সাফল্যের স্বপ্ন দেখিয়েছে। আর সেই স্বপ্নেই তোমাকে ভিতর থেকে ফাঁপা করে দিয়েছে। আমি এখন নীরব। কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখছি তুমি যে পথে চলছো সেই পথ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। আর যদি এখনই না থামো তাহলে খুব তাড়াতাড়ি সেই দিন আসবে যখন আমার এই কথাগুলো মনে পড়বে কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে। আমি তোমাকে সতর্ক করে দিচ্ছি যদি আজও আমার কথা না মানো তাহলে পরে শুধুই অনুশোচনা থাকবে। যদি এখনো আমার কথা শুনতে


পাও তাহলে জেনে রাখো এটি আমার দ্বিতীয় সংকেত। প্রথমবার আমি ভালোবেসে থামতে বলেছিলাম। এবার আমি গম্ভীরভাবে সাবধান করছি। কারণ আমি দেখছি তুমি আমার কথা শুনেছো। কিন্তু হৃদয় ধারণ করোনি। আর শোনো যে শুনেও নিজেকে বদলাতে পারে না তার সামনে আমি আর নীরব থাকি না। আমার কথা এখন শুধু বোঝানোর জন্য নয়। এখন সেগুলো আদেশ। এখন তোমার আত্মার শেষ আহবান। আমি দেখছি তুমি নিজের তৈরি জগতে হারিয়ে গেছো। চারিদিকে এক অদৃশ্য প্রাচীর তুলে ফেলেছো। যার প্রতিটি ইট হয়তো অহংকার না হয়তো ভয়। তুমি বল আমি ঠিক আছি। আমার জীবন চলছে। কিন্তু বলতো তুমি কি সেই পথে চলছো যেখানে


আমি চাই? না। তুমি শুধু নিজেকে ফাঁকি দিচ্ছো। প্রতিদিন এমন কিছু করছো যা ধীরে ধীরে তোমার আত্মাকে নিঃশব্দে হত্যা করছে। তুমি নিজেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছো। অথচ নিজেই টের পাচ্ছ না। তুমি জীবনকে শুধুই এক দৌড়ে পরিণত করেছো। ঘুম থেকে ওঠো, কাজের জন্য বের হও, খাও, ফোন চালাও, ফিরে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়ো। এই কি জীবনের আসল রূপ? এই দৌড়ের শেষেই কি শান্তি আছে? না। শান্তি তখনই আসবে যখন তুমি আত্মার দিকে ফিরে তাকাবে। তুমি নিজেকে এত জড়িয়ে ফেলেছো যে নিজের সত্য থেকে আজ তুমি নিজেই ভয় পাচ্ছ। তুমি জানো ভেতর থেকে জানো যে তুমি ভুল


করছো। তবুও করেই যাচ্ছো। কেন? কারণ তুমি সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছো। তুমি এখন শুধু সেই কথাই শুনতে চাও যা তোমার মনকে ভালো লাগায়। কিন্তু আমি কৃষ্ণ। আমি মনকে সুখ না দিয়ে আত্মাকে জাগিয়ে তুলি। এখন আমি তোমাকে প্রশ্ন করি তুমি কার জন্য বেঁচে আছো? কার জন্য এই ত্যাগ? এই পরিশ্রম? তোমার জীবনের কি কোন আসল মানে আছে? তুমি কি প্রতিদিন সকালে উঠে ভেতর থেকে তৃপ্তি অনুভব করো? তুমি কি রাতে শান্তিতে ঘুমোতে পারো? যদি না পারো তাহলে এখনো সময় আছে। তবে খুব কম। কারণ সময় এখন আর তোমার সঙ্গে চলছে না বরং ছুটে চলেছে। প্রতিটি মুহূর্ত তোমাকে নিয়ে যাচ্ছে এক


চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। এবং সেই সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে। তুমি মোক্ষের পথে যাবে না অনুসূচনার আগুনে পুড়বে। তুমি ভেবো আমি তো খারাপ কিছু করছি না। আমি তো শুধু নিজের কাজটাই করছি। কিন্তু শোনো যে সত্য জেনেও চুপ থাকে যে অন্যায় দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয় যে মোহে ডুবে আটকে বিব্রত করে সেও পাপী। তুমি কিছু করোনি। এটাই তোমার সবচেয়ে বড় অপরাধ। তাই এবার আর কোন অনুরোধ নয়। এবার আমি সাজা বলছি। এখনই বদলে যাও। না হলে নিজের ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত হও। আমি তোমার ভেতরের সেই আগুন জাগিয়ে তুলছি যা তোমাকে শক্তি দিতে পারে।


কিন্তু যদি আজও তুমি সেই আগুন নিভিয়ে দাও তবে কেউ তোমাকে আর বাঁচাতে পারবে না। আমি এখনো দেখছি তোমার ভেতরে সেই ক্ষমতা আছে সেই আলো আছে কিন্তু সেই প্রদীপটা নিভে যেতে বসেছে। তুমি যা কিছু করছো যদি তা তোমাকে ভেতর থেকে শান্তি না দেয় তবে বুঝে নাও সেটা তোমার পথ নয়। তুমি যে দৌড়ে নেমেছো সেটা অন্য কারো তৈরি করা। তুমি যে সাফল্যকে ধরতে চাইছো সেটা এক ছল মাত্র। আর শোনো বিভ্রমে জীবন কাটানেও এক পাপ। কারণ এতে তুমি শুধু নিজেকে নয় তোমার চারপাশে সবাইকেও অন্ধকারে টেনে নিচ্ছ। আমি বারবার তোমাকে থামিয়ে দিই। কারণ আমি জানি শেষটা


কেমন হবে। আর সেই শেষটা সুখের হবে না। তুমি দেখবে তোমার কাছে সবকিছু থাকবে। তবুও ভেতরে থাকবে এক শূন্যতা। এক নিঃশব্দ অন্ধকার যা ধীরে ধীরে তোমাকে গিলে ফেলবে। তখন তুমি সবকিছু ফেলে আমার দিকে ছুটে আসবে। তখন তুমি বলবে হে কৃষ্ণ আমাকে রক্ষা করো। কিন্তু তখন আমি নিশ্চুপ থাকবো। কারণ তখন আর কোন সতর্কবাদ আর সময় থাকবে না। সময়ের সতর্কতা চিরকাল থাকে না। এটা এই মুহূর্তে আছে বলেই তুমি তা শুনতে পাও। তুমি জিজ্ঞাসা করো আমি কি করব? হে প্রভু কি করব? তাহলে শোনো সত্য কথা বল। অন্যের কল্যাণে কাজ করো। প্রতিদিন নিজের অন্তরকে


দেখো। নিজের কর্মকে পূজার মত মনে করো। আর সবচেয়ে বড় কথা আমার কথা মানো। আমি তোমার শত্রু নই। আমি তোমার আয়না। আমি তোমাকে সেই সত্য দেখাচ্ছি যা তুমি নিজেই নিজের থেকে লুকিয়ে রেখেছো। [মিউজিক] এখন দেখো এখন শোনো। এখন বুঝে নাও। আজ যদি তুমি নিজের পথ না পাও তাহলে আগামীকাল তোমার সামনে কোন পথই থাকবে না হাঁটার মতো। আমি আজ তোমাকে সেই সত্যের সঙ্গে পরিচয় করাতে এসেছি যার চেয়ে বড় কোন রহস্য নেই। এই সত্যকে জানলে তোমার জীবন রূপান্তরিত হতে পারে। আর না জানলে তোমাকে বারবার জন্ম নিতে হবে। এই সত্যের নাম মৃত্যু। হ্যাঁ।


মৃত্যু যাকে তুমি ভয় পাও যার নাম উচ্চারণ করতেও কুন্ঠিত হও সেই মৃত্যু প্রতিদিন তোমার সঙ্গে সঙ্গে চলছে। তুমি ভাবো সময় আছে। অনেক কিছু করতে হবে এখনো। কিন্তু বাস্তবতা হলো মৃত্যু যেকোনো সময় চলে আসতে পারে। আর যখন সে আসবে তখন কেউ তোমার পাশে থাকবে না। না মা না বাবা না বন্ধু না ভালোবাসা না টাকা না সামাজিক অবস্থান। তখন সেখানে থাকবে শুধু তুমি আর তোমার কর্ম। যা তুমি করেছো শুধু সেটাই তোমার সঙ্গে যাবে। যা তুমি এড়িয়ে গিয়েছো সেটাই ফিরে ফিরে আসবে। যা তুমি মনে চেপে রেখেছো সেইসব স্মৃতি মৃত্যুর মুহূর্তে চোখের সামনে ভেসে


উঠবে। তুমি দৌড়েছো অর্থের পিছনে, নামের পিছনে, স্থানের পিছনে। কিন্তু আত্মার পিছনে কখনো ছোটনি তুমি চেষ্টা করেছো সবকিছু জানার দুনিয়াকে মানুষকে বাজারকে কিন্তু কখনো নিজেকে জানার চেষ্টা করোনি কখনো কি থেমে নিজেকে প্রশ্ন করেছ আমি কে আমি কি কেবল শরীর আমার কাজ কি কেবল উপার্জন করা খাওয়া আর মারা যাওয়া নাকি এর চেয়েও কিছু বেশি প্রত্যেক আত্মার লক্ষ্য হলো মুক্তি কিন্তু মুক্তির পথ সহজ নয় মুক্তি তখনই সম্ভব যখন তুমি নিজেকে চিনে ফেলো যখন যখন তুমি সবকিছুকে যেমন আছে তেমনভাবে গ্রহণ করে নাও। যখন তুমি অহংকার, রাগ, হিংসা, মোহ এ সবকিছুর ঊর্ধে উঠতে


পারো। তখন আত্মা হালকা হয়ে যায় এবং সেই হালকাত্বই আত্মাকে জন্মের বন্ধন থেকে মুক্তি দেয়। মৃত্যু কোন শাস্তি নয়। সে একটি আয়না। যেটি দেখায় তুমি কি ছিলে? তুমি কি বেছে নিয়েছিলে? তুমি কতটা সত্যিই বেঁচেছো আর কতটা পালিয়েছো। আমি কৃষ্ণ এখন তোমার অন্তরে কথা বলছি। তোমার প্রতিটি চিন্তার মাঝে আমি নীরব আছি। তুমি যখন থামো আমি তখন কথা বলি। তুমি যখন নিজের ভেতরে তাকাও আমি তখন প্রকাশ পাই। কিন্তু যখন তুমি বাইরের জগতে ছুটো তখন আমার কন্ঠস্বর হারিয়ে যায়। আমি সবসময় থাকবো না। আমি শুধুমাত্র ততক্ষণ থাকি যতক্ষণ তোমার


অন্তরে এক কণাও বিশ্বাস বেঁচে থাকে। যেদিন সেই বিশ্বাস নিভে যাবে আমি ফিরে যাব। আর তখন তোমার সামনে কোন পথ খোলা থাকবে না। তখন তুমি মনে করবে তোমার কাছে সব আছে কিন্তু ভেতরে কিছুই নেই। এটাই হলো প্রকৃত শূন্যতা। আর এই শূন্যতাই সবচেয়ে ভয়ানক। তুমি ভাবো ভবিষ্যতের চিন্তাই সবচেয়ে বড় ভয়। কিন্তু না সবচেয়ে বড় ভয় হলো নিজেকেই মুখোমুখী করা। যখন তুমি একা থাকো তখন তোমার আত্মা তোমাকে প্রশ্ন করে। তুই কি কখনো আমাকে শুনেছিস? তুই কি কখনো আমাকে বুঝেছিস? যদি সেই প্রশ্নের উত্তর না থাকে তাহলে সেই চক্র, সেই জন্ম, সেই সম্পর্ক,


সেই বিভ্রান্তি আবার ফিরে আসবে। এখন সিদ্ধান্ত তোমার। তুমি কি এই জীবন শুধু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্যই কটাবে নাকি তুমি এই জীবনকে এক অর্থ দেবে? মুক্তি কোন বাহিক জ্ঞান নয়। সে তোমার ভেতরে। সে তখনই প্রকাশ পায় যখন তুমি নিজেকে যেমন আছো তেমনভাবে মেনে নাও। যেখানে কোন ভান নেই, কোন ভয় নেই, কোন তুলনা নেই। সেই জ্ঞানী মোক্ষ। সেখানে কোন পূজার প্রয়োজন নেই। কোন উপবাসের দাবি নেই। সেখানে শুধু সত্য থাকে। সত্য যে তুমি কেবল শরীর নও। তুমি সেই নও যা পৃথিবী তোমাকে বলেছে। তুমি সেই যা নীরবতার মাঝে দেখা যায়। তুমি এক শক্তি এক আলো আর আমি সেই আলোরই প্রতিবিম্ব। এখন


নিজেকে জিজ্ঞাসা করো আমি কি এই জীবনকে সত্যিকারের মানে দিচ্ছি না শুধু সময় পার করছি? আমার কর্ম কি আমাকে উপরে তুলছে না আমাকে আরো বেঁধে ফেলছে? যদি সেই প্রশ্নের উত্তর না থাকে তাহলে আজ থেকেই নিজেকে পাল্টাও এই মুহূর্ত থেকেই। কারণ প্রত্যেকটি নিঃশ্বাস তোমাকে ডাকছে নিজের দিকে, মুক্তির দিকে। এখনই উঠে দাঁড়াও আর জীবনকে দাও এক সত্য অর্থ।

বন্ধুগণ, গীতা শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি জীবনের পথপ্রদর্শক।

যদি এই শিক্ষাগুলো হৃদয়ে ধারণ করতে পারি, তাহলে জীবনের অনেক দুঃখ, ভয় এবং অশান্তি দূর হয়ে যাবে।

মনে রাখবেন—

"যে নিজেকে জয় করতে পারে, সে পুরো পৃথিবীকে জয় করতে পারে।"



ভিডিওটি ভালো লাগলে Like করুন, Share করুন এবং Channel Subscribe করে Bell Icon Press করুন।

জয় শ্রীকৃষ্ণ।
হরে কৃষ্ণ।

ধন্যবাদ।

#BhagavadGita #GitaWisdom #Krishna #ShreeKrishna #GitaUpadesh #Spirituality #Motivation #BengaliMotivation #Hinduism #SanatanDharma #KrishnaQuotes #LifeLessons #GitaKnowledge #BengaliSpiritual #JoyRamProductions



Bhagavad Gita Bengali, Gita teachings, Krishna motivational speech, Gita wisdom in Bengali, Shree Krishna quotes, Bhagavad Gita life lessons, spiritual motivation Bengali,


Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on June 05, 2026 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.